রোববার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

লেনদেনে সহজতা কাম্য

আপডেট : ১৩ মে ২০২৪, ১০:৪০ পিএম

লেনদেন মানুষের জীবনে নিত্যনৈমিত্তিক একটি বিষয়। পৃথিবীর সবাই কোনো না কোনোভাবে অর্থনৈতিক লেনদেনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। মানুষ যতই ধনাঢ্য বা দরিদ্র হোক না কেন, লেনদেন করতে অপরের সংস্পর্শে আসতেই হয়। সুতরাং লেনদেন একা একা সম্ভব নয়; বরং পরস্পর পরস্পরের কাছে আসতে হয়। তাই লেনদেনের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে সতর্কতা কাম্য। যেন লেনদেনের ক্ষেত্রে অপরজন অসুবিধায় পতিত না হয় এবং লেনদেন যেন পারস্পরিক সম্পর্ক বৃদ্ধির কারণ হয়। তাহলে আল্লাহতায়ালা এতে খুশি হবেন এবং তিনি এমন লেনদেনে অনেক বরকত দান করবেন।

সমাজে চলতে একে অপরের সঙ্গে যে লেনদেন সবচেয়ে বেশি হয় তা হলো বেচা-কেনা। তেমনি ঋণ আদান-প্রদানও করে থাকি আমরা। এখন বেচা-কেনা এবং ঋণ আদান-প্রদানে যদি আমরা সহজ হই তাহলে আল্লাহ আমাদের প্রতি সহজ হবেন। আমাদের গুনাহগুলো মাফ করে দেবেন।

বিক্রির ক্ষেত্রে সহজতা, যেমন : ক্রেতাকে ভালো পণ্য দেওয়ার চেষ্টা করা কিংবা ক্রেতার প্রয়োজন বিবেচনায় অল্প লাভে পণ্য বিক্রি করা। তেমনি ক্রেতা বাকি চাইলে তাকে সুযোগ দেওয়া অথবা কেনার পর ফেরত দিতে চাইলে গ্রহণ করা এবং মূল্য ফিরিয়ে দেওয়া ইত্যাদি। ক্রয়ের ক্ষেত্রে সহজতা হলো, কথামতো মূল্য পরিশোধ করে দেওয়া, কোনো টালবাহানা না করা। বিক্রেতার যাতে লাভ হয় সেদিকে খেয়াল রাখা ইত্যাদি। মোটকথা ক্রেতা-বিক্রেতা একে অপরের সুবিধার প্রতি লক্ষ রাখা।

ঋণ আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে সহজতার বিষয়টি আমরা সহজেই বুঝতে পারি। কারও প্রয়োজনে স্বতঃস্ফূর্ত ঋণ দেওয়াটাই ঋণগ্রহীতার সঙ্গে প্রথম সহজ আচরণ। এরপর সম্ভব হলে সে যে মেয়াদে ঋণ নিতে চায় তা গ্রহণ করা। তেমনি মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পরিশোধ করতে না পারলে তার প্রতি কঠোর আচরণ না করা, বরং তার সঙ্গে ভালো আচরণ করা। তেমনি ঋণগ্রহীতা ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে টালবাহানা না করা, খুব সমস্যা না থাকলে সময়মতো ঋণ পরিশোধ করা, সমস্যা থাকলে ঋণদাতাকে জানানো ইত্যাদি।

এভাবে লেনদেনে যে ব্যক্তি সহজতা অবলম্বন করবে ইনশাআল্লাহ আল্লাহ তাকে মাফ করে দেবেন, যেমন পূর্ববর্তী উম্মতের এক ব্যক্তিকে মাফ করে দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহতায়ালা পূর্ববর্তী উম্মতের এক ব্যক্তিকে ক্ষমা করে দিয়েছেন, কারণ সে বেচা-কেনার সময় সহজতা অবলম্বন করত। ঋণ আদায়ের সময় সহজতা অবলম্বন করত। অন্যের কাছে ঋণ ফেরতের সময়ও সহজতা অবলম্বন করত। (জামে তিরমিজি ১৩২০)

ঋণগ্রহীতাকে ছাড় দেওয়ার ফজিলত : ক্ষমার প্রতিদান ক্ষমা। যেমন আল্লাহতায়ালা সুরা আর রাহমানে বলেছেন, ‘ইহসানের প্রতিদান তো ইহসানই।’ আল্লাহতায়ালা হলেন ‘গাফফার’ তথা মহা ক্ষমাশীল। তিনি ছোট থেকে ছোট বাহানায়ও বান্দাকে ক্ষমা করে দেন। এমন রবের বান্দা যদি অপর বান্দাকে ক্ষমা করে দেয়, তবে তিনি কি বান্দাকে ক্ষমা না করে পারেন? আর যদি বান্দা ক্ষমাই করে এই আশায় যে, (এই ক্ষমার বিনিময়ে) আল্লাহ যেন তাকে ক্ষমা করে দেন, তাহলে আশা করা যায় আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেবেন।

আসুন, সবাইকে ক্ষমা করে দিই। এভাবে আমি সবাইকে ক্ষমা করে দিলাম। আখেরাতে আমার কারণে আর কেউ পাকড়াও হবে না, সবাইকে মাফ করে দিলাম, সব হক ছেড়ে দিলাম। তাহলে হতে পারে এর বিনিময়ে আল্লাহতায়ালাও আখেরাতে আপনাকে ঠেকাবেন না। আপনার সব গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন। এমনকি আশা করা যায়, আপনার ওপর যদি কারও হক বাকি থাকে তাহলে আল্লাহ তার জামিন হয়ে যাবেন, আপনার পক্ষ থেকে আল্লাহ তাকে খুশি করে দেবেন।

সুতরাং ক্ষমা পেতে ক্ষমা করুন। এমনকি ওই চোরকেও, যে আপনার শখের কোনো বস্তু চুরি করেছে। কারণ ক্ষমা না করলেও আপনি ওই বস্তু আর ফিরে পাচ্ছেন না। কিন্তু ক্ষমা করার কারণে তার চেয়ে আরও দামি জিনিস পরকালে ‘ক্ষমা’ লাভ করা সম্ভব। সুতরাং এটা তো লাভেরই সওদা! দুনিয়ার ছোট ছোট বিষয়ে ক্ষমার দ্বারা আপনি লাভ করতে পারেন মহা ক্ষমা। হতে পারে আল্লাহ জাহান্নাম থেকে ক্ষমা করে দেবেন ছোট কোনো বিষয়ে ক্ষমার কারণে।

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘এক ব্যক্তি লোকদের ঋণ দিত বা বাকিতে পণ্য দিত। সে তার খাদেম বা কর্মচারীকে বলত, যদি ব্যক্তি অসচ্ছল হয় তাহলে ছাড় দিয়ো (মাফ করে দিয়ো), আশা করা যায়, এর বিনিময়ে আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করে দেবেন। এরপর যখন সে (ইন্তেকাল করল এবং) আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করল, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিলেন। (সহিহ মুসলিম ১৫৬২)

তাই আসুন লেনদেনে সহজতা অবলম্বন করি। এতে পরস্পর পরস্পরের প্রতি সন্তুষ্ট থাকা যাবে। যা আল্লাহর সন্তুষ্টির কারণ হবে। আর আল্লাহ যার ওপর সন্তুষ্ট থাকবেন দুনিয়া ও আখেরাতে তার কোনো চিন্তা নেই।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত