যে পাঁচ বিশেষত্বে মেনোত্তি হয়েছিলেন সেরা কোচ

আপডেট : ০৬ মে ২০২৪, ০৩:১৬ পিএম

পৃথিবীকে বিদায় জানিয়ে দিলেন সিজার লুইস মেনোত্তি। অনন্তলোকে যাত্রার আগে তিনি আর্জেন্টাইনদের হৃদয়ে নিজের নাম গেঁথে যান চিরকালের জন্য। ১৯৭৮ সালে যেবার প্রথম বিশ্বকাপ জিতে আর্জেন্টিনা। তখন তিনি ছিলেন দলটির কোচ। শুধু তাই নয় ১৯৮৬ সালেও তিনি উপদেষ্টা ছিলেন। ২০২২ সালেও আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের ফুটবল পরিচালক ছিলেন। অর্থাৎ আর্জেন্টিনার যত বড় অর্জন। সবগুলোর পেছনেই ছিল তার অবদান।

সব খেলোয়াড়দেরও পছন্দের কোচ ছিলেন তিনি। ফুটবল ঈশ্বর খ্যাত ডিয়েগো ম্যারাডোনাকে তুলে এনেছিলেন তিনিই। তবে ১৯৭৮ বিশ্বকাপ দলে নেননি তাকে। তারপরও ম্যারাডোনার কাছে তিনিই বিশ্বসেরা কোচ। তার আগেও এসেছিলেন আর্জেন্টিনার কোচ, পরেও এসেছেন অনেকে। তবু তিনিই এখনও সেরা। কি এমন বিশেষত্ব ছিল তার, যে কারণে তিনি বিশেষ ছিলেন কোচদের তালিকায়।  

বেশ কয়েকটি কারণে বিশেষ কোচ ছিলেন। যার মধ্যে পাঁচটি বিশেষ কারণে তিনি সেরা হয়ে উঠতে পেরেছিলেন। সে গুণগুলো হলো দর্শন, কৌশল, সাফল্য, ফুটবলারদের বিকাশ এবং খেলায় প্রভাব। সেসব নিয়েই এই প্রতিবেদন।

দর্শন

মেনোত্তি ছিলেন আক্রমণাত্মক, দখল-ভিত্তিক ফুটবলের জন্য পরিচিত ছিলেন। তিনি আকর্ষণীয়, বিনোদনমূলক ফুটবল খেলায় বিশ্বাসী ছিলেন যা রক্ষণাত্মক বাস্তববাদের চেয়ে সৃজনশীল ছিল। এই দর্শনে ফুটবলার এবং কোচের দক্ষতা অগ্রাধিকার পায়। তিনি কোচিং করিয়েছেন যে দলগুলিকে সেসব দলে প্রায়শই দেখা যেত পেছন থেকে বল নিয়ে ওপরে ওঠে আক্রমণ করে গোলের সুযোগ তৈরি করার দিকে ঝুক ছিল।

কৌশলগত উদ্ভাবন

কৌশলগতভাবে বিচক্ষণ কোচ মেনোত্তি। তিনি ফটবলে বেশ কয়েকটি কৌশল উদ্ভাবন করেছিলেন। তার একটি ‘লিবেরো’ বা সুইপার। কৌশলটা মূলত একজন রক্ষণভাগের খেলোয়াড় পেছন থেকে গিয়ে প্রতিপক্ষ রক্ষণভাগের লাইনে ঝাঁপিয়ে পড়বে, তাকে সাপোর্ট দেয়ার জন্য আরেকজন খেলোয়াড় পেছন থেকে উঠে আসবে। সঙ্গে একজন আরেকজনকে বল দেওয়া নেওয়া তো করবে। তারপর গোলের  সুযোগ সৃষ্টি করা। এটার কৌশলের ওপর জোর দিয়েছিলেন মেনোত্তি বেশি।

আর্জেন্টিনার সঙ্গে সাফল্য

আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের কোচ হিসেবে মেনোত্তির সেরা সাফল্য ১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপ জয়। তার অধীনে পুরো দল টুর্নামেন্টজুড়ে দাপট দেখিয়েছে। টানটান উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে আক্রমণাত্মক শৈলী দিয়ে ভক্তদের মুগ্ধ করেছিল আর্জেন্টিনার সেই দলে থাকা মেনোত্তির শিষ্যরা। শেষ পর্যন্ত তারা দেশে ফিরেছিল বিশ্বকাপ ট্রফি জিতে। যে ট্রফির জন্য অপেক্ষ ছিল তাদের ৩৮ বছরের। ১৯৩০ বিশ্বকাপের প্রথম আসরে যে আলবিসেলেস্তেরা রানার্সআপ হয়েছিল।

খেলোয়াড় বিকাশ

প্রতিভাবান ফুটবলারদের প্রতি তীক্ষ্ণ নজর রাখতেন মেনোত্তি। তিনি যতদিন কোচ ছিলেন, ততদিন আর্জেন্টিনা দল বেশ কয়েকজন কিংবদন্তী ফুটবলার পেয়েছিল। তাদের মধ্যে ফুটবল ঈশ্বর ডিয়েগো ম্যরাডোনার নাম সবার শীর্ষে থাকবে। এছাড়া মারিও কেম্পেস ও ড্যানিয়েল পাসারেল্লার মতো প্রতিভাধরদের লালন করেছিলেন তিনি। তার ছোঁয়াতেই তারা কিংবদন্তি ফুটবলার হতে পেরেছিলেন। অবদান রেখেছিলেন নিজ নিজ দলের হয়ে।

খেলায় প্রভাব

মেনোত্তির কোচিং দর্শন এবং কৌশলগত উদ্ভাবন ফুটবল খেলায় দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছে। তার ধারণাগুলি বিশ্বজুড়ে কোচ ও খেলোয়াড়দের প্রভাবিত করে চলেছে, অনেক দল এখনও তার আক্রমণাত্মক খেলার শৈলী অনুকরণ করার চেষ্টা করছে।

সামগ্রিকভাবে কোচ হিসাবে মেনোত্তির বিশেষত্ব খেলাটির প্রতি তার দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গি, আক্রমণাত্মক ফুটবলের প্রতি তার প্রতিশ্রুতি এবং খেলোয়াড়দের মাঠে সৃজনশীলভাবে নিজেকে প্রকাশ করতে অনুপ্রাণিত করার দক্ষতার মধ্যে রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত