শিক্ষক সংকট নিয়েই ববিতে চালু হচ্ছে সান্ধ্যকালীন কোর্স

আপডেট : ১৬ মে ২০২৪, ০৮:১০ পিএম

শিক্ষক সংকট নিয়েই বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে এক্সিকিউটিভ এমবিএ প্রোগ্রাম নাম দিয়ে চালু হচ্ছে সান্ধ্যকালীন কোর্স। প্রাথমিকভাবে ব্যবসা অনুষদের চারটি বিভাগে চালু হচ্ছে এ কোর্স। এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যায়, আগামী ২৫ এ জুন কোর্সে ভর্তি হওয়ার জন্য প্রাথমিক আবেদনের ডেডলাইন দেওয়া হয়েছে।

তবে শিক্ষকসংকটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত বিশ্ববিদ্যালয়ে এ কোর্স চালুর বিষয়টি মরার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে দেখছেন শিক্ষার্থীরা।

এর আগে কোর্স চালুর বিষয়ে শিক্ষার্থীদের অবস্থান জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক সংগঠন ও সাংবাদিক সংগঠনকে নিয়ে মতবিনিময়সভায় বসেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সেখানে সেশনজট নিরসন করে চালু করলে এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের কোনো আপত্তি থাকবে না বলে প্রশাসনকে বলেন এসব সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতামত উপেক্ষা করেই এ ধরনের সিদ্ধান্তকে প্রশাসনের একরোখা সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন তারা।

গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগঠক সুজয় শুভ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ছাত্র-শিক্ষক অনুপাতে গোটা দেশের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন অবস্থানে থাকা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ববিতে সান্ধ্যকালীন কোর্স চালুর ব্যাপারটা সত্যিই অবিশ্বাস্য। অবকাঠামো ও শিক্ষক সংকটের কারণে যেখানে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পাঠদান প্রক্রিয়া ব্যহত হচ্ছে, শিক্ষার্থীরা সেশন জটে পড়ছে সেখানে সান্ধ্যকালীন কোর্স শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ আরও বাড়াবে ছাড়া কমাবে না।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সংগঠক আবিদ হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, নানা সংকটে জর্জরিত বিশ্ববিদ্যালয়টি। শিক্ষার্থীরা তাদের যথাযথ সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না। শিক্ষক সংকট, ক্লাসরুম সংকট, আবাসন সংকট৷ এর ওপর নতুন করে কোর্স চালু শিক্ষার্থীদের জন্য মঙ্গলজনক হবে না। তাই এ বিষয়ে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে আছি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মার্কেটিং বিভাগের শেষবর্ষের শিক্ষার্থী বলেন, বিভাগের শিক্ষকদের মাসির ন্যায় ব্যবহারের অপেক্ষা। এমনিতেই ফলাফল প্রকাশে দেরি। চার বছরের অনার্স শেষ হচ্ছে সাড়ে পাঁচ বছরে তার ওপরে এ ধরনের সিদ্ধান্ত মোটেও কাম্য নয়।

বিভাগগুলোতে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, ব্যবস্থাপনা বিভাগ ছাড়া বাকি তিনটি বিভাগেই সেশনজট রয়েছে। নেই শিক্ষার্থী অনুপাতে শিক্ষকও। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, অনুষদটির মার্কেটিং বিভাগের মোট শিক্ষক রয়েছে ১০ জন এর মধ্যে শিক্ষাছুটিতে রয়েছে ৩ জন, একাউন্টটিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগে শিক্ষক রয়েছে ৮ জন, শিক্ষাছুটিতে রয়েছে ১ জন, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগে শিক্ষক রয়েছে ১০ জন, শিক্ষাছুটিতে রয়েছে ১ জন। এরমধ্যে শুধু ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগে শিক্ষক রয়েছে ১০ জন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মনিরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ বিষয়ে ডিন (ব্যবসা অনুষদের) অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বিজ্ঞপ্তি ডিন অফিস থেকে দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা অনুষদের ডিন ড. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, এই কোর্সের সঙ্গে সেশনজটের কোনো সম্পর্ক নেই। এখানে মাত্র পাঁচটি কোর্স থাকবে। একজন শিক্ষক প্রতি সপ্তাহে দুদিন একটি করে ক্লাস নেবেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. বদরুজ্জামান ভূঁইয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, এটা সান্ধ্যকালীন কোর্স নয়। এটা প্রফেশনাল কোর্স। এটা সেশনজটের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। কারণ শুক্রবার ও শনিবার ক্লাস হবে। আরেকটা বিষয় হলো বিশ্ববিদ্যালয়ে সকলের শেখার অধিকার আছে। আমরা শুধু শুধু কাউকে কেন বঞ্চিত করব। আর সেশনজটের বিষয়ে আমি ইতোমধ্যে উদ্যোগ নিয়েছি, সামনে আরও উদ্যোগ নেব। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত