ক্রেতাশূন্য বাজারে বছরের তৃতীয় সর্বোচ্চ দরপতন

আপডেট : ১৪ মে ২০২৪, ১১:৫৭ পিএম

ফের ব্যাপক দরপতন হয়েছে পুঁজিবাজারে। গতকাল মঙ্গলবার দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মূল প্লাটফর্মে তালিকাভুক্ত ৩৯৬ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৩৩৯টির বা প্রায় ৮৬ শতাংশের দরপতন হয়েছে। বিপরীতে বেড়েছে মাত্র ২৯টির। লেনদেনের শেষাংশে এসে অন্তত ১৫০টি কোম্পানির শেয়ারে ক্রেতাশূন্য পরিস্থিতি ছিল। আর লেনদেনের মাঝামাঝি সময়ে ক্রেতাশূন্য শেয়ারের সংখ্যা ছিল ২৫০টিরও বেশি।

এ দরপতনে দেশের পুঁজিবাজারের প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৮১ পয়েন্ট হারিয়ে নেমেছে ৫৫৮৫ পয়েন্টে। সূচক পতনের হার ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ। চলতি বছরে এক দিনে সূচকের পতনে এটি তৃতীয় সর্বোচ্চ। এর আগে গত ১৫ এপ্রিল এক দিনের ৮৫ পয়েন্ট পতন ছিল এ বছরের সর্বোচ্চ। ™ি^তীয় সর্বোচ্চ ৮৪ পয়েন্ট পতন হয়েছিল গত ১৯ মার্চ। এ নিয়ে সর্বশেষ ছয় কার্যদিবসের মধ্যে পাঁচদিনের দরপতনে সূচক হারাল ১৪১ পয়েন্ট।

পুঁজিবাজারে এমন দরপতন হয়েছে, যখন বিদ্যমান সমস্যা কাটিয়ে কীভাবে বাজারের উন্নতি করা যায়, সে বিষয়ে ডিএসই সংশ্লিষ্ট প্রধান অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক করছে। গতকালও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছে স্টক এক্সচেঞ্জটি। সোমবার ধারাবাহিক বৈঠকটির শুরু হয়েছিল ব্রোকারেজ হাউজের শীর্ষ নির্বাহীদের সংগঠন সিইও ফোরামের সঙ্গে বৈঠক দিয়ে। আজ বুধবার ব্রোকার মালিকদের সংগঠন ডিবিএর সঙ্গে বৈঠক হবে। বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তারা জানান, সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এ দরপতন বলে মনে করছেন তারা। বিশেষত বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ ১৩ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে, এমন একটি খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এছাড়া সরকার আগামী অর্থবছরের জন্য সংকোচনমুখী বাজেট দিতে যাচ্ছে, এমন খবরও বিনিয়োগকারীদের নতুন করে বিনিয়োগে সতর্ক অবস্থায় নিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শীর্ষ এক ব্রোকারেজ হাউজের সিইও বলেন, রিজার্ভসহ অর্থনৈতিক সংকটের কথা এখন সরকারের উচ্চ মহলের মুখেও শোনা যাচ্ছে। সামষ্টিক অর্থনীতি যে ভালো নেই, এটা অর্থনীতিবিদরা অনেক দিন ধরে বলছেন। যখন বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগে স্থবিরতা চলছে, তখন সরকারের বিনিয়োগ হ্রাসের খবর পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এটাই স্বাভাবিক বলে মত দেন তিনি।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের কয়েকটি বড় ব্যাংক এবং বহুজাতিক কোম্পানি আন্তর্জাতিক হ্যাকিংয়ের কবলে পড়েছে বলে একটি খবর আর্থিক প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট কোম্পানি ও ব্যবসায়ীদের শীর্ষমহলে গুঞ্জন চলছে। এ খবর প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও রয়েছে। এ নিয়ে সুস্পষ্ট কোনো ধারণা কারও মধ্যে না থাকলেও বিনিয়োগে সতর্ক অবস্থায় চলে গেছেন বলে জানান তারা।

এদিকে একটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে বলা হচ্ছে, এক সপ্তাহ আগে ভারতীয় কিছু হ্যাকার বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ হ্যাক করে কয়েক বিলিয়ন ডলার নিয়ে গেছে। এ নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা দায়িত্বশীল কোনো মাধ্যমে এ বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ বা মন্তব্য করা হয়নি।

এ বিষয়ে এক মার্চেন্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, এটা ভয়ানক খবর। খবরটি যদি সত্য নাও হয়, তারপরও যে বিনিয়োগকারী শুনবে, সতর্কতার স্বার্থে সে শেয়ার বিক্রি করে বের হয়ে যাবে। গত কয়েকদিন ধরে দরপতন চললেও, গতকালের দরপতনের ধারা ছিল ভিন্ন। লেনদেন চলাকালে দেখা গেছে, দুই শতাধিক শেয়ার ক্রেতাশূন্য হয়েছে। অর্থাৎ কিছু বিনিয়োগকারী যেকোনো মূল্যে শেয়ার বিক্রি করে দিতে চেয়েছেন বলে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে হয়েছে। ফলে এটা সন্দেহ করা অনুচিত হবে না যে, ভারতীয় গণমাধ্যমে যে খবর মঙ্গলবার প্রকাশ হয়েছে, সে বিষয়ে আগাম তথ্য কিছু বিনিয়োগকারীর কাছে ছিল।

পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, একদিকে বিনিয়োগকারীদের থেকে শেয়ার বিক্রির চাপ, অন্যদিকে মার্জিন ঋণে কেনা শেয়ারে নিয়মিত ‘ফোর্সসেল’ও হচ্ছে। এ অবস্থাও দরপতনকে উসকে দিচ্ছে। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রতিটি খাতের ২/৪টি ছাড়া বাকি সব শেয়ার দর হারিয়েছে। খাতওয়ারি হিসাবে সর্বাধিক পৌনে ৩ শতাংশ দরপতন হয়েছে কাগজ ও ছাপাখানা খাতে। ব্যাংক খাতে ১ শতাংশ, বীমা খাতে সোয়া ২ শতাংশ দরপতন হয়েছে। অন্য সব খাতে দরপতন ছিল ১ শতাংশের বেশি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত