তানজিদ তামিমকে নিয়ে সৌম্য সরকার যখন ব্যাট করছিলেন তখন মনে হচ্ছিল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের দলীয় সংগ্রহটা দুইশর আশপাশে গিয়েই ঠেকবে। কিন্তু এই দুজনের বিদায়ের পর আচমকা ব্যাটিং ধসে বাংলাদেশ দেড়শ রানই করতে পারেনি। ড্রেসিং রুমে বসে সতীর্থদের যাওয়া-আসার মিছিলের দর্শক ছিলেন সৌম্য। তার কাছে মনে হয়েছে বল পুরনো হওয়ার পর খানিকটা থেমে থেমে আসাতেই সমস্যা হয়েছে পরের দিকের ব্যাটসম্যানদের।
সংবাদ সম্মেলনে সৌম্য জানালেন, ‘দেখেন, প্রথম দিকে আমি আর তানজিদ ব্যাটিং করছিলাম নতুন বলে। খুব ভালো ছিল, বল ব্যাটে আসছিল। অর্ধেক ইনিংসের পর বল একটু ডাবল পেস হয়ে যায়, আপস অ্যান্ড ডাউন হচ্ছিল। প্রথমদিকের উইকেটের আচরণ দেখে সবাই হয়তো উইকেটে গিয়েই আক্রমণাত্মকভাবে খেলতে শুরু করে দেয়। প্রথমে আমাদের ব্যাটিং দেখে মনে হয়েছিল উইকেটটা ১৭০-১৮০ রানের। বলটা যখন পুরনো হয়েছে তখন একটু আপস অ্যান্ড ডাউন হয়েছে। সবাই হয়তো আগে যেয়েই অ্যাটাকিং খেলতে গেছে।’
সৌম্য মনে করেন, তাওহীদ হৃদয় আরেকটু সময় উইকেটে থাকলে, একটা ছোট্ট জুটি হলেই ধসটা হতো না, ‘টি-টোয়েন্টিতে প্রতি বলেই পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। তামিম ও আমি যেভাবে খেলছিলাম, ৭-৮ বলের মধ্যে মনে হয় আমরা আউট হয়েছিলাম। ওই সময় গিয়ে তাওহীদ (হৃদয়) কিন্তু অমন ব্যাটিংই করে। আজকে হয়তো ওর ওই পিকআপ শটটা ছক্কা হয়নি।’ হয়নি অবশ্য অনেক কিছুই। সাকিব আল হাসান এবং নাজমুল হোসেন শান্ত তো আর মারতে গিয়ে নয়, লেগস্পিনারের লাইন মিস করে ডিফেন্স করতে গিয়েই আউট হয়েছেন। বল গেছে ব্যাট-প্যাডের ফাঁক দিয়ে। সৌম্য বললেন সেই সময়টায় স্পিনাররা ভালো বল করছিলেন তাই উইকেট পড়েছে, ‘ওই সময়টা স্পিনাররা যখন বল করছিল, ভালো বোলিং করছিল। আমরাও হয়তো সোজা ব্যাটে খেললে আরেকটু ভালো হতো। একজন যদি একটু ১০-১৫ রানের জুটি করত, তাহলে হয়তো শেষের দিকে ভালো কিছু করতে পারত।’ সিরিজের প্রথম তিন ম্যাচে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ছিলেন লিটন দাস আর তামিম। লিটন বাজে ফর্মের কারণে বেঞ্চে, তার জায়গাতেই এসেছেন সৌম্য। তাতে উদ্বোধনী জুটির স্বাস্থ্য ভালো হলেও মিডল অর্ডারে মহামারী, ফলাফল সেই একই। সৌম্য অবশ্য এজন্য সতীর্থদের দায় দিতে রাজি নন, ‘প্রত্যেক ম্যাচে তো সবাই ভালো করবে না। গত ম্যাচগুলোতে ওরাই (মিডল অর্ডার) তো ভালো করেছে। তো একদিন ওদের খারাপ হতেই পারে। এটা কিছু না। ওরা পরের ম্যাচেই আবার ঘুরে দাঁড়াবে।’
