রোববার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

এটাই সম্ভাব্য সেরা দল

আপডেট : ১৫ মে ২০২৪, ১২:০১ এএম

নির্বাচকরা ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য যে দলটা ঘোষণা করেছেন, এটাই আসলে এই মুহূর্তে সম্ভাব্য সেরা দল। সাইফউদ্দিনকে না দেখে আর তাসকিন আহমেদকে সহ-অধিনায়ক হিসেবে দেখে খানিকটা অবাকই হয়েছি। তবে পরিবর্তন করাই হয় আসলে ভালোর জন্য। সেই ভালোটা দেখতে হবে আমাদের জন্য ভালো কি না, সবার জন্য পরিবর্তন ভালো নাও হতে পারে। সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় যারা কাজ করেন, তারা যদি সঠিক সিদ্ধান্ত নেন তাহলে দেশ উপকৃত হবে, বাংলাদেশের ক্রিকেট উপকৃত হবে।

বাংলাদেশের যে ১৫ জন ক্রিকেটার বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছেন, আমার মনে হয় এই মুহূর্তে তাদের চেয়ে ভালো কাউকে দেশে রেখে যাওয়া হচ্ছে না। সাইফউদ্দিনের কথা যদি বলি, তার ফিটনেস একটা ইস্যু। তার ওপর ডেথ ওভারে সে একটু খরুচে হয়ে যাচ্ছে। তার জায়গায় তানজিম হাসান সাকিব সুযোগ পেয়েছে যে অনেক দিন ধরেই দলের সঙ্গে আছে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিয়মিত। দল নিয়ে কোচ, টিম ম্যানেজমেন্ট সবারই একটা পরিকল্পনা থাকে। সেই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন কাদের দিয়ে সবচেয়ে ভালো হবে সেটা চিন্তা করেই দল নির্বাচন করা হয়। দলটা ভারসাম্যপূর্ণ, এখানে তারুণ্য এবং অভিজ্ঞতার মিশেল আছে। দলে লেগস্পিনার, অফস্পিনার, বামহাতি স্পিনার, ডানহাতি পেসার, মিডিয়াম পেসার, বামহাতি পেসার...অনেক বোলিং বৈচিত্র্য আছে। যেহেতু আমেরিকা এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজে খেলা হবে এবং আমেরিকার উইকেট কেমন হবে আমাদের ধারণা কম সেক্ষেত্রে বোলিং বৈচিত্র্যটা আমাদের কাজে লাগবে।

সবশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের যে বাংলাদেশ দলটা ছিল আর এই দলে অনেক পার্থক্য। প্রায় সাত-আট জন খেলোয়াড় নেই। তাদের জায়গা নিয়েছে নতুনরা। কেউ মাত্র চার পাঁচটা আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেই বিশ্বকাপে চলে যাচ্ছে। আগের নির্বাচক প্যানেল চলে গেছে, নতুন নির্বাচক প্যানেল এসেছে। তাদের কাছে আমার প্রত্যাশা খেলোয়াড় নির্বাচনে ধারাবাহিকতা রাখার। কাউকে তৈরি হওয়ার আগেই জাতীয় দলে এনে তারপর ছুড়ে ফেলার যে সংস্কৃতি সেখান থেকে বেরিয়ে আসাটা প্রয়োজন। বিশ্বের বেশিরভাগ বড় দলগুলোতে একটা কোর গ্রুপ থাকে, সেখান থেকে হয়তো চার পাঁচজন পরিবর্তন হয়ে। কেউ খেলা ছেড়ে দেয়, কারও চোট বা অফ ফর্ম থাকে। আমাদের অধিনায়ক, সহ-অধিনায়ক থেকে শুরু করে অনেক পরিবর্তন মাত্র দেড় বছরে।

বিশ্বকাপে ভাগ্যের ওপর ভর করে খুব বেশি দূর অগ্রসর হওয়া যায় না। টি-টোয়েন্টিতে হয়তো একটা নির্দিষ্ট দিনে একটা ম্যাচে অনেক কিছু নিজেদের পক্ষে এলে জেতা সম্ভব, তবে এখনই বাংলাদেশ সেমিফাইনাল খেলে ফেলবে এমন প্রত্যাশা করি না। আসলে ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া কিংবা ইংল্যান্ড যে পর্যায়ের সামর্থ্য রাখে টি-টোয়েন্টিতে, তারা যেভাবে খেলে আমরা এখনো সেই পর্যায়ে উন্নীত হইনি। তারপরও আশা করছি বাংলাদেশ চোখে চোখ রেখে লড়াই করবে, সহজে হাল ছেড়ে দেবে না প্রতিপক্ষের সামনে। নিজেদের চারিত্রিক দৃঢ়তা, জয়ের ক্ষুধা তারা দেখাবে বিশ্বমঞ্চে। খেলায় হারজিত থাকবেই। বাংলাদেশ যেন খেলা শেষ হওয়ার আগে হেরে না যায় এটাই প্রত্যাশা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত