শুক্রবার, ৩১ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

অভিবাসন নীতিতে ভোটের রাজনীতি

আপডেট : ১৫ মে ২০২৪, ১১:৫০ পিএম

আসন্ন ইউরোপীয় পার্লামেন্ট নির্বাচনের ঠিক আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলো বহিরাগতদের রাজনৈতিক আশ্রয় সংক্রান্ত নীতির ব্যাপক সংস্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত মঙ্গলবার ইইউ অভিবাসন ও রাজনৈতিক আশ্রয় সংক্রান্ত নতুন বোঝাপোড়ার অংশ হিসেবে দশটি আইন অনুমোদন করেছে। সেই একক ইউরোপীয় নীতির আওতায় অবৈধ বহিরাগতদের ঢল সামলাতে একগুচ্ছ পদক্ষেপ স্থির করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের আপত্তির কারণে হাঙ্গেরি ও পোল্যান্ড এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে ভোট দিলেও সেটি থামাতে ব্যর্থ হয়েছে। নতুন সংস্কারের ফলে শুধু ইইউর সীমান্তবর্তী দেশগুলোকে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বোঝা সামলাতে হবে না, বাকিদেরও সংহতি দেখাতে হবে। তবে কোনো সদস্য দেশ তাদের আশ্রয় দিতে না চাইলে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

ইউরোপের মূল স্রোতের রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের ঠিক আগে অভিবাসন ও আশ্রয় সংক্রান্ত কড়া পদক্ষেপ নিয়ে ভোটারদের মন জয় করার আশা করছে। কট্টর দক্ষিণপন্থি ও পপুলিস্ট দলগুলো এতকাল মানুষের মনে বহিরাগতদের ঢল সংক্রান্ত উদ্বেগ কাজে লাগিয়ে সমর্থন আদায়ের যে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল, ইউরোপীয় স্তরে নতুন সমাধানসূত্র সেই হাতিয়ার কিছুটা হলেও ভোঁতা করে দেবে বলে অন্যান্য রাজনৈতিক শিবির মনে করছে। বিশেষ করে ২০১৫ সালে সিরিয়া ও ইরাকের যুদ্ধের কারণে প্রায় এক কোটি বহিরাগত ইইউতে প্রবেশ করার পর জনসংখ্যার একটা উল্লেখযোগ্য অংশের মনে বিষয়টি নিয়ে কড়া মনোভাব দেখা যাচ্ছে।

আগামী ৬ থেকে ৯ জুন ইউরোপীয় পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিভিন্ন জনমত সমীক্ষায় চরম দক্ষিণপন্থি ও পপুলিস্ট দলগুলোর প্রতি যথেষ্ট সমর্থন দেখা যাচ্ছে। মঙ্গলবারের সিদ্ধান্তের পর বাকি দলগুলো নির্বাচনী প্রচারে বিষয়টি তুলে ধরে কতটা সমর্থন ফিরে পেতে পারে, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরই তা জানা যাবে। তবে ইইউর এই সংস্কারের উদ্যোগ ২০২৬ সাল থেকে কার্যকর হবে। ভোটারদের মনে এতটা ধৈর্য আছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। ২০২৩ সালে প্রায় ৩৫ লাখ মানুষ আইনি পথে ইউরোপে প্রবেশ করেছে। অন্যদিকে প্রায় দশ লাখ মানুষ অনুমতি ছাড়াই ইইউ দেশগুলোতে বাস করছে। তার মধ্যে বৈধ ভিসা নিয়ে ইউরোপে প্রবেশ করে থেকে যাওয়া মানুষের ক্ষেত্রে নতুন সংস্কারের উদ্যোগ কার্যকর হবে না। অর্থাৎ গত বছর যে প্রায় তিন লাখ মানুষ বিনা অনুমতিতে ইউরোপে প্রবেশ করেছে, শুধু তাদের মতো অভিবাসন ও আশ্রয়প্রত্যাশীদের ক্ষেত্রেই নতুন নিয়ম প্রয়োগ করা হবে।

ইউরোপের মানুষের উদ্বেগ কাটাতে বহিরাগতদের ঢল সামালানোর কড়া উদ্যোগ সম্পর্কে সমালোচনাও কম নয়। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আটক করা, এমনকি শিশুদেরও আঙুলের ছাপ নথিভুক্ত করার মতো ক্ষমতা নিয়ে বিতর্ক দূর হয়নি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত