৫ বছর বয়সী কন্যা আফরিন ও ১২ বছরের ছেলে আল আমিন মোবাইলে গান শুনছিল। এতে মা মর্জিনা বেগম (৩৫) বিরক্ত হয়ে দুই সন্তানকে বকাবকি করেন।
এ সময় বাবা শহিদুল সন্তানদের বকা দিতে নিষেধ করেন। এই নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর শুরু হয় কথাকাটাকাটি। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে শহিদুল স্ত্রী ও কন্যাকে পিটিয়ে হত্যা করেন। গুরুতর আহত করেন ছেলেকে। সামান্য কলহে শেষ হয়ে যায় একটি পরিবারের বন্ধন।
গত শনিবার সন্ধ্যায় দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় হেয়াতপুর চিনিরচড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ স্বামী শহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে। আহত ছেলেকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল রবিবার দুপুরে দিনাজপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার শাহ্ ইফতেখার আহমেদ।
পুলিশ জানিয়েছে, গত শনিবার রাতে নবাবগঞ্জ উপজেলার হেয়াতপুর চিনিরচড়া গ্রামের বাসায় স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেকে ধারালো অস্ত্র গিয়ে আঘাত করেন শহিদুল। এতে ঘটনাস্থলে স্ত্রী মর্জিনা বেগম মারা যান। পরে গুরুতর আহত মেয়ে আফরিন ও ছেলে আল আমিনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রবিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আফরিন মারা যায়। এই ঘটনায় রাতেই স্বামী শহিদুল ইসলামকে আটক করা হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার জানান, শহিদুল ইসলাম পেশায় কাঠুরিয়া। প্রতিদিনের মতো শনিবার সকাল ৮টায় তিনি কাঠ কাটার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান এবং সন্ধ্যার আগে বাড়িতে ফেরেন। বাড়িতে এসে মুড়ি ও মিষ্টি খেয়ে দাউদপুর বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার আগে মর্জিনা বেগম তার সন্তানদের মোবাইলে গান শোনা নিয়ে বিরক্ত হয়ে গালিগালাজ করতে থাকলে শহীদুল ইসলাম বাধা দেন।
কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে রান্নার কাজে ব্যবহৃত বাঁশের মোটা খাঠিয়া হাতে নিয়ে মর্জিনা বেগমের মাথার পেছন দিকে সজোরে আঘাত করেন। এতে মর্জিনা বেগম মাটিতে পড়ে গেলে সন্তানরা এগিয়ে আসে। এ সময় ওই বাঁশের খাঠিয়া দিয়ে প্রথমে তার ৫ বছরের মেয়ে আফরিন জান্নাতের মাথায় আঘাত করেন এবং পরে ১২ বছর বয়সী ছেলে আল আমিনের মাথায় সজোরে আঘাত করেন। পরে তারা রক্তাক্ত জখম হয়ে আঙিনায় পড়ে গেলে শহীদুল ইসলাম তার ব্যবহৃত বাইসাইকেল নিয়ে দাউদপুর বাজারে চলে যান।
রাত ৯টার দিকে শহীদুল ইসলাম ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য বাড়িতে এসে তার স্ত্রী ও সন্তানদের কে বা কারা গুরুতর রক্তাক্ত জখম করেছে মর্মে ডাক-চিৎকার করতে থাকেন।
পরে এলাকাবাসী এসে স্ত্রী মর্জিনা বেগমকে মৃত অবস্থায় পায় এবং দুই সন্তানকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে তাদের রাতেই রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মেয়ে আফরিন জান্নাতের মৃত্যু হয়।
