শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

আদালতের পরিবর্তে সমঝোতায় গুরুত্ব কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

আপডেট : ১৩ মে ২০২৪, ০৪:০৩ এএম

খেলাপি ঋণ আদায়ে নানা পদক্ষেপ ও নীতিমালার কথা শোনা গেলেও বছরের পর বছর তা বেড়েই চলছে। এমনকি আদালতে মামলা করেও ঋণের অর্থ আদায় করা যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে আদালতের বাইরে বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে খেলাপি ঋণ আদায়ে পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

গতকাল রবিবার এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বলা হয়েছে, অর্থঋণ আদালত আইনে ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দ্রুত আদায়ে আদালতের বাইরে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতিকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ওই আইনের অধীনে দায়েরকৃত মামলায় বিবাদীর লিখিত জবাব দাখিলের পর ধারা ২২ অনুসারে আদালত কর্তৃক প্রতিটি মামলা পক্ষদের কাছে মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে পাঠানো হয়।

এতে আরও বলা হয়, মধ্যস্থতার মাধ্যমে কোনো মামলার নিষ্পত্তির আদেশ চূড়ান্ত মর্মে গণ্য হবে এবং ওই আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে কোনো আপিল বা রিভিশন দায়ের করা যাবে না মর্মেও ওই ধারায় উল্লেখ রয়েছে। আইন অনুসারে আদালতের রায়ের আগে মামলার যে কোনো পর্যায়ে উভয় পক্ষ আদালতের অনুমতিক্রমে বিকল্প পদ্ধতিতে মামলা নিষ্পত্তি করতে পারবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, এর আগে অনাদায়ী পাওনা আদায়সহ অন্যান্য যে কোনো বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল আর্বিট্রেশন সেন্টারের (বিআইএসি) সহায়তা গ্রহণ ও ঋণচুক্তিসহ বিভিন্ন বিরোধ নিষ্পত্তিতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতিকে অন্তর্ভুক্ত করতে উৎসাহিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তারপরও খেলাপি গ্রাহকদের ঋণ পরিশোধে সদিচ্ছার অভাব, মধ্যস্থতার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর ছাড় না দেওয়ার প্রবণতা, ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকে যথেষ্ট গুরুত্ব না দেওয়া, মধ্যস্থতাকারীর পারিশ্রমিক নির্ধারণ ও পরিশোধে অনীহা/কালক্ষেপণ, পক্ষসমূহের মতভেদ দূর করতে মধ্যস্থতাকারী কর্তৃক যথাযথ ভূমিকা না রাখাসহ বিভিন্ন কারণে অর্থঋণ আদালত আইনের আওতায় দায়েরকৃত মামলাগুলোকে মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তিতে সফলতার হার আশানুরূপ নয়। এমন পরিস্থিতিতে খেলাপি ঋণ আদায়ে দীর্ঘসূত্রতা পরিহারের লক্ষ্যে মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া অনুসরণের নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

উল্লেখ্য, খেলাপি ঋণ আদায় ত্বরান্বিত করতে খেলাপি গ্রাহকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার আগেও মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, মধ্যস্থতার মাধ্যমে ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনকারী শাখা বা সংশ্লিষ্ট টিমকে স্বীকৃতি ও পুরস্কৃত করার পাশাপাশি আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থা রেখে ব্যাংকগুলো বিদ্যমান আইন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নিজস্ব নীতিমালা প্রণয়ন করবে। এছাড়া মধ্যস্থতায় ব্যর্থতার ক্ষেত্রে অন্তর্নিহিত কারণ অনুসন্ধান করে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি অনুসরণের মাধ্যমে ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে প্রতিটি ব্যাংককে তার খেলাপি ঋণের ন্যূনতম ১ শতাংশ নগদ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে হবে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিশ্চিতে ব্যাংকের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত