মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

মস্কোর কৌশলে কিয়েভের দুর্বলতা

আপডেট : ১৪ মে ২০২৪, ১২:০২ এএম

ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর উপর চাপ বাড়াতে রাশিয়া এবার খারকিভ অঞ্চলে অভিযান শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত মূলত ইউক্রেনের দক্ষিণ ও পূর্ব প্রান্তে সামরিক তৎপরতা চালানোর পর মস্কো এবার নতুন জায়গায় হামলা শুরু করেছে। গত শুক্রবার থেকে খারকিভ অঞ্চলে যতটা সম্ভব জমি দখল করতে বড় অভিযান শুরু করেছে রুশ সেনাবাহিনী। ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই শহর থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরে ভোভচানস্ক শহরের উপকণ্ঠে দুই বাহিনীর মধ্যে জোরালো সংঘর্ষ চলছে। ইতিমধ্যে সেখানে পাঁটি গ্রাম দখলে নেওয়ার দাবি করেছে রাশিয়া। ইউক্রেনও বিষয়টি স্বীকার করেছে। দেশটির সেনা প্রধান ওলেক্সান্ডার সিরস্কি বলেছেন, তাদের সেনারা খারকিভের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটি কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছেন। সেখানে রুশ বাহিনী অগ্রসর হওয়ার কারণে আরও হাজার হাজার মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা মিত্রদের থেকে যথেষ্ট অস্ত্র হাতে পাওয়ার আগেই ইউক্রেনের দুর্বলতার সুযোগের সদ্ব্যবহার করার চেষ্টা করছে রাশিয়া। অস্ত্র পেতে যত বিলম্ব হবে দেশটির ভবিষ্যৎ ততই ঝুঁকিতে পড়বে। এর মধ্যে রাশিয়ায় অভ্যন্তরে হামলার ঘটনা ক্রেমলিনকে আরও তাঁতিয়ে দেবে।

গত রবিবার রাশিয়ার বেলগোরোড অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লক ধসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে করে কমপক্ষে ১৩ জন নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছে। রুশ কর্মকর্তাদের দাবি, ইউক্রেন থেকে চালানো হামলায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। একই দিন আরেক হামলায় আরও চারজন নিতহ হয়েছে অঞ্চলটিতে। রাশিয়ার জরুরিবিষয়ক মন্ত্রণালয় গতকাল সোমবার জানিয়েছে, ওইসব হামলার ঘটনায় ২৭ জন আহত হয়েছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ওইসব ঘটনাকে বর্বর হামলা উল্লেখ করে বলেছে, বেসামরিক নাগরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোকে টার্গেট করা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড।

ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর বক্তব্য অনুযায়ী, উত্তর পূর্বে খারকিভ অঞ্চলে অগ্রসর হওয়ার ২২টি প্রচেষ্টার মধ্যে ১৪টি ক্ষেত্রে রুশ বাহিনী কিছু ‘কৌশলগত সাফল্য’ পাচ্ছে। নিজস্ব সৈন্যদের প্রাণহানি উপেক্ষা করে রুশ বাহিনী বেপরোয়া অভিযান চালাচ্ছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, রুশ বাহিনীর এমন বড় আকারের অভিযানের মুখে নিরীহ মানুষের উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবীরা আক্রান্ত এলাকার মানুষদের অতি প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সঙ্গে নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে চলে যাওয়ার আবেদন জানাচ্ছেন।

সেনা প্রধান ওলেক্সান্ডার সিরস্কি টেলিগ্রামে সিরস্কি লিখেছেন, এ সপ্তাহে খারকিভ অঞ্চলের পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে খারাপ হয়েছে। রাশিয়ান ফেডারেশনের সঙ্গে রাজ্য সীমান্ত বরাবর সীমান্তবর্তী এলাকায় যুদ্ধ চলছে। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা বাহিনী প্রতিরক্ষামূলক লাইন ও অবস্থান ধরে রাখার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছে। তিনি জানান, তীব্র যুদ্ধের মধ্যেই ইউক্রেন কমপক্ষে একটি সামরিক ইউনিট প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছে। রুশ সীমান্তবর্তী ইউক্রেনের কম সুরক্ষিত অঞ্চলের দখল নিচ্ছে রুশ বাহিনী।

খারকিভ আঞ্চলিক পুলিশের প্রধান ভলোদিমির টাইমোশকো বলেছেন, রুশ বাহিনী শহরের উপকণ্ঠে অবস্থান করছিল এবং তিন দিক থেকে এগিয়ে আসছে তারা। ইউক্রেনের নেতারা মস্কোর অগ্রগতির বিষয়টি নিশ্চিত না করলেও টাইমোশকো বলেছেন, স্ট্রিলেচা, পাইলনা ও বরসিভিকার দখল নিয়েছে রাশিয়া। এ অঞ্চলগুলো থেকে রুশ পদাতিক বাহিনী নিয়ে আসা হচ্ছে ক্লাইবোকে এবং লুকিয়েনসির গ্রামগুলোতে আক্রমণ চালানোর জন্য।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রবিবার বলেছিলেন, এ অঞ্চলের কিছু অংশ জুড়ে তীব্র যুদ্ধ চলছে। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষাকে বিভ্রান্ত ও দুর্বল করার চেষ্টা থেকেই এ আক্রমণ চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

প্রত্যাশিত পশ্চিমা সাহায্য আসার আগেই রাশিয়া ইউক্রেনের গোলাবারুদ ঘাটতির সুবিধা নিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। রুশ বাহিনী সামনের সারির অপেক্ষাকৃত শান্ত এলাকায় যুদ্ধ চালিয়ে উত্তর-পূর্বে ইউক্রেনীয় বাহিনীকে আটকে রেখে দক্ষিণে তীব্র যুদ্ধ চালাচ্ছে, যেটিতে শেষ পর্যন্ত মস্কো লাভবান হচ্ছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত