আমার নাম ফারজানা ইয়াসমিন লিমা। আমার মায়ের নাম মো. রোজিনা বেগম। আমরা তিন বোন। আমি আম্মুর বড় সন্তান। আমার সঙ্গে আমার মায়ের সম্পর্কটা ঠিক সবার মতো আহ্লাদের না। আমার মা বাগানপ্রেমী মানুষ। শহরে বাসা হওয়ার সুবাদে তেমন বাইরে কারও সঙ্গে গল্প করতে পারে না। তাই আমাদের সঙ্গেই সারাক্ষণ কথা বলে। আমার মা গৃহিণী। তার কোনো উপার্জন নেই বললে ভুল হবে, তার সেলাই মেশিন আছে তা থেকে কিছু উপার্জন করেন। বাকি সবকিছু বাবা চালান। কিন্তু মায়ের কাছেই যত প্রয়োজন, যত আবদার। স্কুলের বেতন থেকে শুরু করে টিফিনে ঝালমুড়ি খাবার টাকাও মা-ই দেন। কিছু বেশি আবদার করলেই বলে নিজে করতে। সেখান থেকেই কিছু কিছু কাজ শিখেছি। এমন একটি বিশেষ শখ অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহার করা। কিন্তু দুঃখের বিষয়, ফোন ব্যবহার করতে গেলে মায়ের মনে হয় পড়ে ভেঙে যাবে বা নষ্ট হয়ে যাবে। এই অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ভিডিও দেখে মায়ের এত পছন্দ হয়েছিল যে, সেখানে সে তার জীবনের প্রথম দূরের ভ্রমণ করল। এমনিতে মা একদম লং জার্নি করতে পারে না। তার মাথা ঘুরায়, বমি পায়। এ জন্য কোথাও যাওয়া হয় না আমাদের। তবে সেটাই ছিল আমার ২১ বছরের জীবনে প্রথম সপরিবারে ভ্রমণ। আমাদের বাসা থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে একটি পার্কে গিয়েছিলাম আমরা।
ঘুরতে যাই সপরিবারে।
আমার মা যেমনই হোক, আমার কাছে সেরা। মা দিবসে আমার মা-সহ পৃথিবীর সব মাকে জানাই শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
মোসা. ফারজানা ইয়াসমিন লিমা
দ্বিতীয় বর্ষ, বানেশ্বর সরকারি কলেজ
লক্ষ্মীপুর ভাটাপাড়া, রাজপাড়া, রাজশাহী
