গাজীপুরের শ্রীপুরে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের আগেই আওয়ামী লীগ নেতা হুমায়ুন কবীর হিমু রঙিন পোস্টার ছাপিয়ে প্রচারণা শুরু করেছেন। অথচ এই উপজেলায় আগামী ২মে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। তার আগেই পছন্দের টিউওবয়েল প্রতীক ছাপিয়ে তার ফেসবুকে প্রচারণা শুরু করেছেন। এতে উপজেলা জুড়ে তীব্র সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
হুমায়ুন কবীর হিমু শ্রীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক। তিনি চলতি ষ্টষ্ঠ পর্বের দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন।
এদিকে প্রতীক বরাদ্দের আগেই পোস্টার ছাপানোর ঘটনাকে আচরণবিধি লঙ্গন বলে দাবি করেছেন অন্যান্য প্রার্থীরা। বুধবার (২৪ এপ্রিল) বেলা ১২টার দিকে ওই আওয়ামী লীগ নেতা নিজের ফেসবুকে নির্বাচনী পোস্টার শেয়ার করেছেন। তাতে তিনি লিখেছেন, আলহামদুলিল্লাহ। ভাইস চেয়ারম্যান পদে দোয়া চাই, ভোট চাই। আর পোস্টারে লিখেছেন, আমি আপনাদেরই লোক, আমাকে ভাইস চেয়ারম্যান পদে টিউওবয়েল মার্কায় ভোট দিয়ে জনগনের সেবা করার সুযোগ দিন ।’ এদিকে পোস্টার শেয়ারের কয়েক ঘণ্টা হলেও ওই আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা।
তাদের দাবি, নিজের আধিপত্য বিস্তার নিশ্চিত ও নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করতেই পছন্দের প্রতীক বরাদ্দের আগেই প্রচারণা শুরু করেছেন তিনি। এটা নির্বাচণী আচরণবিধি লঙ্ঘন।
তার কর্মকাণ্ডে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হুমায়ুন কবির হিমু সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন সবুজের একনিষ্ঠ আস্থাভাজন কর্মী ছিলেন। সে আস্থাভাজনের পুরস্কার হিসেবে তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ বাগিয়ে নেয়। বহু সিনিয়র ও ত্যাগী নেতা থাকার পরেও হিমুকে সভাপতি করা হয়। এতে আওয়ামী লীগে চরম অসন্তোষ দেখা দেয়।
এরপর নানা রকম বির্তকিত বক্তব্য ও কর্মকান্ড করে সব সময় আলোচনায় ছিলেন তিনি। এক ছাত্রদল কর্মীকে থানা থেকে ছাড়িয়ে আনতে আওয়ামী লীগের দলীয় প্যাডে সুপারিশ করলে পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়। এছাড়াও পৌর শহরের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এ অঞ্চলে আমি ও সবুজ ভাই (সাবেক এমপি) সবচেয়ে বড় রংবাজ। আমাদের ছাড়া কোনো রংবাজি চলবেনা। ওই সময় তার এই বক্তব্যে এলাকাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করা প্রার্থী ও উপজেলা পরিষদের বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান মাহতাব উদ্দীন বলেন, এখনো প্রতীক বরাদ্দ হয়নি। একই প্রতীক একাধিক প্রার্থীর পছন্দ হতে পারে। এ ঘটনায় বিভ্রান্ত সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী হুমায়ুন কবির হিমুর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনি আইন জেনে নেন, এ ব্যাপারে কি আইন আছে তা জানি না। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়েছে কি না এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন।
নির্বাচনী অফিস সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২মে প্রতীক বরাদ্দ পাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া চেয়ারম্যান,ভাসই চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। যদি একই প্রতীক একাধিক প্রার্থীর পছন্দ থাকে তাহলে লটারির মাধ্যমে প্রতীক বরাদ্দ নিশ্চিত করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রির্টানিং অফিসার শোভন রাংশার সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
