ভোট এলে প্রার্থীরা ভালো ভালো কথা বলেন। নানা প্রতিশ্রুতি দেন। মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন। তখন সব প্রার্থীরা ভোটারের কাছের মানুষ হয়ে যান। অথচ ভোট শেষ হওয়া মাত্র প্রার্থীরা ভোটারের কথা ভুলে গিয়ে শুধুই নিজের হয়ে যান। তাই ভোট নিয়ে ভোটারদের উৎসাহ এখন কম। আমরা যাকে ভোট দেই, সে নির্বাচিত হয় না। ভোট দিয়ে কী লাভ? এমন নানা অভিযোগে প্রার্থীদের জর্জরিত করলেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ভোটাররা। তাদের এমন অভিযোগের সদুত্তর দিতে না পেরে প্রার্থীরা ভোটারদের কেন্দ্রমুখী হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে অঙ্গীকার করে বললেন, বিগত দিনের মতো এমন চর্চা আর হবে না। এবার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা সর্বদা জনগণের কাছে জবাবদিহি করে এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলাসহ সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে যাবে।
ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে গতকাল শনিবার গাংনীতে ‘জবাবদিহিতায় জনতার মুখোমুখি প্রার্থীরা’ শীর্ষক এক মতবিনিময় অনুষ্ঠান প্রার্থী ও ভোটারের অংশগ্রহণে এভাবেই প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয় সংগঠন পিস ফেসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজি) গাংনী আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের শুরুতে উপস্থিত সাধারণ ভোটাররা হাত মুষ্টিবদ্ধ করে শপথে দাঁড়িয়ে প্রতিজ্ঞা করেন তারা অসৎ, দুর্নীতিবাজ, কালোবাজারি, ঘুষখোর, চাঁদাবাজ কোনো প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন না। এই শপথবাক্য পাঠ করান স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হক।
গাংনীতে আগামী ২১ মে অনুষ্ঠিতব্য উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সাতজন চেয়ারম্যান প্রার্থী, তিনজন ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী এবং তিনজন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী একমঞ্চে হাতে হাত রেখে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলে করতালি দিয়ে ভোটাররা তাদের অভ্যর্থনা জানায়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পিএফজির মাস্টার প্রশিক্ষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রতিযোগীকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, সহযোগী বা সহযোদ্ধা মনোভাবে দেখতে হবে। তাহলে নির্বাচনে সহিংসতা ঘটবে না।
গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার প্রীতম সাহা বলেন, প্রার্থীদের মধ্যে অবশ্যই সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। তা নাহলে প্রার্থীরা এখানে এক মঞ্চে আসত না। নির্বাচনী প্রচারের শুরু থেকে এ পর্যন্ত গাংনীতে কোনো অনিয়ম বা আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেনি। এটা শুভ লক্ষণ।
গাংনী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কামরুল হাসান বলেন, নির্বাচনী এজেন্ট ও ভোটাররা যেন ভয়ভীতিহীনভাবে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন তার সব ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। কোনো অনিয়ম পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে কিন্তু সেটা যেন প্রতিহিংসার রূপ না নেয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
গাংনী থানার ওসি তাজুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের আগের এবং পরের প্রতিটি সময় শান্তিপূর্ণ রাখতে পুলিশ নানা পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে আছে। এক্ষেত্রে শান্তি বিনষ্টকারী কাউকে প্রশ্রয় দেবে না পুলিশ।