শুক্রবার, ৩১ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

রাস্তায় বিদ্যুতের খুঁটি রেখেই কার্পেটিং

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:৩২ এএম

নাটোরের বাগাতিপাড়া পৌরসভায় রাস্তার মধ্যে পল্লীবিদ্যুতের খুঁটি রেখেই কার্পেটিংয়ের কাজ সম্পন্ন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এতে যানবাহন ও জনসাধারণের চলাচলে ব্যাপক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। খুঁটিটি সরানোর জন্য বিল পরিশোধ করার পরও পল্লীবিদ্যুৎ অফিস তা না সরানোয় যেকোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

জানা যায়, পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পেড়াবাড়িয়া মহল্লার সাবেক মেয়র মোশারফের বাড়ি থেকে ২ নম্বর ওয়ার্ড উত্তর মুরদাপুর রশিদের বাড়ি পর্যন্ত এ সড়কটি দিয়ে প্রতিদিনই রিকশা, ভ্যান, অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২-এর আওতায় ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাগাতিপাড়া পৌরসভার বাস্তবায়নে রাস্তাটির সংস্কারকাজ সম্পন্ন হয়েছে। ৪৬ লাখ ৮৩ হাজার ৩৬৩ টাকা চুক্তিমূল্যে কাজটি বাস্তবায়ন করছেন পৌরসভার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভাই ভাই ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী কামরুজ্জামান কোমর।

কিন্তু পেড়াবাড়িয়া মহল্লার রেজাউল করিমের বাড়ির পাশের রাস্তার মধ্যে থাকা একটি বিদ্যুতের খুঁটি না সরিয়েই পাকাকরণ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এতে ওই স্থানে রাস্তা প্রশস্ত করা হলেও কোনো কাজে আসছে না। বরং যানবাহন চলাচলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পৌরসভার পেড়াবাড়িয়া মহল্লার রেজাউল করিম বলেন, ‘রাস্তার বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণের বিষয়ে মহল্লায় চাঁদা উঠিয়ে পল্লীবিদ্যুৎ অফিসে আবেদন করা হয়েছে। খুঁটির কারণে মালবাহী গাড়ি রাস্তায় ঢুকতে পারে না। এই খুঁটির কারণে মহল্লার অধিকাংশ মানুষ বিড়ম্বনায় পড়েছে।’

ওই মহল্লার ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবু হেনা মোহাম্মদ কামরুজ্জামান (বাবু) জানান, ‘তার হাত দিয়েই পল্লীবিদ্যুৎ অফিসে নির্ধারিত ফি তিনি জমা দিয়েছেন। পল্লীবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বলছে সময় লাগবে। ঠিকাদারের কাজের সময় হলে তিনি তো তার কাজ করবেনই।’

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী কামরুজ্জামান কোমর বলেন, ‘বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থানান্তরের সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’

বাগাতিপাড়া পল্লীবিদ্যুৎ সাব-জোনাল অফিসের এ জি এম মঞ্জুর রহমান বলেন, ‘ফি পরিশোধের তিন মাস পর্যন্ত খুঁটি সরানোর জন্য তাদের হাতে সময় থাকে, তবে বিশেষ প্রয়োজনে সময়ের আগেও তারা করে থাকেন। আর এই খুঁটিটি জরুরি ভিত্তিতে সরানোর বিষয়ে কেউ কোনো যোগাযোগ করেননি।’

বাগাতিপাড়া পৌরসভার মেয়র এ কে এম শরিফুল ইসলাম লেলিন বলেন, ‘শুনেছি খুঁটিটি সরানোর জন্য নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে আবেদন করা হয়েছে। এখনো সিদ্ধান্ত আসেনি। সিদ্ধান্ত অনুমোদন হলে খুঁটিটি সরানো হবে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত