আগুন দিয়ে আগুনের সঙ্গে লড়াই। শুনতে পরস্পরবিরোধী মনে হতে পারে, এমনকি দেখতেও। কিন্তু একদল নারীকে সেই প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। নিয়ন্ত্রিত বা নির্দিষ্ট স্থানে আগুন লাগানোর কৌশল শিখতে এবং সে বিষয়ে দক্ষ হতে অগ্নিনির্বাপকদের আন্তর্জাতিক একটি দল উত্তর পর্তুগালে জড়ো হয়েছিলেন। সেই দলের সবাই নারী। এই ধরনের নিয়ন্ত্রিত পোড়ানো ব্যবস্থা বন্যভূমি ও বনকে সুস্থ রাখার হাতিয়ার। এর মাধ্যমে অতিরিক্ত দাহ্য গাছপালাও পোড়ানো হয়, যা বড় দাবানল প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে।
জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘উইমেন-ইন-ফায়ার প্রেসক্রাইবড ফায়ার ট্রেনিং এক্সচেঞ্জেস’ বা ‘ডাব্লিউ-ট্রেক্স’ নামের একটি সংস্থার ইউরোপে প্রথম প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ছিল পর্তুগালের সেই জমায়েত। ২০২২ সালে ইউরোপে রেকর্ডসংখ্যক দাবানল হয়েছে। প্রায় আট হাজার বর্গকিলোমিটার বন ও জমি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। দাবানলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে পর্তুগাল অন্যতম। জলবায়ু সংকটের কারণে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় এবং তাপমাত্রা ক্রমশ বাড়তে থাকায় সমস্যাটি বছরের পর বছর আরও খারাপ হচ্ছে। পর্তুগালের এই সমস্যায় আরেকটি বিষয় মাত্রা যোগ করছে। সেটি হচ্ছে, অত্যন্ত দাহ্য ইউক্যালিপটাস বন। মূলত বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে এই গাছ লাগানো হয়। দাবানল বর্তমানে একটি ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক উদ্বেগ। সে কারণে অগ্নিনির্বাপণ এবং অগ্নিব্যবস্থাপনা এই দুই বিষয়েই আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বিনিময় এখন অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
পর্তুগিজ ফায়ার ম্যানেজমেন্ট কর্মকর্তা ক্রিস্টিনা আজুরারা বলেন, অতীতে যেভাবে আগুন ব্যবহার করা হতো সেই কৌশল শিখেছেন এই নারীরা। আমাদের পূর্বপুরুষরা চারণভূমি পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী করতে এবং দাহ্য পদার্থ নিয়ন্ত্রণে রাখার উপায় হিসেবে আগুন ব্যবহার করতেন। এখানে নারীরা ঐতিহ্যবাহী সেই কৌশলগুলোই শিখেছেন। আগুনের উপাদান সম্পর্কে গভীর জ্ঞান নিয়ে এই নারীরা পথিকৃৎ হয়ে উঠছেন। তারা বিপর্যয় ঠেকানো, জীবন বাঁচানো ও ভঙ্গুর ইকোসিস্টেম রক্ষার দক্ষতা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
উইমেন-ট্রেক্সের পরিচালক লেনিয়া কিন-ডাভিডসন বলেন, নারীদের ক্ষমতায়নে ২০১৬ সালে আমরা ডাব্লিউ-ট্রেক্স শুরু করি। অগ্নিব্যবস্থাপনায় ডাইভারসিটি আনাও আমাদের লক্ষ্য।
