রাজধানীর তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা মোড় থেকে কারওয়ান বাজার রেলক্রসিং পর্যন্ত সারি সারি লেগুনা, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান দাঁড়িয়ে। প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের নামে সড়কটি যেন ট্রাকস্ট্যান্ড। যদিও ওই সড়ক দখলমুক্ত করতে বছরের পর বছর ধরে নানা পদক্ষেপ নিতে দেখা গেছে।
তবুও সড়ক ছাড়েনি মালবাহী পরিবহনগুলো। এই পরিস্থিতিতে নতুন উদ্যোগের কথা জানাচ্ছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। তাদের পরিকল্পনায় রয়েছে বহুতল টার্মিনাল নির্মাণের মাধ্যমে পর্যাপ্ত ট্রাক পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ওই পরিকল্পনায় রয়েছে একসঙ্গে দেড় হাজার ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান রাখা যাবে এমন একটি টার্মিনাল। বিটিআরসির ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অব্যবহৃত সাড়ে পাঁচ একর জায়গা পেয়েছে। তেজগাঁওয়ে মেয়র আনিসুল হক সড়কের দক্ষিণ পাশে ও তেজগাঁও রেলক্রসিংয়ের পূর্বদিকে এ জমির অবস্থান। আগামী জুলাইয়ের মধ্যে এটির কাজ শুরুর লক্ষ্য ধরে পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হবে।
সম্প্রতি রাজধানীর ব্যস্ততম শিল্প এলাকার ওই সড়কে গিয়ে দেখা গেছে, সারি সারি লেগুনা, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান দাঁড়িয়ে আছে। এতে সংকুচিত হয়ে পড়া সড়কে ভোগান্তিতে পড়ছেন যাতায়াতকারীরা। কখনো এক লেন ধরেও চলতে পারছে না পরিবহনগুলো। ফলে দীর্ঘ সারি থেকে বেঁধে যাচ্ছে যানজট।
নিকেতন এলাকার বাসিন্দা হাবিবুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, কারওয়ান বাজারে অফিস হওয়ায় এই পথ দিয়ে যেতে হয়। সব সময় এই সড়ক ট্রাক দিয়ে ঠাসা থাকে। গাড়ি যেতে না পারায় জ্যাম লেগে যায় অনেক সময়। কখনো কখনো গাদাগাদি করে ট্রাক রাখায় রিকশাও ঠিকমতো চলতে পারে না।
সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একাধিক পরিবহনের চালক এ বিষয়ে কথা বলতে আগ্রহ দেখাননি। পরিচয় না দিয়ে এক চালক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ট্রাকস্ট্যান্ডে রাখলে চাঁদা দিতে হয়। এখানে (সড়কে) গাড়ি রাখলে কোনো চাঁদা লাগে না। এজন্য ইচ্ছে করেই এখানে রেখেছি। যদিও পুলিশ এলে জরিমানা দিতে হয়। তারা (ট্রাফিক পুলিশ) এলে সব সময় সকালের দিকে আসে, এজন্য অন্য সময় এখানে (সড়কে) কোনো ঝামেলা নেই।
বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান ড্রাইভার্স ইউনিয়নের সভাপতি তালুকদার মো. মনির দেশ রূপান্তরকে বলেন, কিছু চালক ইচ্ছেকৃত ট্রাক সড়কে রাখেন, তবে এ সংখ্যা একেবারেই কম। পার্কিংয়ের পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়েই কিন্তু তারা এভাবে বাইরে রাখেন। মালিকরা কখনোই রাস্তায় গাড়ি রাখতে চান না। বাইরে থাকলে গাড়ির ব্যাটারি, চাকা, তেল চুরি হয়ে যায়। বাইরে রাখা ট্রাকগুলোকে পুলিশ জরিমানাও করে। জায়গা হলে বাইরে রাখার আর কোনো সুযোগ নেই।
ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও ট্রাফিক জোন সহকারী পুলিশ কমিশনার স্নেহাশীষ কুমার দাস দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে আমাদের সদস্যরা ট্রাকগুলো সরিয়ে দিয়ে আসেন। তারা চলে যাওয়ার পর ট্রাকগুলো আবার ওই সড়কে গিয়ে দাঁড়ায়। আমাদের পক্ষে সার্বক্ষণিক ওই সড়কে অবস্থান করা সম্ভব না। ওই সড়ক দখলমুক্ত রাখা দীর্ঘদিনের সমস্যা। এটার স্থায়ী সমাধানে সিটি করপোরেশন পরিকল্পনা করেছে। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হওয়ার আগ পর্যন্ত ওই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে চাই।’
ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান ড্রাইভার্স ইউনিয়নের তালুকদার মো. মনির বলেন, ‘এটা আমাদের দীর্ঘদিনের সমস্যা। বহুবার আলোচনার পরও সমাধান মেলেনি। সবশেষ সিটি করপোরেশন যে পরিকল্পনা জানিয়েছে, সে অনুযায়ী পার্কিংয়ের ব্যবস্থা হলেও কিন্তু ঝামেলাটা শেষ হয়ে যায়। সেটা কত দিন পর কীভাবে হবে তার কিছুই জানি না আমরা।’
