উপজেলা নির্বাচন

‘ভোট কী জিনিস ভুলতেই বসেছে রাউজানবাসী’

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:২৬ পিএম

আসন্ন ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে ভোট হওয়ার কথা ছিল চট্টগ্রামের রাউজানে। তবে গতবারের মতো এবারও উপজেলা নির্বাচনে ভোট হচ্ছে না সেখানে। স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর ইশারায় এবারও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হচ্ছেন চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান।

প্রতিটি পদে এবারও একজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন রাউজান উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রকর চাকমা। গতবারের মতো এবারও বিনা ভোটে উপজেলা চেয়ারম্যান হচ্ছেন এ কে এম এহেছানুল হায়দর চৌধুরী বাবুল। তবে ২০০৯ ও ২০১৪ সালে নির্বাচন করে জয়ী হয়েছিলেন তিনি। এবারসহ টানা চারবার চেয়ারম্যান হতে যাচ্ছেন বাবুল। 


আট বছর ধরে রাউজানের স্থানীয় সরকার তথা উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে এমন এমন বিনা ভোটের নির্বাচন হয়ে আসছে। ফলে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে না পেরে নাখোশ ওই উপজেলার অন্তত তিন লাখ ভোটার। 

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশন থেকে তপশিল হওয়ার পরেই সবকিছুই চলে যায় স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর নিয়ন্ত্রণে। তাঁর কথার বাইরে গিয়ে এ উপজেলায় ভোট করার সুযোগ ও সাহস কারও নেই। স্থানীয় সরকারের প্রতিটি নির্বাচনের আগে এ উপজেলাতে হয় সমঝোতা বৈঠক। সেই বৈঠকে যে প্রার্থীকে চূড়ান্ত করা হয়, তিনিই বনে যান বিনা ভোটের জনপ্রতিনিধি। 

রাউজান পৌর এলাকার বাসিন্দা মুহাইমিনুল ইসলাম বলেন, ‘পৌর নির্বাচনে মেয়র হয়েছে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। উপজেলা নির্বাচনেও টানা দুই টার্ম কোনো ভোট হচ্ছে না। এমপি নির্বাচনে এবার ভোট হলেও সেখানে ছিল ডামি প্রার্থী। তাই ভোট কী জিনিস, তা ভুলতে বসেছে রাউজানবাসী।’

রাউজানের আরেক বাসিন্দা আবদুল কাদের বলেন, ‘রাউজানে এমপির কথাই আইন। এমপিই এখানে নির্বাচন কমিশনার। উনার কথার বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই কারোর। তাই আগ্রহ থাকলেও যোগ্য প্রার্থীরা উনার মতের বাইরে গিয়ে ভোট করেন না।’

জানা গেছে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম সংসদ নির্বাচনে রাউজান থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হন আওয়ামী লীগের এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী। ২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনে ১৪ ইউনিয়নের মধ্যে ১১টিতেই ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি ভোটাররা। সেবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জনপ্রতিনিধি হন ১২২ জন।  

২০২১ সালে উপজেলার ১৪ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ১৪ জন, মেম্বার পদে ১২৬ জন ও সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডে ৪২ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। সেবার প্রতিটি পদে একজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় ১৮২ জন একযোগে বিনা ভোটে জেতেন। 

২০২১ সালের পৌর নির্বাচনেও বিনা ভোটে জেতেন মেয়র ও সাধারণ ওয়ার্ডের ১২ এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ডের তিন কাউন্সিলর। ২০১৯ সালের উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও সংরক্ষিত নারী চেয়ারম্যান পদে সবাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত