পূর্ব ইউরোপে ন্যাটোর পরমাণু অস্ত্র!

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৫:৩২ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ন্যাটো সামরিক জোটকে পূর্বদিকে সম্প্রসারণ করা নিয়ে বহু আগে থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছিল রাশিয়া। ইউরোপের পূর্বদিকের দেশগুলোকে জোটভুক্তির প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইউক্রেনকে টানার প্রচেষ্টার কারণে রাশিয়া এখন যুদ্ধে অবতীর্ণ। কিয়েভ ও মস্কোর যুদ্ধ দুই বছর পার হওয়ার পর ইউক্রেন সীমান্তবর্তী পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেজ ডুডার একটি মন্তব্যে সংঘাতের আঁচ বাড়ার শঙ্কা প্রবল হয়েছে। ডুডা একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, ন্যাটো জোট চাইলে, তার দেশ পরমাণু অস্ত্রের ঘাঁটি হতে প্রস্তুত।

২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক আগ্রাসন শুরুর পর থেকে পোল্যান্ড ইউক্রেনীয় শরণার্থী গ্রহণ থেকে শুরু করে যুদ্ধে কিয়েভের পক্ষে জোরালোভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে। যুদ্ধের মধ্যে রাশিয়া তার ট্যাকটিক্যাল ‘নিউক্লিয়ার উইপন তথা কৌশলগত পরমাণু অস্ত্র (টিএনডব্লিউ)’ সোভিয়েত ইউনিয়ন পতনের পর প্রথমবারের মতো বেলারুশে মোতায়েন করে। এ ছাড়া রুশ শহর কালিনিনগ্রাদেও পরমাণু অস্ত্রশস্ত্রের মজুদ বাড়িয়েছে মস্কো। পোল্যান্ডের সঙ্গে বেলারুশ এবং কালিনিগ্রাদ ছিটমহলের সীমানা ভাগাভাগি করে পোল্যান্ড।

গতকাল সোমবার একটি সাক্ষাৎকারে আন্দ্রেজ ডুডা বলেন, ‘আমাদের মিত্ররা ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় ফ্লাংকে শক্তিবৃদ্ধি করতে পরমাণু অস্ত্র ভাগাভাগির মূূলনীতি মোতাবেক আমাদের ভূমিতে যদি পরমাণু অস্ত্র মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয়, আমরা সেই ঘাঁটির জন্য প্রস্তুত।’

তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, ডুডা সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষ করার পর ওই অবস্থান ব্যক্ত করলেন। এর আগে গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে ওয়াশিংটন ডিসিতে তার সাক্ষাৎ হয়। ডুডা গতকাল বলেন, ‘এ নিয়ে আমি অনেকবার কথা বলেছি। আমাকে যখনই জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, আমি আমাদের প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছি।’ তিনি অভিযোগ করেন, রাশিয়া ক্রমেই কালিনিগ্রাদকে সামরিকায়ন করছে। সম্প্রতি তারা বেলারুশেও পরমাণু অস্ত্র মোতায়েন করেছে।

গত বছরের জুনে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন বেলারুশে পরমাণু অস্ত্র মোতায়েনের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনার পর লিথুয়ানিয়ায় ন্যাটো সম্মেলনে জোটের পরমাণু প্রতিরক্ষার দৃঢ় করার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করা হয়। অর্থাৎ পোল্যান্ডের দিক থেকে ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় ফ্লাংকে পরমাণু অস্ত্র মোতায়েনের বিষয়টি উত্থাপন করা মোটেও ওয়ারশের একক কোনো অবস্থান নয়। ন্যাটো জোট তো বটেই, এ অবস্থানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব মনোভাবও পরিষ্কার হলো বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। শেষ পর্যন্ত এ ধরনের ঘটনা ঘটলে তা গোটা ইউরোপ এবং বিশ্বের জন্য বিপর্যয়কর হবে। পূর্ব ইউরোপ তখন বৈশি^ক পরমাণু শক্তিধরদের একাংশের রণক্ষেত্র হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে যাবে, যা যেকোনো মুহূর্তে বড় সংঘাতের উপলক্ষ হতে পারে। হতে পারে পরমাণু সংঘাতেরও কেন্দ্রবিন্দু।

পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট যখন ওই কথা বলেন, তখন রাশিয়ার দিক থেকেও হুঁশিয়ারির বার্তা পাওয়া গেছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে পরমাণু সংঘাতের আঁচ দেখছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের তরফ থেকে ইউক্রেনকে দেওয়া সামরিক সহায়তা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে লাভরভ গতকাল বলেন, ইউক্রেন বিশে^র বড় বড় পরমাণু শক্তিধরের মুখোমুখি সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যা হতে পারে বিপর্যয়কর। ১৯৮৯ সালে বার্লিন ওয়াল পতনের প্রেক্ষাপটে ন্যাটো সম্প্রসারণের পর এখন যদি জোটের পরমাণু অস্ত্র ভা-ার ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে সেটি হবে বিশ্বের জন্য ব্যাপক ঝুঁকির।

অস্ত্রবিস্তার রোধসংক্রান্ত একটি সম্মেলনে মস্কোয় লাভরভ ওই কথা বলেন। এতে তিনি ন্যাটোর অস্ত্র সম্প্রসারণ নীতি নিয়েও কথা বলেন, যা পোল্যান্ড প্রেসিডেন্টের অভিলাষ। লাভরভ বলেন, ‘পশ্চিমারা বৈশি^ক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা গড়ছে প্রতিদ্বন্দ্বীকে ঘায়েল করতে, ইউরোপে পরমাণু অস্ত্রের ঘাঁটি গড়ছে, গোটা বিশ্বের নানা জায়গায় মধ্য ও স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপন করছে এবং মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের স্বপ্ন দেখছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত