যে সন্তান ভোলে না মায়েদের কথা

আপডেট : ১২ মে ২০২৪, ১২:৩৪ পিএম

এমবিবিএস শেষ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মিশন হাসপাতালে যখন যোগ দিয়েছিলেন তখন তিনি তরুণ। চিকিৎসক জীবনের শুরুতে একটা জেলা শহরে তিনি হৈ চৈ ফেলে দিলেন, প্রসূতি মায়েরা তার কাছেই আশ্রয় খুঁজতেন সন্তানের নিরাপদ আগমনের। প্রায় চব্বিশ বছর পর সেই জেলা শহরের চেনা কোন গলিতে অপরিচিত কেউ না কেউ এসে প্রণাম করে বলে, বাবার মুখে শুনেছি আমার জন্মের সময়টা বেশ জটিল ছিল মায়ের অবস্থাও না কি ভালো ছিল না। বাবা এখনো বলেন, ভগবান ও তোর আশীষ কাকুর কল্যাণে দুজনেই প্রাণ পেয়েছিস। নূতন প্রাণ দাও... আজি সুপ্রভাতে... নূতন উষালোকে...। প্রাণে প্রাণ মিলে যে ম্যাজিক তৈরি হতে পারে তার সবটুকু করে দেখিয়েছেন ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্ত্তী।

একজন ডাক্তারের চোখ দিয়ে মা ও তার মাতৃত্ব তৈরি হতে দেখেছেন কর্মজীবনের শুরু থেকে, এমনকি মায়ের যন্ত্রণা অথবা প্রেরণা। গত দুই দশকের বেশি সময়ে জেলা শহরের গল্পের মানুষটি পাল্টে গেছেন। তিনি এখন রাজধানীর ব্যস্ততম ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। প্রচণ্ড ব্যস্ত জীবনে যেমন মন দিতে হচ্ছে আগামীর ডাক্তার গঠনে তেমন নিরবিচ্ছিন্ন স্বাস্থ্য সেবাও নিশ্চিত করতে হচ্ছে।

এত কিছুর মাঝেও মায়েদের জন্য আলাদা কিছু করার যে পরিকল্পনা তিনি করেছিলেন পনেরো বছর আগে তা আলোর মুখ দেখেছে। বিশ্ব মা দিবসের বিশেষ সম্মাননা পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান 'গরবিনী মা' ডাঃ আশীষের চিন্তার ফসল। গরবিনী মা এবছর একাদশতম সম্মাননা প্রদান করতে যাচ্ছে। দশটি ক্যাটাগরিতে ২০১৪ সালে পুরস্কার প্রদান শুরু করে ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সাথে আছে বিশেষ ক্যাটাগরি অদম্য মেধাবী। শুধু মায়েদের জন্য নয় ‘আশুতোষ চক্রবর্ত্তী স্মারক শিক্ষাবৃত্তি’ ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি শিক্ষা সামাজিক উদ্যোগ। গত দশ বছরে এ স্মারক শিক্ষাবৃত্তি পেয়েছে প্রায় এক হাজারের মত মেধাবী শিক্ষার্থী। নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে, মাদকবিরোধী কিংবা ইতিহাস প্রজ্বলনের জয় বাংলা কনসার্ট, সব জায়গাতেই তাঁকে দেখা গেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত