বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

গোপন নথি ফাঁস

দুবাইতে গোপন সম্পদের মালিক পাকিস্তানি প্রেসিডেন্টের পরিবারও

  • পাকিস্তানের ১৭ হাজার নাগরিক দুবাইতে ১২.৫ বিলিয়ন ডলারের সম্পদের মালিক
  • দুবাইয়ে বিদেশিদের সম্পদের দিক থেকে শুরুতে ভারত, এরপরই পাকিস্তানের অবস্থান
আপডেট : ১৫ মে ২০২৪, ০১:৫৫ পিএম

বিশ্বের অন্যতম আধুনিক ও বিলাসবহুল শহর আরব আমিরাতের দুবাই। গোপনে বিপুল সম্পদের মালিকানা অর্জনের একটি আকর্ষণীয় জায়গা হয়ে উঠেছে এটি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ধনকুবেররা দুবাইয়ের আবাসন খাতের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন।

সম্প্রতি এই শহরে বিশ্বের কোন কোন ধনকুবেরের কি পরিমাণ গোপন সম্পদ রয়েছে তা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। আর সেখানে দেখা গেছে চমকপ্রদক তথ্য। অবৈধ তহবিল ব্যবহার করে অনেক ধনকুবের দুবাইতে সম্পদ গড়ছেন বা বিনিয়োগ করছেন বলা হয়েছে প্রতিবেদনে। এতে অর্থ পাচার হওয়ার ব্যাপারে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক দ্য অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যান্ড করাপশন রিপোর্টিং প্রজেক্টের (ওসিসিআরপি) এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

মঙ্গলবার (১৪ মে) প্রকাশিত ‘দুবাই আনলকড’ নামক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্থিক সংকটে জর্জরিত পাকিস্তানের ১৭ হাজার নাগরিক দুবাইতে ১২.৫ বিলিয়ন ডলারের সম্পদের মালিক। তবে তথ্য-উপাত্ত ও অতিরিক্ত সূত্র ব্যবহার করে এ সংখ্যা ২২ হাজারের মতো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারা ছাড়াও শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ, ব্যাংকার ও আমলারা সংযুক্ত আরব আমিরাতের অভিজাত এলাকাগুলোয় সম্পদের মালিকানা অর্জন করেছেন।

দুবাইয়ে প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির আছে দুটি সম্পদ। তার ছেলে বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি, বাখতাওয়ার ভুট্টো জারদারি ও তার মেয়ে আসিফা ভুট্টো জারদারিও এ সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

এছাড়া দেশটির সাবেক সেনাশাসক জেনারেল পারভেজ মোশাররফেরও আছে একটি সম্পদ।

অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভির স্ত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের ছেলে হুসেন নওয়াজ শরিফ, রাজনীতিবিদ শারজিল মেমন, সিনেটর ফয়সাল ভাউদা, জাতীয় পরিষদের কয়েকজন সদস্য এবং সিন্ধু ও বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদের কয়েকজন সদস্যের নাম আছে। রোশান হুসেন ও হুসেন জাহুর নামের দুই পাকিস্তানি ধনকুবের নামও আছে এ তালিকায়।

তালিকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শওকত আজিজ, কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল, একজন পুলিশপ্রধান, একজন দূত ও একজন বিজ্ঞানীর নামও আছে। তাঁরা কেউ সরাসরি সম্পদের মালিকানা অর্জন করেছেন, কেউ স্বামী-স্ত্রী বা সন্তানের নামে সম্পদ কিনেছেন।

ওমনি গ্রুপের আসলাম মাসুদ, সোহরাব দিনশাউ, হামিদ মুখতার শাহও দুবাইয়ে বিলাসবহুল আবাসনের মালিক।

ফাঁস হওয়া তথ্যানুসারে, দুবাইয়ে বিদেশিদের মালিকানায় থাকা সম্পদের দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে আছে ভারত। এরপরই পাকিস্তানের অবস্থান।

প্রতিবেদনটি মূলত ২০২০ থেকে ২০২২ সালের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে।

ভুট্টো পরিবারের প্রতিক্রিয়া

এদিকে প্রতিবেদন প্রকাশের পর পাকিস্তানজুড়ে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হলে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি। এ সম্পত্তি বৈধ এবং ট্যাক্স রিটার্নে তালিকাভুক্ত বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন দলটি।

এক বিবৃতিতে বিলাওয়ালের মুখপাত্র জুলফিকার আলি বাদের বলেন, বিলাওয়াল এবং আসিফার সমস্ত দেশী এবং বিদেশী সম্পত্তির বিষয়ে পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন (ইসিপি) এবং ফেডারেল বোর্ড অফ রেভিনিউ জ্ঞাত আছে।

তিনি আরও বলেন, এসব সম্পদে নতুন বা অবৈধ কিছু নেই। এগুলো আগে থেকেই জানা ছিল।

অন্যদিকে পিপিপি দলের ভাইস প্রেসিডেন্ট শেরি রেহমান বিরোধী দলের সমালোচনাকে বিলাওয়ালের সম্পত্তিতে "দুর্নীতি খোঁজার ব্যর্থ প্রচেষ্টা" বলে অভিহিত করেছেন।

এছাড়া পাকিস্তানের সাবেক জলবায়ু মন্ত্রী বলেন, বেনজির ভুট্টো দুবাইতে নির্বাসনে থাকাকালীন সম্পত্তি কিনেছিলেন, এবং এই সম্পত্তিতে তিনি তার সন্তানদের উত্তরাধিকারী হিসেবে নামকরণ করেছিলেন।

সূত্র: পাকিস্তানি গণমাধ্যম জিও টিভি ও দ্যা ডন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত