গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর ভাইয়ের কাণ্ড

ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছ থেকে কর্মীকে ছিনিয়ে নিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী

আপডেট : ০৮ মে ২০২৪, ১০:১৭ এএম

গাজীপুরের শ্রীপুরে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এক চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মীকে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করার দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। কিন্তু সাজাপ্রাপ্ত সেই কর্মীকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিরুদ্ধে।

জানা যায়, আচরণবিধি ভঙ্গ করে কয়েকশ নেতা-কর্মীদের ভূরিভোজের আয়োজন করে ওই কর্মী। ভ্রাম্যমাণ আদালত এটা জানতে পেরে কর্মীকে জরিমানা করে এবং আদালতের নির্দেশে রান্না করা খাবারগুলো একটি এতিমখানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় আদালতের নির্দেশ ছিল অনুমতি ব্যতীত একই স্থানে আর কোনো অনুষ্ঠান করা যাবে না। 

কিন্তু আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ফের ওই কর্মী একই স্থানে অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে চাইলে আদালত তাকে বিচারের মুখোমুখি করেন। এমন খবর পেয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী নিজে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছ থেকে বিচারের মুখোমুখি কর্মীকে জোর করে ছিনিয়ে নিয়ে মিছিল করতে করতে স্থান ত্যাগ করেন। এ সময় চেয়ারম্যান প্রার্থীকে বিচারকার্যে নিয়োজিত বিচারকের সাথে উচ্চস্বরে কথা বলতে দেখা যায়। আদালতের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করতেও দেখা গেছে তাকে।

পরে ওই কর্মীসহ নেতাকর্মীরা প্রার্থীকে নিয়ে মিছিল করতে করতে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানুষের চোখে পড়ে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার নগরহাওলা গ্রামে এমনি ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে।

জানা গেছে, ওই চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম অ্যাডভোকেট জামিল হাসান দুর্জয়। তিনি গাজীপুর ৩ আসনের সংসদ সদস্য ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপিকা রুমানা আলী টুসির বড় ভাই এবং গাজীপুর জেলা আ.লীগের যুগ্ম সম্পাদক।

অন্যদিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছিলেন শ্রীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাইখা সুলতানা। এ সময় সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার শোভন রাংসাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাডভোকেট জামিল হাসান দুর্জয়ের ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাথে এমন অসৌজন্যমূলক আচরণে জ্যেষ্ঠ নেতারা বিস্মিত হয়ে পড়েন।

একটি সূত্র বলছে এমন অপরাধের কারণে চেয়ারম্যান প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলও হতে পারে। বিকেল থেকে এ নিয়ে নির্বাচনী এলাকায় আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে।

এদিকে, আদালতের বিচার কার্যের মুখোমুখি হওয়া কর্মীর নাম হারুন অর রশীদ। তিনি জামিল হাসান দুর্জয়ের একনিষ্ঠ কর্মী হিসাবে পরিচিত।

অ্যাডভোকেট জামিল হাসান দুর্জয় ঘোড়া প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার সাথে জেলা.লীগের সদস্য আবদুল জলিল( সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান)  আনারস প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়ছেন। অপর দিকে মোটর সাইকেল মার্কা নিয়ে সাখাওয়াত হোসেন শামীম নির্বাচনে ভোটের লড়াই করছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও নেতাকর্মীরা জানান- দুপুরে নগরহাওলা গ্রামে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাডভোকেট জামিল হাসান দুর্জয়ের কর্মীরা ঘোড়া প্রতীকের এক নির্বাচনী সভার আয়োজন করেন। এ সময় দুপুরে কয়েকশ নেতাকর্মীর জন্য  ভূরিভোজের আয়োজন করেন হারুন অর  নামে এক কর্মী। খবর পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থল পৌঁছে আচরণ বিধি লঙ্ঘনের দায়ে ওই কর্মীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এ সময় রান্না করা সব খাবার পাশের একটি এতিমখানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে কোনো অনুমতি ছাড়া এ স্থানে কোনো সভা সেমিনার না করার নির্দেশ দেন নির্বাহী বিচারক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কৃষকলীগের কয়েকজন নেতা জানান- জরিমানা আদায়ের কিছুক্ষণ পর ফের একই স্থানে সভার আয়োজন করলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক সেই কর্মীকে বিচারের আওতায় এনে শাস্তির মুখোমুখি করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এমন সময় খবর পেয়ে ঘোড়া প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী জামিল হাসান দুর্জয় একদল নেতাকর্মী নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারকের কাছে এসে বাক বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায় বিচারকের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ শুরু করেন। এক পর্যায় বিচার কার্যের তোয়াক্কা না করেই বিচারের মুখোমুখি করা কর্মীকে জোর করে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ সময় নেতাকর্মীরা মিছিল করতে করতে চলে যায়। তারা আরও বলেন প্রার্থী ও কর্মী সমর্থকদের তোপের মুখে পড়ে অসহায়ত্ব বরণ করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী বিচারক।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক শাইখা সুলতানা জানান, বিধি লঙ্ঘনের দায়ে জরিমানা করে সতর্ক করার পরে ফের দ্বিতীয় দফা সেখানে সভা চালানো হচ্ছিল। পূর্বে জরিমানা করা একই ব্যক্তিকে আবারও জরিমানা ও বিচারের আওতায় আনার কাজ চলছিল। অপরাধ বিবেচনা নিয়ে বিচারকার্যের প্রস্তুতিও চলছিল। এমন অবস্থায় প্রার্থী নিজে এসে অভিযুক্ত কর্মীসহ জোর করে সবাইকে নিয়ে চলে যান। এমন ঘটনা ঘটার পর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে নির্বাচন কমিশনে জানানো হয়েছে।

শ্রীপুর উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বলেন, 'সকালে ভ্রাম্যমাণ আদালত এসে পথসভার জন্য আমাদের দুই ঘণ্টা সময় দেন। ওই সময়ের মধ্যেই পথসভা শেষ করে আমরা চলে আসি।

শ্রীপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শোভন রাংসা বলেন, ‘ যিনি চেয়ারম্যান প্রার্থী আছেন, তিনি সবাইকে নিয়ে মিছিল করতে করতে চলে যান। ‌তার আগে আচরণবিধি ভাঙ্গায় সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়েছে। একজন নির্বাহী বিচারকের সাথে প্রার্থী নিজেই অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত