সাবেক আইজিপি বেনজীরের সম্পদ অনুসন্ধানে দুদক

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:৫৭ এএম

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তিন সদস্যের একটি টিম গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক নিয়ামুল হাসান গাজী এবং জয়নাল আবেদীন। গতকাল সোমবার বিকেলে দুদক সচিব খোরশেদা ইয়াসমিন এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

এদিকে পুলিশের মহাপরিদর্শক পদ থেকে অবসরে যাওয়া বেনজীর আহমেদের অনিয়ম-দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার অনুসন্ধানে দুদকের প্রতি নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। গত রবিবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট করেন আইনজীবী সালাহ উদ্দিন রিগ্যান।

দুদক সচিব বলেন, গত ৩১ মার্চ বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরবর্তীকালে আরও কিছু গণমাধ্যমে এই সংবাদ প্রকাশিত হয়। দুদক এসব অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা ২০০৭-এর ৩ নম্বর বিধির আওতায় কার্যক্রম শুরু করা হয়। গত ১৮ এপ্রিল কমিশন সভায় সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের অনুমোদন দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি মোতাবেক নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে অনুসন্ধান সমাপ্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বেনজীরের অনিয়ম অনুসন্ধানে দুদকের প্রতি নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন : বেনজীর আহমেদের অনিয়ম-দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার অনুসন্ধানে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রতি নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। এতে বেনজীরের অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অনুসন্ধানে দুদকের নিষ্ক্রিয়তাকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট একটি বেঞ্চে আবেদনটির ওপর শুনানি হতে পারে বলে জানিয়েছেন রিটকারীর আইনজীবী মনোজ কুমার ভৌমিক।

তিনি জানান, সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অনুসন্ধান করতে দুদক চেয়ারম্যানের উদ্দেশে চিঠি পাঠানো হয়। কিন্তু কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় গত ১৮ এপ্রিল আইনি নোটিস পাঠানো হয়। নোটিসের জবাব না পাওয়ায় এ রিট আবেদনটি করা হয় বলে জানান রিটকারীর আইনজীবী।

অ্যাডভোকেট মনোজ দেশ রূপান্তরকে বলেন, রিট আবেদনে বেনজীরের বিরুদ্ধে দুদককে তদন্তের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, অনুসন্ধানে তাদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে রুলের আরজি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বেনজীর আহমেদের অনিয়ম নিয়ে দুদককে অনুসন্ধানের নির্দেশনা দিতে আরজি জানিয়েছেন রিটকারী আইনজীবী। তিনি বলেন, ‘বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী এই প্রতিবেদনে সুস্পষ্টভাবে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও কমিশন কোনো উদ্যোগ নেয়নি। অথচ দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় কমিশন স্ব-উদ্যোগেই অনুসন্ধান কিংবা তদন্ত করতে পারে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে দুদক ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বলে আমরা মনে করি। বিস্তারিত রিট আবেদনের শুনানিতে তুলে ধরব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত