এয়ারবাস থেকে এয়ারক্রাফট কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিন্তু সেই এয়ারক্রাফট কেনার দরকষাকষি করবেন কারা? দরাদরি করে ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা একটা জটিল কাজ। এর সাথে রাজনীতিসহ নানা বিষয় জড়িত থাকে। সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন নিতে হয়। নীতিনির্ধারকদের সম্মত্তি লাগে। সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করতে হবে। এ ছাড়াও এয়ারক্রাফট কেনার টাকা কোথা থেকে আসবে তার পথ বাতলে দিতে হবে এ কমিটিকেই।
অতীতে এয়ারক্রাফট কেনা নিয়ে এ দেশে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এর ধারাবাহিকতায় পরে এয়ারক্রাফট ক্রয় কমিটিতে অনেকেই থাকতে চাইতেন না। কমিটি থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ারও নজির রয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার এয়ারবাস থেকে এয়ারক্রাফট কেনার জন্য ১১ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিমান। কমিটিতে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা রয়েছেন। কমিটির প্রধান করা হয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম এ্যাফেয়ার্স ইউনিটের সচিব অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার এডমিরাল খুরশেদ আলমকে।
সদস্য হিসেবে আছেন সহকারী বিমান বাহিনী প্রধান (অপারেশন) এয়ার ভাইস মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন ও সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার ইন চিফ মেজর জেনারেল ইফতেখার আনিস, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী তানজিবুল আলম। দি কম্পিউটার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খন্দকার আতিক-ই রব্বানীও রয়েছেন।
তাদের সাথে সদস্য হিসেবে রয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, বিমানের প্রকৌশল অ্যান্ড ম্যাটেরয়াল ম্যানেজমেন্টের পরিচালক, বিমানের পরিচালক অর্থ, পরিচালক ফ্লাইট অপারেশন্স, পরিচালক করপোরেট প্লানিং অ্যান্ড ট্রেনিং এবং মহাব্যবস্থাপক রেভিনিউ। কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে কাজ করবেন পরিচালক করপোরেট প্লানিং অ্যান্ড ট্রেনিং।
এয়ারবাস থেকে এয়ারক্রাফট কেনার কমিটি গঠনের এ সিদ্ধান্ত হয় বিমান পরিচালনা পর্ষদের গত ২৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত সভায়। এয়ারবাস ৪টি ৩৩০-৯০০ এয়ারবাস বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু বিমান ৩৫০-৯০০ মডেলের এয়ারক্রাফট কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এর আগে ফরাসি প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ সফরের সময় এয়ারবাস থেকে এয়ারক্রাফট কেনার প্রস্তাব দেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে। তারও বহু আগে থেকেই এয়ারবাস বিমানের কাছে এয়ারক্রাফট বিক্রির জন্য নানাভাবে চেষ্টা করে আসছে। বিমান ২০১০ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে একাধীক এয়ারক্রাফট কিনেছে। কিন্তু তার সবগুলোই মার্কিন কম্পানি বোয়িং থেকে। এয়ারবাস ইউরোপিয় কম্পানি। ফ্রান্সের নেতৃত্বে এখানে অন্য আরো কয়েকটি দেশের অংশিদারিত্ব রয়েছে।
বিমান বহরের সুপরিসর এয়ারক্রাফটের বেলায় বোয়িংয়ের একচেটি প্রাধান্য রয়েছে। সেখানে ইউরোপিয় এয়ারবাস ঢোকাতে গেলে নানা ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে। প্রকৌশলী থেকে শুরু করে পাইলট পর্যন্ত নানা পর্যায়ে নতুন করে প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
বেইলি রোডের ‘কাচ্চি ভাই’ রেস্তোরাঁর মালিক গ্রেপ্তার
চুন্নুর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় যা বললেন ব্যারিস্টার সুমন