বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে কিশোরীকে ‘দলবদ্ধ ধর্ষণ’

আপডেট : ১৯ মে ২০২৪, ০৫:১৮ এএম

পাবনার সুজানগরে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে দল বেঁধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার রাতে উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামের এ ঘটনার ভুক্তভোগীকে গতকাল শনিবার পাবনা সদর হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনে ওই কিশোরীর স্বজনরা পরাজিত প্রার্থী শাহীনুজ্জামান শাহীনকে ভোট দেওয়ায় প্রতিপক্ষের ইন্ধনে স্থানীয় বখাটেরা ধর্ষণের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীর পরিবারের।

এলাকাবাসী জানায়, ৮ মে সুজানগর উপজেলা নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শাহীনুজ্জামান শাহীনকে পরাজিত করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবদুল ওহাব। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই অশান্ত সুজানগর। বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনার পর এলাকায় ছড়াচ্ছে আতঙ্ক।

স্বজনরা জানান, শুক্রবার রাতে টয়লেটে যাওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হয় ওই কিশোরী। এ সময় তার মুখ চেপে ধরে পাশের নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে যায় বারেক, সাজিদ ও ইমন নামে তিন বখাটে। পরে সাব্বির ও তুহিন নামে আরও দুজন সেখানে এসে কিশোরীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। কিশোরীর চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে পালিয়ে যায় বখাটেরা।

এ ঘটনায় ওই কিশোরীর নানি বাদী হয়ে আবদুল বারেক মণ্ডল নামে এক যুবককে প্রধান আসামি করে ৫ জনের নামে সুজানগর থানায় মামলা করেছেন। আবদুল বারেক মন্ডল স্থানীয় ভাটপাড়া গ্রামের মো. উমেদ আলীর ছেলে। ধর্ষণের সময় কিশোরীর স্বর্ণালংকারও ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী কিশোরীর নানি ও মামলার বাদী বলেন, ‘গত ৮ মে নির্বাচনী ফলাফলের পর থেকেই নানাভাবে আমাদের হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল। তারই ধারাবাহিকতায় ৮ মে রাতে বিজয়ী আবদুল ওহাবের সমর্থক কামরুজ্জামান দয়ালের নির্দেশে আমার ছেলের দোকানে ভাঙচুর চালিয়ে দোকান বন্ধ করে দেয় বখাটেরা। হুমকি দেওয়া হয় বাড়ি থেকে বিতাড়িত করার। সেই ঘটনার জেরেই শুক্রবার রাতে আমার নাতনিকে পরিকল্পিতভাবে ধর্ষণ করেছে তারা।’

এ বিষয়ে সদ্য সমাপ্ত উপজেলা নির্বাচনে আনারস প্রতীকের পরাজিত প্রার্থী ও সুজানগর উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শাহীনুজ্জামান শাহীন বলেন, ‘সন্তানতুল্য ওই কিশোরীকে এমন অমানবিক নির্যাতনের ঘটনায় আমি বাকরুদ্ধ, মনে হচ্ছে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করাই আমার অপরাধ হয়েছে। বিজয়ী প্রার্থী আবদুল ওহাবের নির্দেশে তার কর্মী-সমর্থকরা সুজানগরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। থানার ওসি নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন। নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা রোধে পুলিশ তৎপর হলে এমন ঘটনা ঘটত না।’

তবে ধর্ষণের ঘটনার সঙ্গে রাজনীতি বা নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি বিজয়ী চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবদুল ওহাবের। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে পরাজিত হয়ে শাহীন ও তার সমর্থকরা সবকিছুকেই নির্বাচনী সহিংসতা বলে প্রচারণা চালাচ্ছেন। পুলিশ অপরাধীদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে, সেখানে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই।’

এ বিষয়ে সুজানগর থানার ওসি জালাল উদ্দিন বলেন, ‘ধর্ষণের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলছে। নির্বাচন-পরবর্তী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণেই আছে। সব অভিযোগ আমলে নেওয়া হচ্ছে, থানায় এ পর্যন্ত ১৪টি মামলা হয়েছে এবং আসামিদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।’

পুলিশ জানায়, স্কুলশিক্ষার্থী ধর্ষণের ঘটনায় আসামি হওয়া বারেকের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালেও ধর্ষণের অভিযোগে থানায় একটি মামলা হয়েছিল। ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী আত্মহত্যাও করে। অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে এলাকায় ইভটিজিং, চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

লৌহজংয়ে নির্বাচনী সহিংসতায় আহত ৫ : মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে উপজেলা নির্বাচনের প্রার্থী বিএম শোয়েবের ৫ কর্মীর ওপর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আবদুর রশিদ শিকদারের তিন ভাইয়ের হামলা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল শনিবার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার বৌলতলী ইউনিয়নের ধারারহাট এলাকায় জুয়েল হাওলাদার ও দিদার হাওলাদার নামে বিএম শোয়েবের দোয়াত-কলম প্রতীকের দুই কর্মীর ওপর হামলা করা হয়। এ সময় তাদের রক্ষা করতে এসে হামলার শিকার হন জিয়াউল হাওলাদার, টুটুল হাওলাদার ও সাইদুল হাওলাদার নামের আরও তিন কর্মী।

স্থানীয়রা জানান, প্রথমে হামলা করেন কাপ-পিরিচ প্রতীকের প্রার্থী আবদুর রশিদ শিকদারের তিন ভাই ফয়সাল শিকদার, ফারুক শিকদার ও ফোরহাদ শিকদার। ফয়সাল শিকদার বৌলতলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

হামলার শিকার জুয়েল হাওলাদার বলেন, ‘আমি ও দিদারকে ধারারহাট মসজিদের সামনে পেয়ে ফয়সাল শিকদাররা তিন ভাই আমাদের দুজনকে কিলঘুসি মারেন। এরপরই তাদের অনুসারীরা আমাদের লাঠি, হকিস্টিক ও রড দিয়ে পেটায়। এ সময় ফয়সাল শিকদার আমাদের ভোটের আগে এলাকা দ্রুত ত্যাগ করার নির্দেশ দেন। হামলায় আহত হলেও তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা না নিতে লোকজন দিয়ে সড়কে পাহারা দিয়ে রেখেছেন বলে জানিয়েছেন দিদার হাওলাদার।’

হামলার বিষয়ে ফয়সাল শিকদার বলেন, ‘জুয়েল হাওলাদার ও দিদার হাওলাদারের ওপর কোনো হামলা হয়নি। তারা দুজন আমার ভাই রশিদ শিকদারের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।’

লৌহজং থানার ওসি খন্দকার ইমাম হোসেন বলেন, ‘ঘটনাস্থলে আমাদের টিম গিয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থা করছে। তদন্ত চলছে। তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

প্রতিবেদনটিতে তথ্য দিয়েছেন লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত