সাহেলে অস্ত পশ্চিমা সূর্যের!

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২৪, ১২:১২ এএম

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজার ও এর কয়েকটি প্রতিবেশী দেশ (সাহেল অঞ্চল) থেকে সেনা সদস্য প্রত্যাহার করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো বলেছে, ২০২৩ সালের মাঝামাঝি থেকে জান্তা শাসনে থাকা নাইজার থেকে ১০০০ মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হবে। কয়েক ধাপের এই প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শিগগিরই শুরু হবে। ওই দিন যুক্তরাষ্ট্রের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কার্ট ক্যাম্পবেলে নাইজারের প্রধানমন্ত্রী আলি মহামানে লামিন জেইনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এমন প্রতিশ্রুতি দেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, খবরটি সঠিক হলে সাহেল অঞ্চলে আরও ব্যাকফুটে গেল পশ্চিমা শক্তি। আর এটা স্পষ্ট যে, সেখানে ধীরে ধীরে চীন ও রাশিয়ার প্রভাব বাড়ারই ফল এগুলো। 

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা বলছে, পশ্চিম আফ্রিকা এলাকায় আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়তে সাহেল অঞ্চলের নাইজার, বুরকিনা ফাসো ও মালির মতো কয়েকটি দেশে সেনা ঘাঁটি গড়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তাদের সঙ্গে ছিল ইউরোপের কয়েকটি দেশের সেনারা। কিন্তু গেল কয়েক বছরের মধ্যে অঞ্চলটির বেশিরভাগ দেশে সেনা অভ্যুত্থানের পর পরিস্থিতি অনেকটাই পাল্টে গেছে।  এর ফলে একদিকে জঙ্গিরা যেমন কিছুটা কোণঠাসা হয়েছে তেমনি সাধারণ মানুষও পশ্চিমা তাঁবেদারির বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। এর ফলে শাদ, মালি, বুরকিনা ফাসো, নাইজারের মতো কয়েকটি দেশ থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিতে হচ্ছে পশ্চিমাদের। ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ইতিমধ্যে তাদের কূটনীতিক ও সেনাদের সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের খবর সামনে আসায় অনেকেই অঞ্চলটিতে পশ্চিমাদের দিন শেষের ইঙ্গিত দেখছেন।

নাইজারের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এই সংক্রান্ত খবর প্রকাশ করে বলা হয়েছে, সেনা প্রক্রিয়াটি শুরু করতে আগামী সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা নাইজার সফর করবেন। তবে আলজাজিরা বলছে, সেই প্রক্রিয়াটি কবে থেকে শুরু হবে সে নিশ্চয়তা দেয়নি কোনো পক্ষই। 

গত মার্চ মাসেই নাইজার ঘোষণা দেয় তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব ধরনের সামরিক চুক্তি বাতিল করেছে এবং যত দ্রুত সম্ভব তাদের মাটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়া দেখার জন্য অপেক্ষা করবে। এরপর দেশটির সাধারণ মানুষও সড়কে নেমে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা সদস্যদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন। কয়েক দিন আগে মালি ও বুরকিনা ফাসো থেকে ফ্রান্স ও ইউরোপীয় সেনাদের ‘বিতাড়িত’ করার পর নাইজারও একই পদক্ষেপ নেয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব ঘটনা মূলত ওই অঞ্চলে শুরু হওয়া রাশিয়ার আধিপত্য কায়েমের প্রভাব। গত মাসেই রাশিয়া বলেছে, সাহেল অঞ্চলের দেশগুলোর সেনা সদস্যদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে মস্কো। প্রয়োজনে সামরিক সরঞ্জামাদিও দেবে তারা।  আর সে কারণেই পশ্চিমাদের যত দ্রুত সম্ভব সেখানে থেকে সরাতে তৎপর দেশগুলোর জান্তা সরকার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত