অন্যের ঘরে যেতে অনুমতির বিধান

আপডেট : ১৮ মে ২০২৪, ০২:৪৭ পিএম

ইসলাম অসৎবৃত্তির উৎপত্তি ও অসৎ প্রবণতা রোধে অশ্লীলতা দমন এবং সতীত্ব সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন বিধান জারি করেছে। এর মধ্যে অন্যতম বিধান হলো, অন্য কারও ঘরে প্রবেশের বিধান। জাহেলি যুগে আরববাসীরা নিঃসঙ্কোচে সরাসরি একজন অন্যজনের ঘরে প্রবেশ করে যেত। আল্লাহ এই প্রথা সংশোধনের জন্য এ নীতিনির্ধারণ করেন। কারণ প্রত্যেক ব্যক্তি, যেখানে সে অবস্থান করে, সেখানে তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করার অধিকার আছে এবং তার সম্মতি ও অনুমতি ছাড়া গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপ করার অন্য কারও অধিকার নেই।

তাই কারও ঘরে প্রবেশ করার আগে অনুমতি নেওয়া ও সালাম দেওয়ার বিধান ইসলাম জারি করেছে। আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘হে ইমানদাররা! তোমরা নিজেদের ঘর ছাড়া অন্যের ঘরে প্রবেশ করো না যতক্ষণ না গৃহবাসীদের সম্মতি লাভ করো এবং তাদের সালাম করো। এটিই তোমাদের জন্য ভালো পদ্ধতি, আশা করা যায় তোমরা এটাকে স্মরণ রাখবে।’ (সুরা নুর ২৭)

কারও ঘরে প্রবেশের জন্য অনুমতি চাওয়ার উপকারিতা অনেক। এর ফলে কারও স্বাধীনতায় বিঘ্ন ঘটে না। কারও বিশ্রামে ব্যাঘাত হয় না। ইসলাম কাউকে অহেতুক কষ্ট দেওয়াকে হারাম করেছে। এ ছাড়া অনুমতি নিয়ে কার সঙ্গে সাক্ষাতের ফলে স্বয়ং সাক্ষাৎপ্রার্থীর লাভ হয়। কোনো সাক্ষাৎপ্রার্থী যখন অনুমতি নিয়ে ভদ্রোচিতভাবে কারও সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে, তখন সাক্ষাৎদাতাও তার বক্তব্য যত্নসহকারে শুনবে। তার কোনো অভাব থাকলে তা পূরণ করার প্রেরণা তার অন্তরে সৃষ্টি হবে। এর বিপরীতে অভদ্রোচিত পন্থায় কোনো ব্যক্তির ওপর বিনানুমতিতে চড়াও হয়ে গেলে সে তাকে অকস্মাৎ বিপদ মনে করে যত শিগগির সম্ভব বিদায় করে দিতে চেষ্টা করবে এবং হিতাকাক্সক্ষার প্রেরণা থাকলেও তা নিস্তেজ হয়ে যাবে। অপরদিকে আগন্তুক ব্যক্তি কোনো মুসলমানকে কষ্ট দেওয়ার পাপে পাপী হবে।

কারও ঘরে প্রবেশের ক্ষেত্রে বা কারও সঙ্গে সাক্ষাতের প্রাক্কালে অনুমতি নিতে ওই ঘরের লোকদের সালাম দেওয়া ইসলামের বিধান। অনুমতি চাওয়ার পদ্ধতি হলো, নিজের নাম উল্লেখ করে অনুমতি চাইবে। অনুমতি নেওয়ার জন্য তিনবার ডাক দেওয়ার বিধান রয়েছে। আবার তিনবার ডাকা একের পর এক হওয়া উচিত নয়, বরং একটু থেমে থেমে হতে হবে। এর ফলে ঘরের লোকরা যদি কাজে ব্যস্ত থাকে এবং সে জন্য তারা যদি জবাব দিতে না পারে তাহলে সে কাজ শেষ করে জবাব দেওয়ার সুযোগ পাবে। অন্যথায় অনুমতি নেই ভেবে ফিরে আসতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত