ঠিকাদারদের সঙ্গে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে জেল হাজতে থাকা পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুই উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মাসুদ রানা ও মোশাররফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের শৃঙ্খলা পরিদপ্তরের পরিচালক মো. নোমান ফরিদ স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি নোটিসে বরখাস্তাদেশ দেওয়া হয়।
পাউবোর মহাপরিচালক অনুমোদিত এ আদেশে বলা হয়, উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী মাসুদ রানা ও মোশাররফ হোসেনকে গত ২৩ এপ্রিলে পুলিশ আটক করে এবং ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদের জেলহাজতে পাঠান। আটকের দিন অর্থাৎ ২৩ এপ্রিল থেকে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। বরখাস্তকালীন সময়ে পাউবো (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) চাকরি প্রবিধিমালা ২০১৩ এর প্রবিধি ৫৫(৫) মোতাবেক তারা খোরাকি ভাতা পাবেন।
এর আগে গত ২৩ এপ্রিল পাবনা পাউবোর কার্যালয়ে ঠিকাদারদের সঙ্গে অবৈধ টাকা লেনদেনের জেরে নগদ ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকাসহ আটক হন ওই দুই কর্মকর্তা। এ সময় ঠিকাদার রাজিব (স্থানীয় সাবেক কমিশনার) ও কনকসহ কয়েকজন পালিয়ে যায়। এর পরদিন দুপুরে ৫৪ ধারায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কোর্টের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠান পুলিশ। জেলহাজতে পাঠানোর পরদিন এ বরখাস্ত আদেশ জারি করা হয়।
প্রসঙ্গত, ঠিকাদার ও কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে বিল ভাউচারের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের অনুসন্ধানে গত মঙ্গলবার পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডে যান সংবাদকর্মীরা। এ সময় তথ্য ও বক্তব্যের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মাসুদ রানার কক্ষে গেলে ওই কক্ষের ভেতর থেকে বন্ধ পান। কয়েক বার নক দেওয়ার পর মাসুদ রানা দরজা খুললে ঠিকাদার আরিফুজ্জামান রাজিব কমিশনার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসডি মোশাররফসহ কয়েকজনকে দেখতে পান সংবাদকর্মীরা। এ সময় টেবিলে বিপুল অর্থও দেখা যায় এবং এরপরই আরেক ঠিকাদার কনক সেখানে হাজির হন। সরকারি অফিসে ঠিকাদারের সঙ্গে বন্ধ কক্ষে কীসের অর্থ লেনদেন হচ্ছে জানতে চাইলে তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। তখন সংবাদকর্মীরা বিষয়টিকে সন্দেহজনক মনে করে পুলিশকে জানায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঠিকাদার রাজিব ও কনকসহ কয়েক জন পালিয়ে যান। পুলিশ দুদককে জানালে দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ওই দিন সন্ধ্যায় পুলিশ তাদের আটক করে।
