যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনার শার্লট-মেকলেনবার্গে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে নিরাপত্তা বাহিনীর চার কর্মকর্তা নিহত এবং আরও আটজন আহত হন। গত সোমবার অপরাধীকে ধরতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ একটি বাড়িতে যাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর এই হামলা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের বন্দুক সহিংসতার ঘটনা অবশ্য প্রতিনিয়তই ঘটে। এ নিয়ে দেশটির রাজনীতিতে বড় বিতর্ক রয়েছে। গত বছরও দেশটিতে বন্দুকসংশ্লিষ্ট অপরাধ লাগামছাড়া হয়ে ওঠে, যা এ বছরও অব্যাহত রয়েছে।
মার্কিন গণমাধ্যমের খবর, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ওই বাড়িতে হাজির হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ওই ব্যক্তি তাদের দিকে গুলি চালান। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা পাল্টা গুলি চালালে চারজন নিহত হন। কিন্তু ওই বাড়ির ভেতর থেকে আরও গুলি ছোড়া হয়। দুদিক থেকে তিন ঘণ্টা চলে উত্তেজনা। পরে আরও দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সব মিলিয়ে আট পুলিশ কর্মকর্তা গুলিবিদ্ধ হন।
বিষয়টি নিয়ে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে অবহিত করা হলে তিনি নর্থ ক্যারোলাইনার গভর্নরের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্রের বন্দুক সহিংসতার ঘটনায় এটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এসব ঘটনা স্কুল, হাসপাতাল, শপিং মল ও জনসমাগমপূর্ণ স্থানে সংঘটিত হলেও নর্থ ক্যারোলাইনায় ভুক্তভোগী হলেন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।
যুক্তরাষ্ট্রে চলতি মাসে কয়েকটি বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটে। গত বছরটি ছিল এ ধরনের ঘটনার জন্য বড় হৃদয়বিদারক। মার্কিন প্রতিষ্ঠান ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর হেলফ কেয়ার ম্যানেজমেন্ট (এনআইএইচসিএম)’ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জানায়, বন্দুকসংশ্লিষ্ট সহিংসতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যগত ও অর্থনৈতিক দিক থেকে বাড়তি ব্যয় হচ্ছে। এটি দেশটির একটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এনআইএইচসিএম জানায়, বন্দুক হামলায় গত বছর ৪২ হাজার ৯৬৭ জন নিহত হয়। আগ্নেয়াস্ত্রের আঘাতে নিহত মানুষের সংখ্যা ২০১০ থেকে ২০২০ সালে ৪৩ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন বন্দুক হামলা নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগী হতে চেয়েছিল। কিন্তু রিপাবলিকানদের বাধার কারণে তা সফল হচ্ছে না।
