মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বৃক্ষরোপণের সঠিক সময় কখন?

  • মূলত জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে এ ধরনের বৃক্ষ রোপণ করা উচিত
  • বাংলাদেশে বর্ষাকাল অর্থাৎ জুন, জুলাই ও আগস্ট মাস গাছের চারা রোপণের উপযুক্ত সময়
আপডেট : ০২ মে ২০২৪, ১১:১০ এএম

সারাদেশ জুড়ে চলছে তীব্র তাপপ্রবাহ। কিছু জেলা বাদে সারাদেশে বৃষ্টির কোন দেখা নেই। আর এমন পরিস্থিতিতে এই তীব্র গরমের জন্য গাছ কাটা ও গাছের সংখ্যা কমে যাওয়াকেই দুষছেন অনেকে।

যার দরুন চলতি বছর বাংলাদেশে বৃক্ষরোপণের পক্ষে সরব প্রচারণা চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তবে, এটি গাছ লাগানোর উপযুক্ত সময় কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের শঙ্কা, উপযুক্ত সময়, স্থান ও ধরন বা প্রজাতি মেনে গাছ না লাগালে উপকারের বদলে বরং ক্ষতি বেশি হতে পারে।

চলতি বছর এপ্রিল মাস থেকেই তীব্র গরমের কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়ার পর সামাজিক মাধ্যমসহ বিভিন্ন পরিসরে গাছ লাগানোর আহ্বান বেশ জোরেসোরে শোনা যায়। বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে এ ধরনের কর্মসূচিও দেখা যাচ্ছে।

তবে, এই সময়ে বৃক্ষরোপণের সঠিক সময় কিনা সেটা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

এখন কি গাছ লাগানোর উপযুক্ত সময়? বৃক্ষরোপণের সময় কোন বিষয়গুলো মাথায় রাখা উচিত? এ সংক্রান্ত বিভিন্ন ধারণার ভিত্তি কতটুকু?

বৃক্ষরোপণের সঠিক সময়

বাংলাদেশে চারা রোপণের উৎকৃষ্ট সময় হিসেবে সাধারণত বিবেচনা করা হয় বর্ষাকালকে। অর্থাৎ জুন, জুলাই ও আগস্ট মাস গাছের চারা রোপণের উপযুক্ত সময়।

তবে, রোপণের সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে সারা বছরই 'চারা-কলম' লাগানো যায়, বলে জানাচ্ছে সরকারের কৃষি তথ্য সার্ভিস।

তবে কৃষি তথ্য সার্ভিস থেকে জানা যাচ্ছে, প্রথম বৃষ্টির পরপরই চারা লাগানো উচিত হবে না। কারণ প্রথম কয়েক দিন বৃষ্টির পরপরই মাটি থেকে গরম গ্যাসীয় পদার্থ বের হয়, যা চারা গাছের জন্য খুবই ক্ষতিকর এমনকি চারা মারা যায়।

বলা হয়, যে কোনো গাছের চারা রোপণ করার সর্বোত্তম সময় দিনের শেষভাগে অর্থাৎ পড়ন্ত বিকাল বেলায়।

'এই আবহাওয়া নতুন বৃক্ষ-জীবনের অনুকূল নয়'

বর্তমান আবহাওয়াতে যত খরাসহিষ্ণু গাছই লাগানো হোক না কেন, ঠিকমত যত্ন নিতে না পারলে শতভাগ গাছ মারা যাবে বলছেন উদ্ভিদ বিশেষজ্ঞরা।

গাছ থেকে পানি বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়ার নাম 'প্রস্বেদন'। গ্রীষ্মকালে প্রস্বেদনের মাত্রা বেশি হয় বলে অধিক পরিমাণে পানি বেরিয়ে যায়। গাছ মাটি থেকে শিকড়ের মাধ্যমে পানি টেনে সেই ঘাটতি আবার পূরণ করে। কিন্তু, এবার বৈশাখ মাসে বাংলাদেশের বেশিরভাগ স্থানে বৃ্ষ্টির দেখা মেলেনি।

যে কারণে নতুন চারা গাছ মারা যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তারা বলছেন যখনকার কাজ তখন করতে হবে। অসময়ে গাছ না লাগিয়ে বরং নতুন করে যেন বৃক্ষনিধন করা না হয়, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

কি গাছ লাগাবেন?

বৃক্ষরোপণের বিষয়ে সোচ্চার হলেও কোথায় কি ধরনের বৃক্ষ রোপণ করা উচিত আমরা অনেকেই জানি না। ফুল গাছ সৌন্দর্য বর্ধক, তাই বাড়ির সামনের খোলা জায়গায় অনেকেই ফুল গাছ লাগান।

মূলত জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে এ ধরনের বনায়ন করা উচিত।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফুল গাছ নান্দনিকতা বাড়ায়। তবে ফলদ গাছ হলে তা পাখিসহ অন্যান্য প্রাণীর জন্যও আশ্রয় ও খাবারের উৎস হয়ে উঠতে পারে।

এছাড়া রেল লাইনের পাশে আকারে বড় হয়, এমন গাছের চারা লাগালে, গাছের শেকড় লাইনের মাটির নিচে ঢুকে লাইনটিকে অসমতল করে তোলে। এতে দুর্ঘটনার শংকা থাকে। তাছাড়া, দূর থেকে রেলপথ দেখতে না পাওয়াও ঝুঁকিপূর্ণ। এসব কারণে "ব্রিটিশ শাসনামলে" রেল লাইনের পাশে ওই ধরনের বৃক্ষরোপণ "নিরুৎসাহিত করা হতো"।

গাছ কি জলবায়ু পরিবর্তন থামাতে পারে?

সালোকসংশ্লেষণের(খাদ্য উৎপাদন) জন্য গাছ কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ করে থাকে। সেই কার্বন শাখা, কাণ্ড বা মূলে থেকে যায়। আর সমপরিমাণ অক্সিজেন বায়ুমণ্ডলে নির্গত হয়। যে কারণে অক্সিজেনের উৎস হিসেবে আখ্যা দেয়া হয় বৃক্ষকে।

কিন্তু, গাছ নিজের রেসপিরেশনের(শ্বাসগ্রহণ প্রক্রিয়া) সময় আবার কার্বন ডাই অক্সাইড ত্যাগ করে। গ্যাস গ্রহণ এবং বর্জনের হার ও প্রক্রিয়ার ব্যাপারে সঠিক ধারণা পাওয়া কঠিন।

তবে, নেচার জিওসায়েন্সে ২০২১ সালে প্রকাশিত এক গবেষণার তথ্য বলছে, বাড়তি গাছ রোপণ করলে তা বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়াতে পারে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা ও ইন্টারনেট

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত