গরমে প্রাণিকুলে হাঁসফাঁস

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:৩৬ এএম

দেশজুড়ে বয়ে চলা তাপপ্রবাহে এখন অতিষ্ঠ জনজীবন। প্রচন্ড গরমে প্রাণিকুলের হাঁসফাঁস অবস্থা। ঘরে-বাইরে কোথাও স্বস্তি নেই। প্রখর রোদে পথঘাট সবকিছুই উত্তপ্ত। প্রখর তাপের মধ্যেই নারায়ণগঞ্জে নিধন করা হচ্ছে গাছ। পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে কড়া রোদ, উষ্ণ বাতাস আর তীব্র গরমে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। কুড়িগ্রামে বইছে মৃদু তাপপ্রবাহ। অপরদিকে, তাপপ্রবাহের কারণে সারা দেশের মতো ময়মনসিংহে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও রমরমা চলছে কোচিং সেন্টারগুলো। প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর :

নারায়ণগঞ্জে শতাধিক বৃক্ষনিধন : নারায়ণগঞ্জে গরমের কারণে বাড়ছে হিট স্ট্রোকের মতো স্বাস্থ্যঝুঁকি। সম্প্রতি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য সরকারি দুটি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নির্বিচারে কাটা হয়েছে কয়েকশ গাছ। এ নিয়ে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর প্রতিবাদ কোনো কাজে আসেনি। এ ছাড়া বন্দরে শীতলক্ষ্যাতীরের বিপুলসংখ্যক গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে রাতের অন্ধকারে।

জানা গেছে, উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য নারায়ণগঞ্জ শহরের শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে কয়েক ডজন গাছ কেটে ফেলেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। নির্বিচারে গাছ কাটার এই কার্যক্রমকে ‘গণহত্যার’ সঙ্গে তুলনা করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীরা। তারপরও বন্ধ হয়নি বৃক্ষনিধন।

বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দর সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকায় একটি মাল্টিপারপাস টার্মিনাল নির্মাণের প্রকল্প নিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ। সেখানে থাকবে আধুনিক রেস্ট হাউজ, পার্কিং প্লেস। এই প্রকল্পের নির্মাণকাজের জন্য গাছ কাটা হচ্ছে।

অপরদিকে, কয়েক মাস আগে বন্দরের মদনগঞ্জ-মদনপুর সড়কের দুই পাশে বড় বড় গাছ কাটা হয়েছে রাস্তার কাজের জন্য। সড়ক ও জনপথ বিভাগের এ সড়কটির দুপাশে বিপুল পরিমাণ গাছ থাকায় ছায়াঘেরা পরিবেশ ছিল। তা আর এখন নেই। রাস্তার উন্নয়নকাজের পর পুনরায় সড়কের দুপাশে আগের মতো গাছ লাগানোর কথা থাকলেও তা করা হয়নি। বর্তমানে এসব এলাকায় তীব্র দাবদাহ চলছে। গরমে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী গাছ কাটার ফল হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে।

এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের নির্বাহী প্রকৌশলী নিজাম উদ্দিন পাঠান বলেন, ‘গাছগুলো বিআইডব্লিউটিএর জমিতেই ছিল। নিয়ম মেনে আমরা বন বিভাগ ও বিআইডব্লিউটিএর অনুমতি নিয়ে গাছ কেটেছি।’

রাঙ্গাবালীতে থমকে গেছে জনজীবন : দাবদাহে থমকে গেছে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার মানুষের জনজীবন। এরপরও যারা জীবিকার তাগিদে ঘরের বাইরে বের হচ্ছে, তাদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তীব্র গরমের। বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষরা। পেটের দায়ে বাধ্য হয়ে রোদ-গরম উপেক্ষা করে কাজ করতে হচ্ছে তাদের।

রাঙ্গাবালীতে কদিন ধরে ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ওঠানামা করছে। পটুয়াখালী সদর আবহাওয়া অফিসের (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা মাহবুবা সুখি দেশ রূপান্তরকে বলেন, এই তাপপ্রবাহ আরও তিন থেকে চার দিন থাকবে।

কুড়িগ্রামে মৃদ্যু তাপপ্রবাহ : কুড়িগ্রাম জেলার ওপর দিয়ে বইছে মৃদু তাপপ্রবাহ। কড়া রোদ ও তীব্র গরমে কাহিল হয়ে পড়েছে জেলার স্বাভাবিক জনজীবন। এতে সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছে শ্রমজীবী ও দিনমজুর শ্রেণির মানুষজন। প্রচন্ড রোদ ও ভ্যাপসা গরমে কাজে যেতে পারছেন না অনেকে। ছোট নদী ও খাল-বিলগুলো শুকিয়ে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন মৎস্যজীবীরা। অতিজরুরি প্রযোজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হচ্ছে না মানুষজন। তাপপ্রবাহে মানুষের পাশাপাশি দুর্ভোগে আছে গবাদিপশু-পাখিরাও।

ময়মনসিংহে রমরমা কোচিং বাণিজ্য : তাপপ্রবাহের কারণে সারা দেশের মতো ময়মনসিংহে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও চুটিয়ে চলছে কোচিং সেন্টারগুলো। এতে শিক্ষার্থীরা অস্বস্তি প্রকাশ করলেও শিক্ষক এবং অভিভাবকদের কারণে কোচিংয়ে আসতে বাধ্য হচ্ছে বলে জানিয়েছেন।

গতকাল রবিবার সকালে নগরীর বাউন্ডারি রোড, নাহা রোড, কলেজ রোড, জিলা স্কুল রোডসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় চার শতাধিক কোচিং সেন্টার চালু ছিল। প্রচন্ড গরমের মধ্যেই এসব কোচিং ও প্রাইভেট সেন্টারে শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি করে বসিয়ে করানো হয় ক্লাস।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত