মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানত কমেছে ৮৮৩২ কোটি

আপডেট : ১৬ মে ২০২৪, ০৬:০৯ এএম

ঋণ অনিয়মসহ নানা কারণে দেশের ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোর ওপর মানুষের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। এতে ব্যাংকগুলো থেকে আমানত তুলে নিচ্ছেন গ্রাহকরা। এ ছাড়া উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার বাড়তি খরচ মেটাতেও সঞ্চয় ভাঙছেন তারা। এসব কারণে গত জানুয়ারিতে ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোতে আমানত কমেছে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা। তবে ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোতে আমানত কমলেও প্রচলিত ব্যাংকগুলোর ইসলামি শাখাগুলোতে গ্রাহকরা সঞ্চয় বাড়াচ্ছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মাসভিত্তিক ইসলামি ব্যাংকিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স স্ট্যাটিস্টিকস প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। অবশ্য আমানত কমলেও ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ বেড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নিয়মিত ধার করা এসব ব্যাংক গত জানুয়ারিতে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ বা বিনিয়োগ করেছে।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত ডিসেম্বরে ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোতে মোট আমানতের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৮৪ হাজার ১৩৬ কোটি টাকা, যা চলতি বছরের জানুয়ারিতে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৩০৪ কোটি টাকায়; অর্থাৎ মাসের ব্যবধানে আমানত কমেছে ৮ হাজার ৮৩২ কোটি টাকা। একই সময়ে এসব ব্যাংকের বিনিয়োগ বেড়েছে ৩ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা। গত ডিসেম্বরে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৪৫ হাজার ৪৩০ কোটি টাকা, যা জানুয়ারিতে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৭৩ কোটি টাকায়।

এদিকে ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোর আমানত কমলেও প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলোর ইসলামি ব্যাংকিং শাখাগুলোয় আমানত বেড়েছে ২ হাজার ১৫৩ কোটি টাকা। ডিসেম্বরে প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলোর ইসলামি ব্যাংকিং শাখাগুলোয় আমানতের পরিমাণ ছিল ২১ হাজার ১১৮ কোটি টাকা। জানুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ২৭০ কোটি টাকা। যদিও একই সময়ে প্রচলিত এসব ব্যাংকের ইসলামি ব্যাংকিং উইন্ডোগুলো ১ হাজার ৮১৬ কোটি টাকা আমানত হারিয়েছে। 

সব মিলিয়ে গত জানুয়ারি শেষে ব্যাংক খাতে ইসলামি ধারার ব্যাংকিংয়ে মোট আমানতের পরিমাণ ৪ লাখ ১৩ হাজার ৯৬৯ কোটি টাকা। আগের মাস ডিসেম্বরে আমানত ছিল ৪ লাখ ২২ হাজার ৪৬৪ কোটি টাকা; অর্থাৎ মাসের ব্যবধানে ইসলামি ধারার ব্যাংকিংয়ে আমানত কমেছে ৮ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা।

আমানত কমে যাওয়ায় ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলো এখন সুদেও টাকা ধার করছে। সম্প্রতি একটি ইসলামী ব্যাংকের শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং নীতিমালা লঙ্ঘন করে সুদের বিনিময়ে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের টাকা ঋণ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। নীতিমালা অনুযায়ী, শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলো সুদ গ্রহণ বা পরিশোধ করতে পারে না।

এদিকে শরিয়াহভিত্তিক আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের একটি শাখা তারল্যসংকটে থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন গ্রাহকরা। গ্রাহকরা চাইলেও তাদের সঞ্চয়ের অর্থ ফেরত পাচ্ছেন না। মৌলভীবাজারের গ্রাহকরা ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে না পেরে হতাশ হয়ে ফিরছেন খালি হাতে। ফলে উদ্বিগ্ন ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে।

জানা গেছে, গত রমজান মাস থেকে আইসিবি ব্যাংকে নগদ টাকা উত্তোলনে সমস্যা হচ্ছে। সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকার বেশি উত্তোলন করতে পারছেন না গ্রাহকরা। ফলে যেসব গ্রাহক ব্যবসায়িক বা অন্যান্য কাজের জন্য মোটা অঙ্কের টাকা তুলতে আসছেন, তাদের হতাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত