দিনদুপুরে নদী চুরি

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:২৪ এএম

পঞ্চগড়ে দিনদুপুরে নদীর জমি দখল করে গড়ে তোলা হচ্ছে পুকুর। এমনকি এক্সকাভেটর যন্ত্র দিয়ে সেতুর সংযোগ সড়কসংলগ্ন বালু তুলে ব্যক্তিগত জমি ভরাট করছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী। সেইসঙ্গে নদীর জমিতে বালু ভরাট করে গড়ে তোলা হয়েছে বাঁধ। ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে নদীর গতিপথ।

নদী দখলের ঘটনাটি পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বেংহারি বনগ্রাম ইউনিয়নের পাম নদীর সেতু এলাকায়। গত দুই মাস ধরে এ অবস্থা চলতে থাকলেও দখল বন্ধ করতে পারেনি কেউ। এতে করে পাম নদীটি এখন নালায় পরিণত হয়েছে। বাঁধ দেওয়ার কারণে বর্ষায় ভাঙনের শঙ্কায় পড়েছে নদী পাড়ের অর্ধশত পরিবারের ভিটেবাড়ি।

এখন পাম সেতুর সামনে নদীর বুকে শোভা পাচ্ছে প্রভাবশালীর বিশালায়তনের পুকুর। পানি প্রবাহের সরু অংশটুকু যাচ্ছে এখন ব্যক্তি মালিকানা জমির ওপর দিয়ে। বর্ষায় ভাঙনের শঙ্কায় স্থানীয় অর্ধশত পরিবারের কাটছে দুশ্চিন্তায় দিন। এখনো দিনদুপুরে বেশ দাপটের সঙ্গেই এক্সকাভেটর দিয়ে নদীর জমিতে পুকুরের পরিধি বাড়াচ্ছেন ওই প্রভাবশালী। দখল আর গতি পরিবর্তন করায় চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে পঞ্চগড়ের ছবির মতো সুন্দর পাম নদীটি।

সরেজমিনে দেখা যায়, পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বেংহারি বনগ্রাম ইউনিয়নের পামেরপাড়া এলাকায় চলছে স্থানীয় প্রভাবশালী জিয়াউর রহমান জিয়ার এমন রাজত্ব। দিনদুপুরে এক্সকাভেটর দিয়ে বাড়াচ্ছেন পুকুরের পরিধি। দখল পাকাপোক্ত করতে শক্ত করে বাঁধা হচ্ছে পুকুরের পাড়। পাম সেতুর পিলার ঘেঁষে খনন করায় ঝুঁকিতে পড়েছে সেতুটিও। অন্যদিকে নদীর গতিপথ পরিবর্তন করে দেওয়ায় নিম্ন আয়ের অন্তত ৫০টি পরিবারের ঘরবাড়ি বর্ষায় ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। গত বছরের ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন রয়েছে গেছে এখনো। দখলদার প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয়রা কোনো প্রতিবাদ করার সাহস পান না। দিনদুপুরে এমন কাজ চললেও নীরব প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, পাম নদীটি পঞ্চগড় জেলা সদরের ধাক্কামারা এলাকার নিম্নাঞ্চল থেকে উৎপত্তি হয়ে বেংহারি বনগ্রাম ইউনিয়নের গড়েরডাঙ্গা দিয়ে সোনাচান্দি এলাকায় করতোয়ার সঙ্গে মিলিত হয়েছে। নদীটির দৈর্ঘ্য সাড়ে ৪ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ২০ মিটার। বর্তমানে পামেরপাড় নামে যে স্থানে পুকুর খনন করা হয়েছে নদীটি গতিপথ ছিল তার মাঝ বরাবর। ছিল প্রশস্ততাও। কিন্তু বর্তমানে নদীর স্থানে পুকুর করে নদীর সরু প্রবাহ পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে পশ্চিমের জনবসতির পাশ দিয়ে। ওই এলাকার আসাদুল ইসলাম বলেন, নদীটি আগে জিয়াদের বাড়ির পাশ দিয়ে ছিল। এখন নদীর মধ্যে পুকুর করে তারা সরু গতিপথ করে দিয়েছে আমাদের বাড়ির পাশ দিয়ে। গত বছর বর্ষায় আমাদের এপাশে ভাঙন শুরু হয়েছে। এবার বর্ষায় আরও বেশি ভাঙন হবে।

ওই এলাকার বৃদ্ধ রুপবান বেগম বলেন, ছোটবেলা থেকেই দেখেছি নদীটি ছিল, বর্তমানে যেখানে পুকুর করেছে তার মাঝ বরাবর।

অভিযুক্ত প্রভাবশালী দখলদার জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, নদীর জমি যেটি আপনারা বলছেন সেটি অর্পিত সম্পত্তি। আদালতের মাধ্যমে সেটি আমি পেয়েছি। আমার জমিতেই মাছ চাষ করার জন্য পাড়সহ পুকুর করেছি। নদী নদীর জায়গায় আছে।

পঞ্চগড় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আশুতোষ বর্মণ বলেন, বিষয়টি পানি ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় উত্থাপন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহরিয়ার নজির বলেন, তহশিলদারের মাধ্যমে পুকুর খনন বন্ধ করতে বলা হয়েছে। পুকুর খনন ও মাটি ভরাটের কাজ বন্ধ না হলে অতি দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত