উপজেলা পরিষদ নির্বাচন শতভাগ অবাধ ও নিরপেক্ষ করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এ জন্য দলের মনোনীত প্রার্থী বা প্রতীক না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। এ ছাড়া মন্ত্রী ও এমপিদের প্রভাব বিস্তার না করার নির্দেশনার পাশাপাশি তাদের আত্মীয়দের প্রার্থী না করতে বলা হয়েছে। কিন্তু দলের এসব সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে পটুয়াখালীর বাউফলে ঈদ পুনর্মিলনীর নামে মাঠে নেমেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) আ স ম ফিরোজ। দলীয় নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান দিচ্ছেন দলের নির্ধারিত প্যানেলকে। এতে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়া নিয়ে আশঙ্কা করছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা।
জানা গেছে, দ্বিতীয় ধাপে আগামী ২১ মে বাউফল উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে নিজের পছন্দের প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা শুরু করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আ স ম ফিরোজ। এ নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলের কোনো এমপি হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না। দলের এই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে ইতিমধ্যেই নিজের ঘনিষ্ঠজনদের নিয়ে একটি প্যানেল ঘোষণা দিয়েছেন আ স ম ফিরোজ। ১৭ এপ্রিল উপজেলার নওমালা ইউনিয়নের নগরের হাট এলাকায় ঈদ পুনর্মিলনীর নামে আ স ম ফিরোজ তার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান মোসারেফ হোসেন খানকে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করার সঙ্গে সঙ্গে হট্টগোল শুরু হয়। উপস্থিত নেতাকর্মীরা ‘ভুয়া ভুয়া’, ‘মানি না মানি না’ স্লোগান দিতে থাকে। এ সময় আ স ম ফিরোজ বক্তব্য দিতে গেলে মাইকের মাউথ স্পিকারের তার কেটে দিয়ে বিক্ষোভ করে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা।
নেতাকর্মীদের অভিযোগ, সব সময় ত্যাগীদের বাদ দিয়ে কাছের লোককে চেয়ারে বসানোর অভ্যাসের কারণে দলের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে গ্রুপিংয়ের। ইতিমধ্যে বাউফল আওয়ামী লীগ ৩ ভাগে বিভক্ত। তারা এই একরোখা সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ।
সংসদ সদস্য আ স ম ফিরোজ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান মোসারেফ হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে তার সাবেক পিএস আনিচুর রহমান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মরিয়ম জাহান নিশুকে সমর্থন দিয়েছেন এবং তাদের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। অন্যদিকে চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেব হাওলাদার এবং ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ রাহাত জামশেদের পক্ষে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র জিয়াউল হক জুয়েল।
বর্তমান চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেব হাওলাদার বলেন, ‘এমপি ফিরোজ প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছেন। নির্বাচন কমিশন ও সরকার এ বিষয়ে পদক্ষেপ না নিলে সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া সম্ভব নয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) সংসদ সদস্যের পক্ষে কাজ করছেন, তারা উপজেলায় কর্মরত থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না।’
এ বিষয়ে আ স ম ফিরোজ ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে লেখালেখি তো চলতেই আছে। তাতে আমার কিছু আসে-যায়? আপনারা যা ইচ্ছা লিখে দেন। আপনার মন যা চায় আমার সম্পর্কে লিখে দেন। আমি কাউকে সমর্থন দিইনি। তৃণমূল যাকে সমর্থন দিয়েছে, আমিও তাকে সমর্থন দিয়ে এসেছি। আমি এখন ঢাকায় আছি।’
