দলবেঁধে হঠাৎ ক্ষেপে উঠছে কুকুর। রাজধানীর ডেমরায় কুকুরের কামড়ে এক শিশুর মুখমন্ডল ক্ষতবিক্ষত হওয়ার পর এবার কুকুরের কামড়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌর শহরে দলবদ্ধ কুকুরের কামড়ে জখম হয়ে ইজাজুল (৩২) নামে ওই যুবকের মৃত্যু হয়। গতকাল রবিবার ভোরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পশ্চিমে নরসুন্দা নদীর পাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ইজাজুল উপজেলার শেরপুর ইউনিয়নের উত্তর শেরপুর গ্রামের মৃত ছমির উদ্দিনের ছেলে। ইজাজুল একটি ওষুধ কোম্পানির বিপণন কর্মকর্তা ছিলেন। ঘটনাস্থলের পাশে একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন তিনি।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, ভোরে বাসার পাশের মসজিদে ফজরের নামাজ শেষে রাস্তায় হাঁটতে বের হন ইজাজুল। রাস্তার ওপর শুয়ে থাকা একদল হিংস্র কুকুরের সামনে পড়েন তিনি। কুকুরগুলো ইজাজুলকে কামড়ে ক্ষতবিক্ষত করে। তার পেটের নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে যায় এবং মুখমণ্ডলসহ শরীরের অন্যান্য অংশ ক্ষতবিক্ষত হয়। এ সময় কুকুরের ডাকের উচ্চশব্দের কারণে ইজাজুলের আর্তচিৎকার আশপাশের কেউ শুনতে পাননি, ফলে তাকে বাঁচাতে কেউ এগিয়েও আসেননি। পরে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুস সালাম বলেন, ‘আমার জীবনে কখনো দেখিনি কুকুর মানুষকে এভাবে কামরায়, এটা বিরল ঘটনা। বেওয়ারিশ কুকুর নিধনের জন্য প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবার যথাযথ পদক্ষেপ কামনা করছি।’
ইজাজুলের প্রতিবেশী শরিফ মিয়া বলেন, ‘ছেলেটা (ইজাজুল) অত্যন্ত সহজ-সরল ছিল। নিয়মিত নামাজ আদায় করত। মার্কেটিংয়ের চাকরি করে যা পেত তাই দিয়ে সংসার চালাত। তার এমন মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা জনি মিয়া বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে সংঘবদ্ধ কুকুরের দল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য মানুষ, গরু, ছাগলকে কামড়িয়ে আহত করেছে। আমার নিজের একটি ছাগলকে কামড়িয়েছে, এখন ভ্যাকসিন পর্যন্ত খুঁজে পাচ্ছি না। এসব বেওয়ারিশ কুকুর নিধনে প্রশাসনের জরুরিভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার।’ নান্দাইল মডেল থানার ওসি আবদুল মজিদ জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পরে পরিবারের কাছে নিহতের লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।
এর আগে গত ২৯ এপ্রিল রাজধানীর ডেমরায় বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে মাহিনুর আক্তার নামে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশু গুরুতর আহত হয়। চারটি কুকুরের কামড়ে শিশুটির মুখমণ্ডল ও মাথা ক্ষতবিক্ষত হয়। এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কুকুরের কামড়ে অনেকের আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
