প্রতি তিন বছর অন্তর সম্মেলন অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও দেড় দশকে হয়নি চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন। এর মধ্যে কয়েক দফা তারিখ ঘোষণা করা হলেও প্রতিবারই নানা কারণে তা স্থগিত করা হয়। সম্মেলন ছাড়াই ১১ বছর আগে কেন্দ্র থেকে ঘোষণা করা হয় নগর আওয়ামী লীগের কমিটি। আর সেই কমিটিতেই এখনো চলছে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম।
দলীয় সূত্র জানায়, গত মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম বিভাগের আওয়ামী লীগ নেতাদের মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সম্মেলনের মাধ্যমে নগর আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনের তাগিদ দিয়েছেন দলের মহাসচিব ওবায়দুল কাদের। কিন্তু এখন পর্যন্ত সম্মেলনের দিন-তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। ওই অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছিলেন, ‘কেন্দ্র চাইলে যেকোনো সময় সম্মেলনের তারিখ দিতে পারে। আমরা সম্মেলনের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত।’
জানতে চাইলে, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ইতিপূর্বে আমরা চট্টগ্রাম মহানগরীর ইউনিট ওয়ার্ড পর্যায়ে সম্মেলনের কার্যক্রম শুরু করেছিলাম। পরে কেন্দ্রের নির্দেশে তা স্থগিত করা হয়। এখন কেন্দ্রের নির্দেশনা পেলে আমরা আবারও সম্মেলনের কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি রয়েছি। তিনি আরও বলেন, ‘কেন্দ্র চাইলে ইউনিট, ওয়ার্ড ও থানা সম্মেলন শেষ করে নগর সম্মেলন করতে পারে অথবা শুধু নগর সম্মেলনের সিদ্ধান্ত দিতে পারে। মূলকথা হচ্ছে, আমরা কেন্দ্রের নির্দেশনার অপেক্ষায় আছি। কেন্দ্র যেভাবে বলবে, আমরা সেভাবেই পদক্ষেপ নেব।
নগর আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৬ নভেম্বর বিভিন্ন ইউনিটে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন শুরু হয়েছিল। কিন্তু দলীয় অন্তর্কোন্দলের কারণে বিভিন্ন পক্ষ থেকে নানা অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে নানা অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কেন্দ্র থেকেই ওই সময় তৃণমূলের সম্মেলন স্থগিত করা হয়। জানা যায়, মহানগরীর ৪৪ ওয়ার্ড কমিটির মধ্যে ৩ ওয়ার্ডের সম্মেলন সম্পন্ন হয়েছে। নগর সম্মেলনের আগে অবশিষ্ট ওয়ার্ড ও থানা সম্মেলন শেষ করতে হবে। এরপর আরও তিন দফা সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হলেও পরে তা স্থগিত করা হয়।
এদিকে, সম্ভাব্য সম্মেলন সামনে রেখে নগর আওয়ামী লীগের মধ্যে নানা সমীকরণ চলছে; বিশেষ করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশীরা তৃণমূল নেতৃত্ব ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। আগামী কমিটিতে সম্ভাব্য সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অন্তত এক ডজন নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন, সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন, অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন বাবুল, আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চুসহ বেশ কিছু নাম আলোচনায় রয়েছে। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আলোচনায় রয়েছে নগর যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু এমপি, নগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনি, আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুকসহ বেশ কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, ২০০৬ সালের ২৭ জুন নগরীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই সম্মেলন থেকে এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে সভাপতি ও এনামুল হক দানুকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়। ২০১৩ সালের ২২ ডিসেম্বর সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক দানু মারা যান। ওই বছর ১৪ নভেম্বর কেন্দ্র থেকে এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে সভাপতি ও আ জ ম নাছির উদ্দীনকে সাধারণ সম্পাদক করে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হলেও কোনো সম্মেলন হয়নি। ২০১৭ সালে এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুর পর সহসভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরীকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয়। ২০২৩ সালের ৬ আগস্ট তাকে ভারমুক্ত করে পুরোপুরি সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়।
