গরমে সবার ঘাম হওয়াটাই স্বাভাবিক। শরীরের দুর্গন্ধ কখনও কখনও বিব্রতকর সমস্যা যা অনেকেই অনুভব করেন। যদিও খারাপ স্বাস্থ্যবিধি, পোশাক পছন্দ এবং মেডিকেল কন্ডিশন ইত্যাদি নানা কারণে দুর্গন্ধ হয়। স্ট্রেস হরমোনের উচ্চ কর্টিসলের কারণে অতিরিক্ত ঘাম সৃষ্টি হয়। শুধু মার্কেট কেন অফিস-আদালত, বন্ধুদের আড্ডা সব জায়গায় আপনার ঘামের দুর্গন্ধে উপস্থিতি কারও কাম্য থাকে না। অনেক সময় অনেকে বুঝতে পারেন না নিজের গায়ের উটকো ঘামের দুর্গন্ধ।
ঘামের দুর্গন্ধ কেন হয়?
আমাদের ত্বকে কিছু ব্যাকটেরিয়া বসবাস করে যখন তারা এপোক্রাইন গ্ল্যান্ড ও ইকক্রাইন গ্ল্যান্ড থেকে নির্গত ঘাম ভেঙ্গে প্রপানয়িক এবং ভ্যালেরিক এসিডে রূপান্তরিত করে তখন ঘামের দুর্গন্ধ পাওয়া যায়। অনেকে বলে থাকেন, ত্বকে ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বেড়ে গেলে এমনটি হয় কিন্তু আসলে যখন ব্যাকটেরিয়া প্রোটিনকে এসিডে পরিণত করছে তখনি এমনটি হয়ে থাকে। ব্যাকটেরিয়া তার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ বা আবহাওয়া না পেলে প্রোটিন ভাঙতে থাকে। এমনকি সোডিয়ামযুক্ত খাবার বেশি খেলেও এমনটি হয়। জীবনযাপন এবং খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তনের মাধ্যমে কর্টিসলের মাত্রার ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব।
১. সূর্যের আলোর সংস্পর্শে দিন শুরু করুন
সকালের সূর্যালোক সার্কাডিয়ান রিদম নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে, যা কর্টিসল উৎপাদনে সহায়তা করে। এই প্রাকৃতিক আলোর সংস্পর্শে সেরোটোনিনও বৃদ্ধি হয়, যা সারাদিন ধরে চাপের মাত্রা কম রাখতে সাহায্য করে। সকালে কমপক্ষে ১৫ মিনিট সূর্যের আলোতে থাকার লক্ষ্য রাখুন।
২. স্বাস্থ্যকর ফ্যাট দিয়ে আপনার দিন শুরু করুন
ভেজা বাদাম এবং আখরোটের মতো স্বাস্থ্যকর ফ্যাট গ্রহণ করলে তা কর্টিসলের মাত্রা সহ হরমোন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। স্বাস্থ্যকর ফ্যাট মস্তিষ্কের কার্যকারিতা এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলে, এটি শরীরকে সর্বোত্তমভাবে কাজ করতে সাহায্য করে এবং ভারসাম্যহীন হরমোন থেকে উৎপন্ন দুর্গন্ধ প্রতিরোধে সাহায্য করে।
৩. খাবারের আগে গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস নিন
খাওয়ার আগে ৩-৪ রাউন্ড গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম শরীরের চাপের প্রতিক্রিয়া কমাতে সাহায্য করে, কর্টিসলের মাত্রা কমায়। গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস শরীরকে শিথিল করে এবং হজমে সহায়তা করে, ঘাম এবং শরীরের দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী স্ট্রেস হরমোনের সক্রিয়তা রোধ করে।
৪. সন্ধ্যায় ক্যামোমাইল চা পান করুন
ক্যামোমাইল চায়ের শান্ত বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা চাপ এবং কর্টিসলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে, বিশেষ করে সন্ধ্যায়। ঘুমানোর আগে এক কাপ ক্যামোমাইল চা পান করলে ভালো ঘুমও হতে পারে, যা হরমোনের ভারসাম্যের জন্য অপরিহার্য।
৫. খাদ্যতালিকায় ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার রাখুন
ম্যাগনেসিয়াম হলো একটি খনিজ যা শরীরকে শিথিল করতে এবং কর্টিসল নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। কলা, কুমড়োর বীজ এবং বাদামের মতো খাবার ম্যাগনেসিয়ামে সমৃদ্ধ। খাদ্যতালিকায় এই খাবারগুলো যোগ করলে তা চাপ এবং শরীরের দুর্গন্ধ কমাতে সাহায্য করতে পারে।
৬. নিয়মিত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমান
কর্টিসোলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর মধ্যে একটি হলো ঘুম। ঘুমের অভাব কর্টিসোল উৎপাদন বৃদ্ধি করে, যা মানসিক চাপের কারণ হতে পারে এবং অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে। কর্টিসলের মাত্রা ভারসাম্যপূর্ণ রাখতে এবং শরীরের দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতি রাতে ৭-৮ ঘণ্টা বিশ্রামের ঘুমের চেষ্টা করুন।
৭. সারাদিন হাইড্রেটেড থাকুন
ঘাম এবং শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণসহ শরীরের সর্বোত্তম কার্যকারিতা বজায় রাখার জন্য পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। ডিহাইড্রেশনের ফলে শরীরের দুর্গন্ধ বৃদ্ধি পেতে পারে, তাই হাইড্রেটেড থাকার জন্য এবং দুর্গন্ধ কমাতে সারা দিন প্রচুর পানি পান করুন।
৮.গরম পানি দিয়ে গোসল করুন
প্রতিদিন অন্তত একবার গোসল করুন। মনে রাখবেন গরম পানি শরীরে থাকা ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে আর যদি আবহাওয়া গরম থাকে তাহলে চেষ্টা করবেন কয়েকবার গোসল করে নিতে।
বিধবা নারীকে হত্যা করে গলার চেইন, কানের দুল চুরি
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষার্থীদের মিছিল