শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনীতে খাঁচাবন্দী বন্যপ্রাণী

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ১০:৫৬ পিএম

কুমিল্লা জেলা বরুড়া উপজেলায় প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনীতে খাঁচাবন্দী বন্য প্রাণী শালিক, ডাহুক ও বালিহাঁস প্রদর্শন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) বরুড়া শহিদ স্মৃতি সরকারি কলেজ মাঠে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। 

সরেজমিনে দেখা যায়, একটি স্টলে বিভিন্ন পাখি প্রদর্শনীর জন্য বসেছেন কে আই টেকনিশিয়ান লাইভ স্টক মোশাররফ হোসেন রাসেদ। এই  স্টলে শালিক, ডাহুক ও বালিহাঁস খাঁচায় বন্দী করে রাখা হয়েছে। অন্য আরেকটি স্টলে দেখা যায় টিয়া পাখি খাঁচায় বন্দী করে রাখা হয়েছে। 

শালিক, ডাহুক ও বালিহাঁস খাঁচায় বন্দী করে আনা ব্যক্তির বাড়ি বরুড়া উপজেলা দক্ষিণ শীলমুড়ি ইউনিয়ের সুন্দুরদোল গ্রামে। তার নাম শাহ আলম মিয়া। তিনি বলেন, আমি দুই বছর ধরে এই পাখিগুলো পালন করছি।  আমাদের এখানে ইনভাইট করেছে পাখিগুলো নিয়ে আসার জন্য। আনলে খরচ দিবে। আমি এনেছি, এখনও খাম দেয়নি, দিবে। 

মোশাররফ হোসেন রাশেদ বলেন,  ‘অফিস থেকে পাখি প্রদর্শন করতে নির্দেশ দিয়েছিল। আমরা ওই নির্দেশে এনেছি। কি কি পাখি আছে তা প্রদর্শন করার জন্য এনেছি। গত বছরও আনা হয়েছে। তাই সাধ্যমতো প্রদর্শন করেছি।’ 

বরুড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নাসরিন সুলতানা তনু বলেন, সৌখিন পাখি আনা যাবে কিন্তু পেট এনিমেল আনা যাবে না। প্রদর্শনীয় হবে যেনে সে নিজের ইচ্ছায় এসেছে। আমরা তাকে বলে আনি নাই।

কুমিল্লা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা চন্দন কুমার পোদ্দার বলেন, আমি যতটুকু জানি, বন্যপ্রাণী অনুমতি ছাড়া পালন করা যায় না। অনুমতি ছাড়া পালন করা দণ্ডনীয় অপরাধ। বন্যপ্রাণী বিষয়টি বন বিভাগের দায়িত্ব। আমারা বন্যপ্রাণী নিয়ে উৎসাহিত করি না। আমারা বন্যপ্রাণী নিয়ে নয়, আমরা মূলত গৃহপালিত প্রাণী নিয়ে মেলা করি। যেমন- লাভ বার্ড, কবুতর, গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি ইত্যাদি। 

বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিচালক মো. ছানাউল পাটওয়ারী বলেন, বন্যপ্রাণী কখনও খাঁচায় ডুকানো যাবে না, সেটি অপরাধ।  ডাহুক, শালিক ও টিয়া কখনও সৌখিন পাখি হতে পারে না, এইগুলো প্রাণিসম্পদের প্রাণী না, প্রাণী সম্পদের প্রাণী হলো— হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল ও ককুর-বিড়াল। বন্যপ্রাণী ধরা, মারা, খাওয়া, ক্রয়-বিক্রয়, পাচার, দখলে রাখা বা শিকার করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। বন্যপ্রাণী দেশের সম্পদ, জীবন, জীবিকা ও পবিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনি ছবি দেন, আমরা তাদের সাথে কথা বলব। 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত