সোমালিয়ান জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্ত হওয়া জাহাজ এমভি আবদুল্লাহর ২৩ নাবিক নিয়ে আগামীকাল সোমবার সন্ধ্যার পর কুতুবদিয়া পৌঁছানোর কথা রয়েছে। দুবাই থেকে গত ২৮ এপ্রিল চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে আসা জাহাজটি বর্তমানে বঙ্গোপসাগর হয়ে ৫৬ হাজার টন চুনাপাথর নিয়ে কুতুবদিয়ার দিকে আসছে। জাহাজটিকে চট্টগ্রাম বন্দরের কোনো জেটিতে ভেড়ানোর কোনো শিডিউল নেই বলে জানিয়েছে এর মালিকপক্ষ।
এ বিষয়ে জাহাজটির মালিক কেএসআরএম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী মেহেরুল করিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জাহাজটি ১৩ মে (সোমবার) রাতে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙর কুতুবদিয়ায় পৌঁছাবে। আর সেখান থেকেই পরদিন (১৪ মে) নাবিকদের নামিয়ে আনা হবে।’
এদিকে দুবাই থেকে আসার সময় জাহাজটি ৫৬ হাজার টন চুনাপাথর নিয়ে আসছে। এর মধ্যে কিছু চুনাপাথর কুতুবদিয়ায় খালাসের পর বাকি চুনাপাথর চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে খালাস করা হতে পারে। তাহলে নাবিকদের সংবাদ মাধ্যমের সামনে কখন উপস্থাপন করা হবে জানতে চাইলে মেহেরুল করিম বলেন, ‘এখনো তা চূড়ান্ত হয়নি।’
গত ১৩ এপ্রিল রাত ৩টায় সোমালিয়ান দস্যুদের কাছ থেকে মুক্তি পায় এমভি আবদুল্লাহ ও এর ২৩ নাবিক। দস্যুদের ৫০ লাখ মার্কিন ডলার মুক্তিপণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তিনটি ওয়াটারপ্রুফ লাগেজে উড়োজাহাজের মাধ্যমে এগুলো পানিতে ফেলা হয়। ডলার গণনার পর নিশ্চিত হয়েই জাহাজ ছেড়ে যায় ৬৫ জন জলদস্যু। গত ১২ মার্চ দুপুর দেড়টার দিকে সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসু থেকে প্রায় ৬০০ নটিক্যাল মাইল দূরে ভারত মহাসাগরে এমভি আবদুল্লাহর সেকেন্ড অফিসার মোজাহেদুল ইসলাম চৌধুরীকে প্রথম অস্ত্র ঠেকিয়েছিল সোমালিয়ান জলদস্যুরা। জাহাজটি মোজাম্বিক থেকে ৫৫ হাজার টন কয়লা নিয়ে দুবাই যাচ্ছিল। জাহাজটি ছিনতাইয়ের পর সোমালিয়ার উত্তর-পূর্ব উপকূলের গ্যরাকাদে নোঙর করেছিল।
এর আগে একই মালিক গ্রুপের জাহাজ এমভি জাহান মনিকে ২০১০ সালে জিম্মি করেছিল একই গ্রুপের জলদস্যুরা। সেবারও মুক্তিপণ দিয়ে নাবিকদের উদ্ধার করা হয়। মুক্তি পাওয়ার পর জাহাজটি দুবাই পৌঁছে জাহাজে থাকা ৫৫ হাজার টন কয়লা খালাস করে গত ২৭ এপ্রিল। আর ২৮ এপ্রিল জাহাজটি চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে আসে।
