মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

আইইইএফএ-এর গবেষণা

এলএনজি আমদানিতে সাশ্রয় হতে পারে ৪৬০ মিলিয়ন ডলার

আপডেট : ১৪ মে ২০২৪, ০৭:০৩ এএম

শিল্পে গ্যাসভিত্তিক ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ (কারখানায় নিজস্ব বিদ্যুৎব্যবস্থা) উৎপাদনে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং জেনারেটর থেকে নির্গত তাপের উৎপাদনশীল ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) পরিমাণ ৫০.১৮ বিলিয়ন ঘনফুট হ্রাস করা সম্ভব। এতে বছরে সাশ্রয় হবে প্রায় ৪৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

এমন পদক্ষেপ বাংলাদেশের ব্যয়বহুল আমদানিনির্ভরতা কমানোর ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) এক গবেষণায় উঠে এসেছে।

সংস্থাটি জ্বালানির বাজার, এর প্রবণতা এবং নীতিসম্পর্কিত বিষয়গুলো যাচাইয়ের কাজ করে। দেশের ক্রমবর্ধমান এলএনজির চাহিদা হ্রাসে, এ গবেষণায় ৫১টি শিল্প-কারখানার প্রায় ২৫০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ১২৪টি গ্যাসচালিত ক্যাপটিভ জেনারেটরের ওপর জরিপ চালিয়ে গবেষণা প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্যমতে, শিল্প খাতে গ্যাসচালিত ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ উৎপাদনের গড় দক্ষতা ৩৫.৩৮ এবং উচ্চ-দক্ষতার জেনারেটর ব্যবহারে এটি ৪৫.২ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব। এ ছাড়া পুরাতন ও অদক্ষ তথা ব্যয়বহুল জেনারেটরের বদলে জ্বালানি দক্ষ জেনারেটর লাগিয়ে এবং জেনারেটর থেকে নির্গত তাপকে কাজে লাগিয়ে আমদানি করা এলএনজির চাহিদা বছরে ৫০.১৮ বিলিয়ন ঘনফুট বা ২১ শতাংশ কমাতে পারে।

বাংলাদেশের জ্বালানি খাতবিষয়ক আইইইএফএর প্রধান বিশ্লেষক এবং গবেষণা প্রতিবেদনের লেখক শফিফুল আলম বলেন, ‘দেশের উন্নয়নে পর্যাপ্ত জ্বালানি আমদানির পরিকল্পনা করা হলেও, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মাত্রাতিরিক্ত অস্থিতিশীলতা, স্থানীয় মুদ্রার দরপতন এবং তার আর্থিক অভিঘাত মোকাবিলার বিষয় বিবেচনায় রাখা হয়নি। গ্যাসের ক্রমবর্ধমান চাহিদায় অস্থিতিশীল জ্বালানি এলএনজির ওপর নির্ভরশীলতা মাত্রাতিরিক্ত বাড়লে বাংলাদেশের অর্থনীতি আরও ঝুঁকিতে পড়বে।’

তিনি বলেন, ‘গ্যাসভিত্তিক ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানির অদক্ষ ব্যবহারের ফলে বছরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস খরচ হয়। গত দশকে ক্যাপটিভ জেনারেশনের গড় দক্ষতা ৩০ থেকে বেড়ে ৩৫.৩৮ শতাংশে উন্নীত হলেও এ খাতে আরও জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত