মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সাংবাদিকদের চোখে মার্কিন ক্যাম্পাস আন্দোলন

আপডেট : ১৩ মে ২০২৪, ১০:৫৫ এএম

মার্কিন ক্যাম্পাসগুলোতে ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এমন চিত্র দেখা যায়নি। আরও উল্লেখযোগ্য হচ্ছে এবারের মতো কারণে তো প্রায় কখনই নয়। ১৯৬০ ও ৭০ এর দশকে ছাত্ররা যে বিদেশি যুদ্ধের (ভিয়েতনাম) প্রতিবাদ করেছিল, কারণ যুদ্ধটি তাদের নিজেদের (আমেরিকান) জীবনকেই হুমকির মুখে ফেলেছিল। আর এবারের বসন্তে দেশের শতাধিক ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, ছাত্রত্ব এমনকি ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে প্রণোদিত করেছে কি না অন্যদের মৃত্যু। ইসরায়েলি প্রতিশোধমূলক হামলায় ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় নারী ও শিশুসহ ৩৪ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুতে প্রতিবাদী হয়ে উঠেছে তারা। নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষগুলোর কাছে দাবি তুলেছে, ইসরায়েলি অস্ত্র ও প্রযুক্তি কোম্পানি এবং সে দেশের সরকারি-বেসরকারি শিক্ষায়তনের সঙ্গে বিনিয়োগ ও শিক্ষামূলক লেনদেনের সম্পর্ক ছিন্ন করতে। টাইম ম্যাগাজিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা শিক্ষার্থী ফটো সাংবাদিকদের জবানিতে তুলে ধরেছে সারা দেশের ক্যাম্পাসের আন্দোলনের ছবি।

জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি

জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটিতে ফিলিস্তিনিপন্থি ক্যাম্পের দ্বিতীয় রাতে ড্রামের বাজনার তালে তালে একজন সংগঠক আন্দোলনকর্মী শিক্ষার্থীদের তাতিয়ে তুলছিলেন। তাঁবুর কাছে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা করছিলেন তিনি। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের কাছে প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন: তারা যদি গাজায় শান্তির পক্ষে জোরালোভাবে সমর্থনই না দেয় তাহলে কীভাবে আর জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির ডাক নাম ‘বিপ্লবী’ হতে পারে!

জেমস ডেভিন শ্যাপ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটো জার্নালিজম বিভাগের স্নাতক ছাত্র, তিনি জিডব্লিউ হ্যাচেট পত্রিকার জন্য বক্তৃতাটি কভার করছিলেন। এ সময় এক মুখোশধারী প্রতিবাদকারীর তীব্র দৃষ্টি তার নজর কাড়ে। ওই প্রতিবাদকারী কর্মসূচিতে সারা রাতই তার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ভঙ্গি প্রকাশ করছিলেন। শান্তির প্রতীক হিসেবে একটি হাত তুলে রেখেছিলেন তিনি। শ্যাপ বলেন, ‘তার অভিব্যক্তি আমাকে এ ধারণাই দিয়েছিল, যে তিনি ষোলআনা আন্তরিক বিশ্বাস থেকে লড়াই করছেন।’ সাহিত্য-ইতিহাসের পোকা জেমস শ্যাপ আরও বললেন, দূরে জ্বলজ্বল করা সবুজ আলো প্যালেস্টাইনের পতাকার রঙের পাশাপাশি দ্য গ্রেট গ্যাটসবির সবুজ আলোর কথা মনে করিয়ে দিচ্ছিল তাকে।

অন্যদিকে জিডব্লিউ হ্যাচেট এর ফটোসাংবাদিক টম রাথকে সবচেয়ে ধাক্কা দিয়েছিল বিক্ষোভস্থলে আকস্মিকভাবে নেমে আসা নীরবতা। কয়েকদিন উচ্চৈঃস্বরে স্লোগান শুনে শুনে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। হঠাৎ ছাত্রদের একটি দল নামাজ পড়তে শুরু করলে সব নীরব হয়ে যায়। সঙ্গী আন্দোলনকর্মীরা স্লোগান বন্ধ করে তাদের চারপাশে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছিল। ‘এটি সত্যিই আমার কাছে একদিনের সাময়িক প্রতিবাদের চেয়ে বড় কিছু মনে হয়েছিল। অনেক সময়েই লোকে কোনো দাবি-দাওয়া নিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়ে কিছু সময় পরই ঘরে ফিরে যায়। কিন্তু এখানে চিত্রটা অন্যরকম। কিছু মানুষ এখানে অন্যদের সুরক্ষা দিতে নিজের শরীরকে পর্যন্ত কাজে লাগিয়েছে।’

২০ বছর বয়সী দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাথের জন্য একদলের নামাজ আদায়ের সময় নিরাপত্তা দিতে অন্যদের ঘিরে থাকার ওই মুহূর্তটিতে এলাকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সব বিক্ষোভকারীর মধ্যে সত্যিকারের ঐক্যের প্রতিফলন ঘটেছিল। তাদের মধ্যে ছিল বিভিন্ন ধর্মবিশ্বাসী মানুষ। ‘স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছিল এমনকি যারা ওই প্রার্থনায় অংশ নেননি তারাও মুহূর্তটির আবেগ মর্মে মর্মে অনুভব করতে পারছিলেন’ বলেছেন রাথ। তার মতে আন্দোলনের এই ‘কম উত্তেজনাপূর্ণ’ মুহূর্তগুলো হয়তো অনেকের উপলব্ধিতে আসেনি। বিশেষ করে যারা ক্যাম্পাসে বাস করে না তাদের কাছে। একদল এখানে এসে হাজির হয় শুধু পরিস্থিতি তেতে উঠলেই। কিছুক্ষণ পরই তারা চলে যায়।

২৯ এপ্রিল বিক্ষোভকারীরা বিক্ষোভস্থলের চারপাশে দেওয়া বেড়া ভেঙে ফেলে। ১ মে মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট কমিটির রিপাবলিকান দলীয় আইন প্রণেতাদের একটি দল ক্যাম্পাস পরিদর্শন করে। তারা ওয়াশিংটন ডিসি নগর কর্র্তৃপক্ষকে বিক্ষোভ ভেঙে দিতে বলেন। রাথ জানান, ‘তারা বিক্ষোভকারীদের সম্পর্কে এমন কিছু উসকানিমূলক কথা বলেন যা সেখানকার প্রকৃত আবহের সঙ্গে যায় না।’ কলোরাডোর আইনপ্রণেতা লরেন বোবার্ট বলেন, ‘মেয়রকে অবশ্যই এটা তুলে দেওয়ার পদক্ষেপ নিতে হবে। এটা প্রেমের সামার চলছে না। যারা আমাদের শহরগুলোতে দাঙ্গা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে সেই সন্ত্রাসীদের কাছে নতজানু হব না।’

প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি

ডেইলি প্রিন্সটোনিয়ান-এর ফটোসাংবাদিক ক্যালভিন কেনজিরো গ্রোভার মুগ্ধ হয়েছিলেন ফিলিস্তিনি বিরিয়ানি জাতীয় খাবার মাকলুবার ঘ্রাণে। ২৮ এপ্রিল কেউ একজন প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির ‘গাজা সংহতি শিবির’-এ ঐতিহ্যবাহী ওই ফিলিস্তিনি খাবারটি রান্না করে নিয়ে এসেছিলেন। বিক্ষোভকারীরা সাংবাদিকদেরও একটু চেখে দেওয়ার প্রস্তাব করেছিল। কিন্তু ফটোগ্রাফার গ্রোভার বিনয়ের সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি জানিয়েছেন, অন্য কোনো কারণে নয়, ‘সাংবাদিকতার নীতি অনুযায়ী’ তারা এমন প্রস্তাব গ্রহণ করতে পারেন না।

১৯ বছর বয়সী প্রথম বর্ষের নবীন শিক্ষার্থী ক্যালভিন গ্রোভারের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কমিউনিটির এই সম্প্রীতির মুহূর্তগুলো ধরে রাখাটা ছিল স্মরণীয়। গ্রোভার বলেছেন, ‘সবচেয়ে উত্তেজনাকর দৃশ্যগুলোর বর্ণনায় বুঁদ হওয়া সহজ। কিন্তু প্রায়ই কিন্তু বড় বড় বক্তৃতা বা গ্রেপ্তারের মধ্যে খুব নিরিবিলি কিছু সময় থাকে। মাঝখানের ওই সময়ে ঘটে এরকম সম্প্রীতির ঘটনা। যেমন মধ্যরাত্রি, খুব ভোরবেলা যখন হয়তো আন্দোলনকর্মীরা কেবলই আড্ডা দেয় বা ঘোরাঘুরি করে।’

নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি

নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট মাইকেল শিল গত বছরের নভেম্বরে ক্যাম্পাসে ইহুদি-বিদ্বেষ ও ঘৃণা প্রতিরোধে একটি কমিটি ঘোষণা করেন। তিনি ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন। তবে সমালোচকরা বলেছেন, ইসলামবিরোধী প্রচারণা বা অহেতুক আতঙ্কের বিষয়টি তাদের অগ্রাধিকারে নেই। এছাড়া ইসরায়েলের সমালোচনা করার সঙ্গে ইহুদিবিরোধিতাকে মিলিয়ে ফেলা হচ্ছে।

ডেইলি নর্থওয়েস্টার্ন-এর প্রিন্ট সংস্করণের ম্যানেজিং এডিটর ২১ বছর বয়সী ছাত্র নিকোল মার্কাস মনে করেন, তারা শিক্ষার্থী বলে ক্যাম্পাসে যা ঘটছে তার নানা দিক জাতীয় মিডিয়ার চেয়ে অনেক বেশি ভালোভাবে বুঝতে পারেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ইহুদিদের সংগঠন জুইশ ভয়েস ফর পিস-এর নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি শাখাও ইসরায়েল থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো জোটের অংশ। নিকোল মার্কাস জানান, ‘জুইশ ভয়েস ফর পিস-এর সদস্য শিক্ষার্থীদের অনেকেই ফিলিস্তিনের পক্ষের ক্যাম্পে যোগ দিয়েছিল। আমরা অন্য পক্ষের ইহুদি ছাত্রদের কথাও শুনেছি যারা হয়তো ক্যাম্পের বক্তব্যের সঙ্গে একমত নয়।’

নর্থওয়েস্টার্ন হচ্ছে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি। বিক্ষোভকারীদের জুন ত্রৈমাসিক শেষ না হওয়া পর্যন্ত একটি তাঁবু রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির কর্র্তৃপক্ষ তাদের বিনিয়োগ সম্পর্কে আরও স্বচ্ছতা অনুসরণের অঙ্গীকারের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য উত্তর আফ্রিকান এবং মুসলিম শিক্ষার্থী ও অনুষদের জন্য বাড়তি সহায়তা দিতে সম্মত হয়েছে।

ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট অস্টিন

২৯ এপ্রিল ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভকারীরা অস্টিনের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের সাউথ মলে একটি তাঁবু শিবির তৈরি করে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তাদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। শিক্ষার্থীরা অস্বীকার করলে পুলিশ তাদের ক্যাম্প ঘেরাও করে রাখে। এক পর্যায়ে ক্যাম্পটি উচ্ছেদ করার পরে পুলিশ সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে সাউন্ড গ্রেনেড আর পিপার স্প্রে ব্যবহার করে। ওই দিন ৭০ জনের বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডেইলি টেক্সান-এর হয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচির খবর সংগ্রহ করা ১৯ বছর বয়সী ফটোসাংবাদিক শার্লট কিন বলেন, ছাত্ররা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। সবাই খুব উত্তেজিতও ছিল। তার মতে, আন্দোলনকারীদের নিয়ন্ত্রণে পুলিশের কৌশল ছিল ‘অতি আক্রমণাত্মক’। শার্লট কিন বিশেষভাবে একটি ঘটনার ছবি ও ভিডিওর কথা উল্লেখ করেছেন, যা তাকে ‘স্তম্ভিত’ করেছে। এতে দেখা যায় অঙ্গরাজ্যের পুলিশ বাহিনীর এক সদস্য এক হাতে একজন বিক্ষোভকারীর ঘাড় চেপে ধরে আছেন। টেক্সাস পুলিশ কর্র্তৃপক্ষের কাছে এই ছবি ও অতিরিক্ত শক্তিপ্রয়োগের অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য চাওয়া হলেও সাড়া দেয়নি।

ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেস

ইউসিএলএ-তে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভকারীরা ক্যাম্প শুরু করে ২৫ এপ্রিল। ১ মে ভোরের দিকে ইসরায়েলপন্থি প্রতিপক্ষ তাদের ব্যারিকেডগুলো ভেঙে ফেলার চেষ্টা করে। ফিলিস্তিনপন্থি শিক্ষার্থীদের ভয় দেখাতে আতশবাজি ওড়ায়। চারজন ইউসিএলএ-র ছাত্র সাংবাদিক পাল্টা বিক্ষোভকারীদের আক্রমণের শিকার হয়। ক্যাম্পে থাকা বেশ কয়েকজন ছাত্র বিক্ষোভকারী রক্তাক্ত হয়েছিল। পুলিশ বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে কিছুই করেনি, গভর্নর গ্যাভিন নিউজম যার সমালোচনায় মুখর হন।

২১ বছর বয়সী শিক্ষার্থী জোরাইজ ইরশাদ ডেইলি ব্রুইনের সাংবাদিক। তিনি একজন বিক্ষোভকারী আর পাল্টা বিক্ষোভকারীর মুখোমুখি হওয়ার মুহূর্তে ঘটনাস্থলে ছিলেন। ইরশাদ বললেন, এ রকম পরিস্থিতি থেকে শেষ পর্যন্ত কী বিপদ হতে পারে সেই আশঙ্কাই তাকে সবচেয়ে বেশি ভাবিয়ে তুলেছিল। ইসরায়েলপন্থি প্রতিপক্ষের সেই হামলার রাতের পরিবেশকে ‘অত্যন্ত বিশৃঙ্খল আর বিপজ্জনক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি। প্রত্যক্ষদর্শী ইরশাদ জানান, পাল্টা বিক্ষোভকারীরা গাজা সলিডারিটি ক্যাম্পমেন্টের বেড়ার কাঠের বোর্ড ও ধাতব ব্যারিকেড ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেছিল।

লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র কারেন বাস বলেছেন, যারা অন্যদের ওপর আতশবাজি ও রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করা ও শারীরিক হামলা চালানোর সঙ্গে জড়িত তাদের খুঁজে বের করে গ্রেপ্তার ও বিচার করা হবে।

ইরশাদ দেখেছেন, তার কিছু সহপাঠীকে ক্যাম্পের কাঠের বোর্ড দিয়ে আঘাত করার পাশাপাশি শরীরে জ্বলুনি সৃষ্টি করা স্প্রে ছিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সাংবাদিক হিসেবে আমাদের নিরপেক্ষ থাকতে হয়। কিন্তু তারপরও একজন ছাত্র হিসেবে এটি আমাদের কমিউনিটিকে গভীরভাবে আঘাত করছে। তাই কখনো কখনো সেই অবস্থানটি বজায় রাখা কঠিন, তবে আমরা চেষ্টা করছি।’

টাইম অনলাইন থেকে সংক্ষেপিত ভাষান্তর : আবু ইউসুফ

লেখক: টাইমের সাংবাদিক; রাজনীতি, অপরাধ, ন্যায়বিচার ও দক্ষিণ এশিয়া নিয়ে কাজ করেন। 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত