চিংড়িঘেরে জোড়া লাশ বৈদ্যুতিক শকের চিহ্ন

আপডেট : ১৮ মে ২০২৪, ০৬:৩৮ এএম

কক্সবাজার সদর উপজেলার একটি চিংড়িঘের থেকে দুই যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে খুরুশকুল ইউনিয়নের মনুপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের পাশে একই ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য (মেম্বার) শামসুল আলমের চিংড়িঘের থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। মারধর ও ইলেকট্রিক শক দিয়ে ওই দুজনকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। এ ঘটনায় চিংড়িঘেরটির দুই শ্রমিককে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

নিহতরা হলেন খুরুশকুল ইউনিয়নের মনুপাড়া গ্রামের মো. জামালের ছেলে আবদুল খালেক এবং আবু তাহেরের ছেলে মো. ইয়াছিন। তারা দুজন পেশায় জেলে ছিলেন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

জানা গেছে, চিংড়িঘের এলাকায় লাশ দুটি দেখতে পেয়ে এলাকার লোকজন পুলিশে খবর দেয়। খুরুশকুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান সিদ্দিকী জানান, উদ্ধার হওয়া দুই যুবকের শরীরে বৈদ্যুতিক শকের চিহ্ন রয়েছে।

একই ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নাছির উদ্দিন বলেন, ‘নিহতদের বিরুদ্ধে নানা সময় চুরির অভিযোগ শোনা যেত। এলাকাবাসী ধারণা করছে, রাতে তারা মাছ চুরি করতে এলে ঘেরে লাগানো বৈদ্যুতিক তারে বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা যায়।’

তবে এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, নিহত দুজনের শরীরে মারধরের ও বৈদ্যুতিক শকের চিহ্ন রয়েছে। কে বা কারা তাদের হত্যা করেছে, তা জানা যায়নি। অবশ্য মরদেহ দুটি উদ্ধারের পর এলাকার লোকজন ঘেরমালিক শামসুল মেম্বারের বাড়ি ঘেরাও করে। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ঘেরের দুই শ্রমিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পুলিশ।

নিহত ইয়াছিন আরাফাতের মা বলেন, ‘আমার ছেলে গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাত ১০টার সময় বাড়ি থেকে বের হয়। আজ (গতকাল শুক্রবার) সকালে তার লাশ পাওয়া যায়। কে বা কারা তাদের হত্যা করেছে, সে বিষয়ে কিছুই জানি না।’

কক্সবাজার সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মছিউর রহমান বলেন, ‘সুরতহাল প্রতিবেদনে মরদেহের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, আঘাতগুলো বৈদ্যুতিক শকের। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।’ দুজনের মৃত্যুর কারণ জানতে চিংড়িঘেরের দুই শ্রমিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত