পটুয়াখালীর দুমকিতে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী, কৃষক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতা বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ড. হারুন অর রশীদ হাওলাদারের পক্ষে ভোট চাইলেন জাতীয় পার্টির (জাপা) কো-চেয়ারম্যান ও পটুয়াখালী-১ আসনের সাংসদ এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার। ওই সভায় পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আলমগীর হারুন হাওলাদারকে নির্বাচিত না করলে রাষ্ট্রীয় সব সুযোগ-সুবিধা না দেওয়ার ঘোষণা দেন।
গত সোমবার বিকেলে পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্যালাইন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ড. হারুন অর রশিদ হাওলাদারের পক্ষে তারা ভোট চান। উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শহীদুল হাসান শাহীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আলমগীর, উপজেলা চেয়ারম্যান ড. হারুন অর রশীদ হাওলাদার, ইউএনও মো. শাহীন মাহমুদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মাসুদ আল মামুন, বিশেষ অতিথি ছিলেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কাজী আলমগীর বলেন, ‘এমপি সাহেবের হাতকে শক্তিশালী করতে সবাইকে হারুন অর রশীদ হাওলাদারের পাশে থেকে তাকে নির্বাচিত করতে হবে। তা না হলে কোনো সুযোগ-সুবিধা, উন্নয়ন বরাদ্দ পাবে না। কাউকে কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।’
সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও ইউএনওর উপস্থিতিতে স্যালাইন বিতরণের নামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্থানীয় এমপি ও আওয়ামী লীগ সভাপতি একজন চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাওয়ার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ায় সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে জনমনে সংশয় তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন মাহমুদ বলেন, ‘এটি নির্বাচনী কোনো সভা নয়, এমপির স্যালাইন বিতরণ অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। ওই বৈঠকে এমপির বক্তব্যে আমি বিব্রত হলেও কিছু করার ছিল না।’
এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আলমগীর বলেন, ‘এত ছোটখাটো বিষয়ে কারও কথা বলা উচিত নয়। আমার বক্তব্যে দলীয় শৃঙ্খলার বিঘ্ন ঘটলে কেন্দ্র ব্যবস্থা নেবে। তোমাদের নিউজ করার দরকার নেই।’
সাংসদ এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারের মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার করলেও তিনি রিসিভ করেননি।
গত ১৭এপ্রিল তৃতীয় ধাপে ১১২টি উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এ উপজেলায় আগামী ২৯ মে নির্বাচন হবে।
মনোনয়নপত্র দাখিলের আগেই সম্ভাব্য চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীদের প্রচার জমে উঠেছে।
