বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

কোচ আলফাজের প্রশ্ন

জাতীয় দলে খেলতে মোহামেডান খেলোয়াড়দের আর কী করতে হবে

আপডেট : ০৭ মে ২০২৪, ০৮:০০ পিএম

সময়ের হিসেবে এক বছরের চেয়েও কম। এই সময়ে ঘরোয়া ফুটবলে যে ক'টি টুর্নামেন্ট হয়েছে, প্রতিটির ফাইনাল খেলেছে আলফাজ আহমেদের ছোঁয়ায় বদলে যাওয়া মোহামেডান। গত বছর ২৩ মে ছিল ফেডারেশন কাপের ফাইনাল। কুমিল্লার ভাষা সৈনিক ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে পাগলাটে ফাইনালে চির বৈরী আবাহনীকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ১৪ বছর পর ফেডারেশন কাপ ঘরে তোলে সাদা-কালোরা।

এরপর গত বছর ১৮ নভেম্বর গোপালগঞ্জের শেখ ফজলুল হক মনি স্টেডিয়ামে হওয়া স্বাধীনতা কাপের ফাইনালে বসুন্ধরা কিংসের কাছে হারতে হয় ২-‌১ ব্যবধানে। সেই টুর্নামেন্টের পর ফের আরেকটি টুর্নামেন্টের সেরার মঞ্চে পা রেখেছে মোহামেডান। মঙ্গলবার পুলিশ এফসিকে ২-১ গোলে হারিয়ে ২১ মে'র ফাইনালে চলে গেছে তারা। চলতি প্রিমিয়ার লিগে দ্বিতীয় স্থানে থাকা, একমাত্র দল হিসেবে অপরাজিত থাকাটাও বদলে যাওয়া মোহামেডানের প্রমাণ দেয়। অথচ এই দলের ফুটবলাররাই থাকেন জাতীয় দলের কোচের রাডারের বাইরে! যা ভীষণভাবে পীড়া দেয় কোচ আলফাজকে। তার প্রশ্ন, আর কত প্রমাণ দিলে জাতীয় দলে জায়গা পাকা হবে তার শীষ্যদের?

আলফাজের অধীনে একঝাঁক তরুণ ফুটবলার দৃঢ় মানসিকতার পরিচয় দিয়ে একের পর এক টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলছে। মঙ্গলবারও পিছিয়ে পড়ে তারা অসাধারণ ফিরে আসার গল্প লিগে জায়গা করেছে ফাইনালে। শীষ্যদের মানসিকতার প্রশংসা করে আলফাজ দেশ রূপান্তরকে বলেন, 'আমরা কিন্তু স্বাধীনতা কাপেও পিছিয়ে পড়ে জিতেছি। লিগেও বেশ কয়েকটি ম্যাচে এই ঘটনা ঘটেছে। তাতেই বোঝা যায় মানসিক দিক থেকে খেলোয়াড়রা কতটা দৃঢ় এবং মনযোগী। একটা পরিবার হিসেবে আমরা খেলে যাচ্ছি। উপরওয়ালার দয়া ও সমর্থকদের ভালোবাসায় অনুপ্রাণিত হয়ে ছেলেরা সাদা-কালো জার্সির জৌলুস ফেরাতে সর্বস্ব দিয়ে খেলছে।' 

জাতীয় দলে খেলতে মোহামেডানের ফুটবলারদের আর কত প্রমাণ দিতে হবে, বলতে পারেন? দুই মৌসুম ধরে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের করেও বেশ ক'জন তরুণকে জাতীয় দলে উপেক্ষিত থাকতে হয়। অথচ রেলিগেশন হতে যাওয়া দলের খেলোয়াড়কে দিব্যি খেলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এগুলো দেখলে মনটা ভীষণ খারাপ হয়

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল সর্বশেষ ম্যাচ খেলেছে ২৬ মার্চ বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপ যৌথ বাছাইপর্বে ফিলিস্তিনের বিপক্ষে। এর আগে কুয়েতে ২১ মার্চ ছিল একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ম্যাচ। এই দুই ম্যাচের জন্য জাতীয় দলের কোচ হাভিয়ের কাবরেরা যে স্কোয়াড বেঁছে নিয়েছিলেন সেখানে ছিলেন মোহামেডানের দুই ফুটবলার ফরোয়ার্ড শাহরিয়ার ইমন ও ডিফেন্ডার হাসান মুরাদ। তবে একজনেরও বদলী হিসেবেও নামার সুযোগ হয়নি। মঙ্গলবার পুলিশের বিপক্ষে জয়সূচক গোলটি ছিল শাহরিয়ার ইমনের। এর বাইরেও মোহামেডানে গত দুই মৌসুম ধরে আলো ছড়াচ্ছেন বেশ ক'জন তরুণ। যাদের অন্যতম আরিফ হোসেন। এই রাইট উইঙ্গারকে ধরা হচ্ছে আলফাজের সেরা আবিস্কার। অথচ জাতীয় দলে সুযোগ হয়নি তার। সেন্টারব্যাক হিসেবে মেহেদী হাসান বেশ ক'জন স্কোয়াডে থাকলেও খেলার সুযোগ খুব বেশি মিলেনি। এই মৌসুমে জাতীয় দলের সাবেক ফরোয়ার্ড জাফর ইকবাল ভীষণ ধারবাহিক। তবে কাবরেরার রাডারে ধরা পড়ে না এই পারফরমাররা। এই উপেক্ষাটাই মেনে নিতে পারছেন না মোহামেডানের সফল কোচ, 'জাতীয় দলে খেলতে মোহামেডানের ফুটবলারদের আর কত প্রমাণ দিতে হবে, বলতে পারেন? দুই মৌসুম ধরে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের করেও বেশ ক'জন তরুণকে জাতীয় দলে উপেক্ষিত থাকতে হয়। অথচ রেলিগেশন হতে যাওয়া দলের খেলোয়াড়কে দিব্যি খেলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এগুলো দেখলে মনটা ভীষণ খারাপ হয়।'

এমন নয় যে, আলফাজের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে খুব নামী-দামী ফুটবলার সমৃদ্ধ একটা দল। মোটা দাগে একটা মাঝারি সারির দল। তবে যারা খেলছেন, তাদের কাছ থেকে সেরাটা বের করে আনার ক্যারিশমা আলফাজ দেখিয়েছেন। তাতেই মোহামেডান ইঙ্গিত দিচ্ছে অতীতে ফেরার। এই অগ্রযাত্রায় না আবার ভাটা পড়ে। জোড়েসোড়ে শোনা যাচ্ছে, মোহামেডানের বেশ ক'জন স্থানীয় ও বিদেশীতে নজর পড়েছে অন্য ক্লাবের। অনেকে নাকী গোপনে চুক্তিও সেড়ে ফেলেছেন। সাদা-কালো'র কর্তাদের কী সেই খেয়াল আছে?

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত