ভারতের লোকসভা নির্বাচনের প্রথম দফা গত ১৯ এপ্রিল শেষ হওয়ার পর আরও বাকি ছয় দফা। এর মধ্যে বড় সংকটে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে ক্ষমতাসীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। গতকাল সোমবার রাজ্যের স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) ২০১৬ সালের নিয়োগপ্রক্রিয়া বাতিল করে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষকও অশিক্ষক কর্মচারীর চাকরি বাতিল করেন কলকাতা হাইকোর্ট। এখন তদন্তের মুখে পড়তে পারেন মমতা নিজেও।
কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি মহম্মদ শাব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল এসএসসি দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা করে বলেন, ক্যানসার আক্রান্ত একজন ছাড়া ২৫ হাজার ৭৫৩ জনের চাকরি বাতিল। প্যানেলের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যারা চাকরি পেয়েছেন, তাদের ১২ শতাংশ সুদসহ বেতন ফেরত দিতে হবে।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, এই মামলার তদন্ত চালিয়ে যেতে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার (সিবিআই) প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়, দুর্নীতি ঢাকতে মন্ত্রিসভায় অতিরিক্ত শূন্যপদ তৈরি করার ঘটনায় সন্দেহভাজনদের হেফাজতে নিয়ে যেন জিজ্ঞাসাবাদ করে তারা।
আদালতের নির্দেশের ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ আগের মেয়াদের সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যরা বিপাকে পড়তে পারেন। আদালত জানিয়েছেন, অতিরিক্ত পদ তৈরি করে অবৈধ নিয়োগগুলোকে স্বীকৃতি দিতে রাজ্য সরকারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা একাধিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
২০১৬ সালের নিয়োগপ্রক্রিয়ার সময় শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন ব্রাত্য বসু, যিনি একজন প্রখ্যাত নাট্যকার। আদালতের নির্দেশ মোতাবেক তিনিও তদন্তের আওতায় পড়তে পারেন।
গত কয়েক বছরে বাংলার রাজনীতিতে আলোড়ন ফেলে দিয়েছে এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলা। এই মামলায় প্রথমে হাই কোর্টের তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন, যিনি এখন বিজেপিতে যোগ দিয়ে প্রার্থী হয়েছেন। ডিভিশন বেঞ্চেও সেই নির্দেশ বহাল থাকল।
এদিকে রায়ের পর ফুঁসে উঠেছেন মমতা। নির্বাচনী জনসভা থেকে চাকরিহারাদের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, আদালত বিজেপির হয়ে কাজ করছে। জেলে গেলেও তিনি চাকরিহারাদের পাশে থাকবেন।
