হাত কাটার প্রতিশোধ নিতে সাবেক চেয়ারম্যানকে হত্যা

আপডেট : ১৮ মে ২০২৪, ০৬:৪০ এএম

নড়াইলের লোহাগড়ার মল্লিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা কামালকে হত্যার ঘটনায় জড়িত অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। তারা ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন বলে দাবি র‌্যাবের।

তাদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাতে র‌্যাব বলেছে, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা হত্যার নেপথ্যে রয়েছে একই এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য (মেম্বার) আকবর হোসেন লিপনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এবং তাদের এ বিরোধকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে মোস্তফাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের এই বিশেষায়িত ইউনিটের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার আরাফাত ইসলাম এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের বায়েজিদ ও নড়াইল থেকে ওই চারজনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। তারা হলেনÑ সাজেদুল মল্লিক, পাভেল শেখ, মামুন মোল্যা ও রহমত উল্লাহ শেখ। গত ১০ মে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা কামালকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় তার বড় ভাই বাদী হয়ে লোহাগড়া থানায় একটি মামলা করেন।

কমান্ডার আরাফাত জানান, দীর্ঘ বিরোধের জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য জানা গেছে। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মোস্তফার সঙ্গে একই ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য আকবর হোসেন লিপনের শত্রুতা ছিল।

র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তার সাজেদুল স্থানীয় একটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের প্রথম বর্ষের ছাত্র। তিনি লিপনের অন্যতম সহযোগী। লিপনের নেতৃত্বে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত সাজেদুল। তার বিরুদ্ধে লোহাগড়া থানায় তিনটি মামলা রয়েছে। রহমত উল্লাহ শেখ পেশায় শ্রমিক। তিনি সাজেদুলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। মোস্তফা হত্যাকাণ্ডে ১ লাখ টাকার চুক্তিতে অংশ নেন তিনি। তার বিরুদ্ধে লোহাগড়া থানায় একটি মামলা রয়েছে। পাভেল স্থানীয় একটি স্কুল থেকে এসএসসি পর্যন্ত পড়ালেখা করেন। তিনি লিপনের অন্যতম সহযোগী। তার বিরুদ্ধে লোহাগড়া থানায় তিনটি মামলা রয়েছে। মামুন মোল্যা পেশায় একজন চালক। তিনি সরাসরি লিপনের নেতৃত্বে কাজ করেন। তার কাছে থাকা দেশি-বিদেশি অস্ত্র দিয়ে মোস্তফার ওপর হামলা করা হয়। মামুনের বিরুদ্ধে লোহাগড়া থানায় দুটি মামলা রয়েছে।

র‌্যাব কর্মকর্তা আরাফাত জানান, মোস্তফা ও লিপনের অনুসারীদের মধ্যে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে একটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে লিপন গুরুতর আহত হন। তার একটি হাত কাটা পড়ে। এ ঘটনার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য লিপন ও তার অনুসারীরা সুযোগ খুঁজতে থাকেন। লিপনের নির্দেশে তার ছোট ভাইয়ের বাড়িতে সাজেদুলসহ অন্যান্য আসামি মোস্তফাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত