উৎপাদনে ফিরল চাঁদপুরের ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র

আপডেট : ১৫ মে ২০২৪, ০৬:৪৬ এএম

দুই দফা বন্ধের পর উৎপাদনে ফিরেছে চাঁদপুরের ১৫০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র। গত সোমবার রাত থেকে কেন্দ্রটির ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন গ্যাস টারবাইন ইউনিট চালু হয়।

তবে এখনো সচল হয়নি ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন স্টিম টারবাইন ইউনিট। কেন্দ্রটিতে পুনরায় উৎপাদন শুরু হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

চাঁদপুর বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক নূরুল আবছার বলেন, এই কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি যুক্ত হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে। যা চাঁদপুর ও এর আশপাশের জেলার বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও বলেন, গ্যাস টারবাইন ইউনিট চালুর পাশাপাশি ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন স্টিম টারবাইন ইউনিটটিও সচলে কাজ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ পৌঁছে গেছে বিদ্যুৎকেন্দ্রে। অল্প সময়েই চায়না থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন যোগ দেবে রিফেয়ারিং কাজে।

বর্তমানে গ্যাস টারবাইনের মাধ্যমে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফুয়েল খরচ হয় প্রায় ৫ টাকা, যা স্টিম টারবাইন চালু হলে আরও কমে আসবে বলে জানান বিদ্যুৎকেন্দ্রের এই কর্মকর্তা।

২০১২ সালে উৎপাদনে আসা কেন্দ্রটি নিয়মিত পরীক্ষার অংশ হিসেবে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ২০২৩ সালের মার্চে গ্যাস টারবাইন ইউনিটটি চালু করতে গেলে ধরা পড়ে গ্যাস বুস্টার যন্ত্রের ত্রুটি। রিজার্ভে থাকা গ্যাস বুস্টারটি আগে থেকে অকেজো থাকায় বন্ধ হয়ে যায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটি।

পরে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে গ্যাস বুস্টার ক্রয়সহ আমেরিকা থেকে আনা হয় প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি। এক্সপার্ট টিম ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকৌশলীদের যৌথ প্রচেষ্টায় সম্পন্ন হয় নতুন গ্যাস বুস্টার ইনস্টলেশনের কাজ। দীর্ঘ ১৪ মাস বন্ধ থাকার পর গত ১৮ মার্চ উৎপাদনে আসে ইউনিটটি। তবে উৎপাদনে যাওয়ার মাত্র ১৭ দিন পর একটি জেনারেটরের বেয়ারিং-এ ওয়েল লিকেজ থেকে ঘটা অগ্নিকা-ের ঘটনায় পুনরায় বন্ধ হয়ে যায় কেন্দ্রটি। অবশেষে প্রায় ১ মাস ১০ দিন পর শুরু হয় বিদ্যুৎ উৎপাদন।

২০১০ সালের ২৫ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ২০১২ সালের মার্চ মাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করে কেন্দ্রটি। চীনা কোম্পানি চেংদা ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণ করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত