মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বিনিয়োগে বহু জটিলতা

আপডেট : ১৪ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

বাংলাদেশ ও জাপানের পতাকা প্রায় একই রকম শুধু নয়, আমাদের স্বাধীনতার পর থেকেই দেশটি নানা রকম সাহায্য-সহযোগিতা করে অন্যতম বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছে। অন্যতম উন্নত অর্থনীতির দেশটির নাগরিকদের প্রচ- নিয়মনিষ্ঠ ও কর্মানুরাগী বলে সুনাম আছে। এমনকি হোলি আর্টিজানের বোমা হামলায় সে দেশের বেশ কিছু নাগরিক জীবন হারালেও বাংলাদেশের প্রতি দেশটির বন্ধুত্ব, সাহায্য ও বিনিয়োগ কমেনি। স্বাধীনতার পর থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছর পর্যন্ত জাপানের ঋণ ও অনুদান এসেছে ২০ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলারের। ২০২২-২৩ অর্থবছরে জাপানের কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে ৭ কোটি ৮৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) করেছে, যা ওই অর্থবছরে আসা মোট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের ২ দশমিক ৪ শতাংশ।

অথচ, বাংলাদেশের নানা রকম আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দাপ্তরিক নীতির কারণে এদেশে কাজ করতে আসা জাপানিরা ভিসাপ্রাপ্তিতে গড়িমসিসহ নানা রকম বিড়ম্বনার মুখোমুখি হচ্ছেন। দেশ রূপান্তরের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, অতিরিক্ত করারোপ, শুল্ক ছাড়পত্র নিয়ে সমস্যা করা ও রেমিট্যান্স পাঠানোর নীতিসহ নানা বিষয়ে বাংলাদেশে কর্মরত ও বিনিয়োগ ইচ্ছুক জাপানিদের নানান অভিযোগ।

এ দেশে জাপানের ব্যবসায়ী-কর্মীরা যেসব সমস্যা মোকাবিলা করেন তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গত ৭ ফেব্রুয়ারি একটি বৈঠক হয়। বাংলাদেশ-জাপান পাবলিক প্রাইভেট যৌথ অর্থনৈতিক সংলাপের (পিপিইডি) অধীনে বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নতির জন্য ওয়ার্কিং গ্রুপের ওটা ছিল সপ্তম বৈঠক। বৈঠকে বিনিয়োগ কর্র্তৃপক্ষ বেজা, বেপজা, বিডা, এনবিআর, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আলোচিত বিভিন্ন বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কার্যবিবরণী গত ২১ এপ্রিল সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোতে পাঠানো হয়।

বৈঠকে জাপান কী কী বিষয় তুলে ধরেছে তা জানতে চাইলে ওই বৈঠকে অংশ নেওয়া কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীরা নানা তথ্য জানান। ২০১৯ সালের বিডা গাইডলাইন অনুযায়ী, ‘সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স অথরিটি’ বা নিরাপত্তা ছাড়পত্র কর্র্তৃপক্ষ ২১ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে বিডার কাছে ছাড়পত্র হস্তান্তর করবে। এ সময়ের মধ্যে কোনো আপত্তি জানাতে না পারলে ধরে নেওয়া হবে তদন্তে আপত্তি জানানোর মতো কিছু পায়নি সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষ। কিন্তু, জাপান দূতাবাসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই নিয়ম মানা হচ্ছে না।

নিরাপত্তা ছাড়পত্রসহ ভিসা প্রক্রিয়ার দীর্ঘ সময় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে জাপান, অর্থাৎ সময়মতো আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়ায় তাদের অতিরিক্ত করের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। তারা দ্রুত ভিসা ইস্যু করার অনুরোধ জানান। নানা রকম জটিলতায় ১০ মাসেও জাপানি কর্মীদের নিরাপত্তা সনদ না পাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ছাড়াও বাংলাদেশ সরকার চায় এদেশে কাজ করা বিদেশিরা তাদের বেতনভাতা এদেশের ব্যাংক থেকেই গ্রহণ করুক, কিন্তু জাপানি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে আরও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার স্বার্থে এ বিধান বাতিলের অনুরোধ জানিয়ে বেতনভাতা তাদের জাপানি ব্যাংকের হিসাবে পাঠানোর দাবি জানায়। শুল্ক ছাড়পত্র বিষয়ক জটিলতা কমানো, গ্যাসের দামের ওপর আরোপ করা ১০ শতাংশ সার্ভিস চার্জ প্রত্যাহার, বন্দর ব্যবহারের সময় কমানো এবং মেধাসম্পত্তির নিবন্ধন সহজ করার আবেদন জানিয়েছেন জাপানি প্রতিনিধিরা।

সরকারের তরফ থেকে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়। সরকারপ্রধান থেকে শুরু করে অন্যান্য নীতিনির্ধারক সরাসরি বিনিয়োগসহ যেকোনো ধরনের বিনিয়োগ আনার জন্য কঠিন শ্রম দেন। কিন্তু যেসব কর্মকর্তার হাতে দাপ্তরিক কাজ তারা সময়মতো তা না করলে বিনিয়োগ আসবে না। যারা এসেছে, তাদেরও আস্থায় রাখা যাবে না। তাদের সঙ্গে সৎ আচরণ করতে হবে। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটছে। শুধু জাপান নয়, অন্য বিনিয়োগকারীরাও একই ধরনের সমস্যা মোকাবিলা করছেন। এভাবে চলতে থাকলে বিনিয়োগ অঞ্চল, বিনিয়োগ কর্র্তৃপক্ষের উদ্দেশ্য পূরণ ব্যাহত হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত