চলতি বছর বৈশাখের শুরু থেকেই তীব্র তাপপ্রবাহে পুড়ছে দেশের বড় একটি অংশের জনজীবন। চলমান তাপপ্রবাহের কারণে অনেক মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছে। ফলে ভিড় বাড়ছে হাসপাতালে। রোগী বাড়ার পাশাপাশি মৃত্যুর সংখ্যাও বেড়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, হাসপাতালে আসা রোগীদের বেশিরভাগই জ¦র, সর্দি-কাশি, হিটস্ট্রোক, পেটের সমস্যা, টাইফয়েড ও পানিবাহিত হেপাটাইটিসে ভুগছে। তীব্র গরম, আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার ও পানি খাওয়ার কারণেই রোগ বাড়ছে।
এদিকে হাসপাতালে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা জানান, হাসপাতালে শয্যা সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। রোগী নিয়ে ওয়ার্ডের মেঝে বা বারান্দায় পড়ে থাকতে হচ্ছে।
তীব্র তাপপ্রবাহে যশোরে হার্ট অ্যার্টাক ও স্ট্রোকে আক্রান্ত্রের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। প্রতিকূল পরিস্থিতি যত দীর্ঘ হচ্ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা তত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ৩ দিনে ৫০০ রোগী যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে আসে। এর ভেতর ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, চলমান পরিস্থিতি থেকে নিজেকে রক্ষা করতে সতর্কতার কোনো বিকল্প নেই। প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করা এবং যতদূর সম্ভব ঘরে বা গাছের ছায়ায় ঠাণ্ডা পরিবেশে অবস্থান করতে হবে।
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিচিত্রা মল্লিক বলেন, ‘তীব্র তাপপ্রবাহে হার্ট অ্যাটার্কে ও স্ট্রোকে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে গেছে। মৃত্যু হচ্ছে অনেকের। ১৭ থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত জরুরি বিভাগে এ ধরনের ৮ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে আনার সময় পথেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।’
১৭ এপ্রিল থেকে যশোরে শুরু হয়েছে তীব্র তাপপ্রবাহ। তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠে গেছে; যা মানুষ ও প্রাণিকুলের জন্য বিপদসংকেত। হাসপাতালের মেডিসিন, সিসিইউসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিদ্যমান শয্যার দুই থেকে তিন গুণ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। শয্যা না পেয়ে রোগীরা মেঝেতে প্রচণ্ড গরমের ভেতর ঠাসাঠাসি করে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ওয়ার্ডে রোগীর ভিড়ে অবর্ণনীয় পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ২৮ শয্যার করোনারি কেয়ার ইউনিটে ১৭ থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত ৮১ জন রোগী ভর্তি হয়। এর ভেতর ৪ জন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। শয্যা অনুপাতে সিসিইউতে রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণ। পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে তিন দিনে ৯১ জন রোগী ভর্তি হয়। এই ওয়ার্ডে মৃত্যুবরণ করেছে দুই রোগী। ২৬ শয্যার পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে আগের মিলে মোট রোগী ছিল ৮৬ জন। মহিলা মেডিসিন দুটি ওয়ার্ডে ভর্তি হয় ১৭৪ রোগী। ২১ শয্যার এই দুটি ওয়ার্ডে রোগীর সংখ্যা ছিল ৭ গুণ।
এ ছাড়া ডায়রিয়া ওয়ার্ডে এ সময় ৩৮ জন ও শিশু ওয়ার্ডে ৭৬ জন রোগী ভর্তি হয়। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ৫টি শয্যার বিপরীতে ৫ গুণের বেশি ২৭ জন ও শিশু ওয়ার্ডে ২৪টি শয্যার বিপরীতে ৩ গুণ রোগী ভর্তি ছিল।
বগুড়ার হাসপাতালগুলোতেও রোগী বেড়েছে, বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধের সংখ্যা বেশি। সর্দিজ্বর ও নিউমোনিয়াসহ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তারা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। বহির্বিভাগেও রোগী বেড়েছে বলে জানা গেছে। ঈদের পর থেকেই বগুড়া সরকারি মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল ও শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে রোগী বেড়েছে, বহির্বিভাগে রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে।
বগুড়া শজিমেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. ওয়াদুদ জানান, ঈদের পর থেকেই হাসপাতালে বহির্বিভাগ ও ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়েছে।
