ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রাশিয়ার ব্যবসায়ীদের প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলার জব্দ আছে। এই অর্থ থেকে আসা লভ্যাংশ ইউক্রেনকে দেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে ইউরোপের দেশগুলো। গতকাল বৃহস্পতিবার ইইউ কমিশনের প্রধান উরসুলা ফন ডেয়ার লাইয়েন এই তথ্য জানিয়ে বলেছেন, আগামী জুলাই মাসেই জব্দ করা অর্থের থেকে সুদ বাবদ আসা অর্থে থেকে এক বিলিয়ন ডলার দেওয়া হতে পারে। ইইউ এমন সময় এই সিদ্ধান্তের কথা জানাল, যখন ইউরোপ জুড়ে পালিত হচ্ছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিজয় দিবস। ১৯৪৫ সালের ৮ মে নাৎসি জার্মানির নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ কার্যকর হয়। দিনটি ফ্রান্স, ব্রিটেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দিবস হিসেবে চিহ্নিত। অথচ ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিবাদের কারণেই এমন দিনেও রাশিয়া আর পশ্চিমা দেশগুলোকে পরস্পরকে হুকমি দিতে হচ্ছে। অথচ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসিদের অহমিকা গুঁড়িয়ে দিয়েছিল সোভিয়েত সেনারা।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন বিজয়ের বার্ষিকীতে সেই কথাটি মনে করিয়ে দিয়েছেন। গতকাল মস্কোর রেড স্কোয়ারে পুতিন বলেন, পশ্চিমা দেশগুলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শিক্ষা ভুলে যেতে চাইবে। তবে নাৎসি জার্মানির পরাজয়ের সঙ্গে জড়িত মিত্রদের সম্মান জানিয়েছে রাশিয়া। পুতিন বলেন, আমরা মনে রেখেছি, মস্কো এবং লেনিনগ্রাদ, রজেভ, স্টালিনগ্রাদ, কুরস্ক এবং খারকিভের কাছে, মিনস্ক, স্মোলেনস্ক এবং কিয়েভের কাছে, মুরমানস্ক থেকে ককেশাস এবং ক্রিমিয়া পর্যন্ত ভারী, রক্তক্ষয়ী যুদ্ধগুলোতে মানবজাতির ভাগ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। পুতিন জাপানি সামরিকবাদের বিরুদ্ধে চীনা জনগণের লড়াইয়ের কথাও উল্লেখ করেন গতকাল।
পুতিন পশ্চিমা দেশগুলোকে বৈশি^ক সংঘাতের ঝুঁকি সৃষ্টির জন্য অভিযুক্ত করে বলেছেন, কাউকেই বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক শক্তিধর দেশকে হুমকি দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না।
পুতিন বলেন, আমরা জানি এ ধরনের উচ্চাকাক্সক্ষার অত্যধিকতা কোন দিকে নিয়ে যায়। রাশিয়া বিশ^ব্যাপী সংঘর্ষ প্রতিরোধে সবকিছু করবে। তবে একই সঙ্গে, আমরা কাউকে আমাদের হুমকি দেওয়ার সুযোগ দেব না। আমাদের কৌশলগত বাহিনী সবসময় যুদ্ধের প্রস্তুতির অবস্থায় থাকে। ২০২২ সালে রুশ সেনাবাহিনীকে ইউক্রেনে পাঠিয়েছিলেন পুতিন। সেই থেকে এই যুদ্ধ এখনো চলছে। দীর্ঘ দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধকে তিনি পশ্চিমের সঙ্গে রাশিয়ার লড়াইয়ের অংশ হিসেবে নিয়েছেন। রাশিয়ার সৈন্যরা ইউক্রেনের পশ্চিমা-সমর্থিত বাহিনীর বিরুদ্ধে সাফল্যের সঙ্গে অগ্রসর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রেসিডেন্ট পুতিন অহংকারী পশ্চিমা অভিজাত দেশগুলোকে নাৎসি জার্মানিকে পরাজিত করার ক্ষেত্রে সোভিয়েত ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ভুলে যাওয়ার এবং বিশ্ব জুড়ে সংঘাত সৃষ্টি করার অভিযোগ এনেছেন।
ইউক্রেন এবং পশ্চিমারা বলছে, পুতিন সাম্রাজ্যবাদী ধাঁচে ভূখণ্ড দখলের কাজে নিয়োজিত। তারা চলমান এই যুদ্ধে রাশিয়াকে পরাজিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এদিকে পুতিনের ওই বক্তব্য যেদিন এলো সেদিনই ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জব্দ থাকা রাশিয়ার ব্যবসায়ীদের প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারে লভ্যাংশ ইউক্রেনকে দেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে ইউরোপের দেশগুলো। ইইউ কমিশনের প্রধান উরসুলা ফন ডেয়ার লাইয়েন জানান, এই অর্থ থেকে সুদ বাবদ ২০২৭ সাল নাগাদ ১৫ থেকে ২০ বিলিয়ন ইউরো আয় হতে পারে। এ বছরই তিন বিলিয়ন পাওয়া যেতে পারে। সেখান থেকে ইউক্রেনকে জুলাই মাসে এক বিলিয়ন ডলার দেওয়া হতে পারে।
রয়টার্স জানাচ্ছে, বিষয়টি নিয়ে সম্মত হয়েছেন ইইউর রাষ্ট্রদূতরা। এখন ইইউ মন্ত্রীরা এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করলে ইউক্রেনকে অর্থ পাঠানো হবে। অবশ্য রাশিয়ার কর্মকর্তারা বরাবর বলে এসেছেন, পশ্চিমা বিশ্ব রাশিয়ার অর্থে হাত দিলে ‘কঠোর’ প্রতিক্রিয়া ও ‘অসংখ্য’ মামলা দায়ের করা হবে।
