পাবনার সুজানগরে স্কুলছাত্রীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ওই ছাত্রীর এলাকার বাসিন্দারা। গতকাল রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের ভাটপাড়ায় নির্যাতনের শিকার ওই ছাত্রীর বাড়ির সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় এই ধর্ষণকাণ্ডে জড়িত বখাটেদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানানো হয়।
এলাকাবাসী জানায়, গত ৮ মে উপজেলা নির্বাচনের পর থেকে সুজানগরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। বাড়িঘরে হামলা, মারধর, ভাঙচুরের পর বাড়ি থেকে স্কুলছাত্রীকে তুলে নিয়ে দল বেঁধে ধর্ষণের এ ঘটনা বর্বরতার সব সীমা ছাড়িয়েছে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ভাটপাড়া এলাকার সাবিনা খাতুন বলেন, ‘কয়েক দিন হলো দেখছি এলাকায় বখাটেদের উৎপাত খুব বেড়ে গেছে, বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুর থেকে শুরু করে এখন ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে তারা। এ ধরনের ঘটনায় এলাকার মেয়েরা খুব আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। ধর্ষণের এ ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।’
ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রীর নানি বলেন, ‘আমার স্বামী পরিত্যক্তা মেয়ের অসহায় কন্যার সঙ্গে (স্কুলছাত্রী) এমন ঘটনা ঘটল। ৩২ বছর ধরে ভাটপাড়ার বাসিন্দা হলেও এমন পরিস্থিতি কখনো দেখিনি। উপজেলা নির্বাচনে আনারস প্রতীকে শাহীনুজ্জামানকে ভোট দেওয়ায় আমাদের ওপর অবর্ণনীয় নির্যাতন চলছে।’
এদিকে এ ধর্ষণকাণ্ডের নিন্দায় সরব হয়েছেন পুরো জেলার মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে গতকাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেন পুলিশ সুপার আকবর আলী মুনশি। তিনি বলেন, ‘পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। অতি দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।’
এ ধর্ষণকাণ্ডের ঘটনায় হওয়া মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত শুক্রবার রাতে ভাটপাড়া এলাকায় বাড়ি থেকে বারেক, সাজিদ ও ইমন নামে তিন বখাটে ওই স্কুলছাত্রীকে মুখ চেপে ধরে পাশের নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে যায়। পরে সাব্বির ও তুহিন নামে আরও দুজন যোগ দিয়ে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় স্কুলছাত্রীর নানি বাদী হয়ে বারেককে প্রধান আসামি করে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে সুজানগর থানায় মামলা করলেও এখনো কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
